বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

৪.০৭

বিচারক স্কোরঃ ২.৮৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

ভালোবাসি তাই

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

অষ্পষ্ট গোধুলী

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

ভালোবাসার একটি রাত

এ কেমন প্রেম? আগস্ট ২০১৬

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.০৭ পাগলা রাজু ও সুপার ট্রান্সফার ডোর

জসিম উদ্দিন জয়
comment ৫  favorite ০  import_contacts ১৯৫
২১২০ সাল ১লা জানুয়ারি মীনা, রাজু, মিকি ও মাউস সার্কিট সিটির ২১০ নম্বার টাওয়ারের উপরে সেন্টাল কমপিউটারের কন্টোল রুমে বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে বিশাল আকৃতির এক মনিটরের দিকে। “বিগ ব্যাঙ্ক” এর সুত্র ধরে সৌরশক্তির ও আলোর গতিকে পর্যবেক্ষন করছে। মহাবিশ্বের সকল আলোই ইলেক্ট্রো-ম্যাগ্নেটিক তরঙ্গ এবং তাদের বেগ ৩.৮x ১০^৮ মিটার/সেকেন্ড। চেষ্টা করছে আলোর গতির পথ ধরে একটি সুপার ট্রান্সফার ডোর আবিস্কার করার জন্য। পাশের রেবিলবিং চেয়ারে বসে রাজু ৫০ ডি চশমা পড়ে প্রজেকটর স্কিনে হাই রেজুলেশন নিড ফর স্পিড ১০ ডি গেইমটি খেলছে আর দাঁত বের করে খিল খিল করে হাসছে। রাজু অনেক বড় হয়েছে। বড় হলে কি হবে তার স্বভাব আচরণ সেই ছোট বেলার রাজুর মতো। রাজু কিছুতেই মানতে রাজি নন যে এখন যুগের অনেক পরিবর্তন এসেছে। রোবট এন্ড টার্চ বিজ্ঞানের যুগ। এখানে সবকিছুই রোবট আর কমপিউটার এর মাধ্যমে বুদ্ধি খাটিয়ে স্কিনে টার্চ করলেই সবকিছু হয়। রাজু বুদ্ধি খাটাতে রাজি নন। সে মাঠের পর মাঠ দৌড়াবে, খেলবে, প্রজাপতি, ফড়িং আর পুকুরে মাছ ধরবে, পাখির কলকাকলি তার খুব পছন্দের। তাই গেইম খেলার ফাঁকে ফাকেঁ বড় মনিটরের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে ছুটে যাচ্ছে মীনার কাছে। রাজু, বড় মনিটর এর ইংরেজী অক্ষরগুলো কোন কিছুই বুঝে না। তাই জোর অনুরোধ জানিয়ে বলছে ‘মিকি ও মাউস তোমরা তোমাদের ঐ মনিটরটায় একটা ৫ জি কাটুন ছাড় আমি দোখবো। মীনা রাজুর দিকে ভ্রুকুচলে তাকালো। মীনা, মিকি মাউস তারা খুবই ব্যস্ত “নতুন একটি কোর ডুয়েল টেট্টাবাইট সম্পন্ন মোশিন এর সাহায্যে আলোর ইলেক্ট্রো-ম্যাগ্নেটিক তরঙ্গ গতিপথে সুপার ট্রান্সফার ডোর” এর তথ্য বের করার জন্য। সার্কিট এর ডিজাইন তৈরী করছে। কিভাবে ইত্থারের মাধ্যমে আলোর রশ্মিকে কাজে লাগিয়ে এবং সুর্য্যরে রশ্মির সোলার দ্বারা বিস্তার করে খুব দ্রুত মুহুর্তের মধ্যে পৃথিবীর এ-প্রন্তে থেকে অপরপ্রান্তে যাওয়া যায়। এখন পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ১৫০০ কোটি তাই পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহে মাঝে যোগসুত্র স্থাপন করতে ‘সুপার ট্রান্সফার ডোর’ অনেক কাজ করবে। সকলেই ব্যস্ত এই মহান যন্ত্রটি তৈরী করতে। তাই পাত্তা পাচ্ছে না রাজু। রাজুর কাকুতি মিনতি কেউ শুনছে না। রাজুর অনেক রাগ হলো। মীনা যে কীবোর্ডটি দিয়ে সুপার সিপিউতে ডাটা ইমপুট করছে সেই কীবোর্ডটির উপর পরপর দুই থাপ্পর দিয়ে রাজু বললো “ মীনা আমার ভালো লাগছে না চলো মাছ ধরবো ।”
মীনা সহজে রাগ করে না সে রাজুর চাহিদা পুরন করতে চেষ্টা করে। মীনা বললো “ রাজু তোমাকে মাছ ধরতে নদীতে যেতে হবে না, ঐ যে দেখছো রিভার রুম সেখানে বড় হাউজ আছে সুইচ টিপলে রং বেরং এর মাছ দেখতে পাবে সেখানে যেই মাছটি তোমার পছন্দ হবে অনুরুপ সেই মাছের ছবির উপর টার্চ করলেই ঐ মাছটি তুমি ধরতে পারবে। রাজু তবুও কথা শুনছে না। এর মধ্যে মিকি ও মাউস তড়িঘরি এসে মীনাকে বলছে “ মীনা, মনিটরে উল্টাপাল্টা কমান্ড আসছে, আমাদের সুপার ট্রান্সফার ডোর তৈরী করার জন্য আইসি মেমোরি কমান্ড ইন্সটল করার সফটওয়্যার ইনস্টল করতে যেয়ে হিতে বিপরীত হচ্ছে- সম্ভবত তোমার কী-বোর্ডে এলোমেলো কী-সুইচ টিপা হয়েছে। এটা রাজুর জন্য হয়েছে। মীনা একটুও ভয় না পেয়ে রাজুর দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো - “বান্দর” তোর জন্য এই সমস্যা হয়েছে’ যা এখান থেকে আর কখনও এখানে আসবি না। তোর জন্য আমাদের বড় ধরনের ভুলের খেসারত দিতে হবে। মিকি ও মাউস মীনাকে নিয়ে যথাক্রমে মনিটরের সামনে বসলো। মীনা সমস্ত কমান্ড রিস্টোর করার চেষ্টাকরছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এক্জেকিউটিব ডাটাগুলো ব্লক হয়ে গেছে। টেম্পেলেট ডাটাগুলো প্রেগামিং সফটওয়্যারগুলোর মাঝে ফিকশন চলছে। সমস্যা সমাধান করার জন্য আলোরগতিবোগ এর পাওয়ার কমিয়ে ইত্থারের কমান্ড আফ কওে দেওয়া হয়েছে। চেষ্টা চলছে ইউনিট গুলোকে সচল করার জন্য। মিকি মাউস সেই নিয়ম অনুসারে রোবটচালিত যন্ত্রগুলোর দ্বারাও নিয়ম অনুসরন করছে। মেমোর রিকোভারী রোবটিকে কমান্ড দেওয়া হয়েছে। “ সুপার ট্রান্সফার ডোরের মডেলটি টেট্টাবাইট, ও ১০ জি স্পিডের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং করছে, মডেলটি দেখতে কেমন হবে। ইলেকট্রনিক্স ডায়াগ্রাম প্রতি পয়েন্টে সযতেœ কার্যক্ষমতা মেপে দেখছে ঠিক আছে কি না।

এদিক দিয়ে রাজু আবারো এসে উপস্থিত, কাধেঁ বড় একটা সুন্দর মাছ। রাজু ধপ করে মিকির উপর ফেলে দিয়ে বলে ” তোমাদের এই সুপার যন্ত্রটা দিয়ে আমার মায়ের কাছে মাছটা পৌছে দাও তো ” । মিকি ও মাউস মাছটার দিতে তাকিয়ে বলে ‘সর্বনাম তুমি মা মাছটি নিয়ে এসেছো, দেখছো না মাছটার পেটে ডিম।” এই ”মা” ,মাছটা থেকে কিছুদিন পর হাজার হাজার মাছের বাচ্চা জন্ম হবে। শীগগীরই মা মাছটি রেখে আসো। রাজু চুপচাপ ভদ্র মানুষের মতো সেকানে রেখে আসে। বেচারা গালে হাত দিয়ে ভাবছে ‘ আর বিড়বিড় করে সবাইকে বকাবকি করছে, এ কোন যন্ত্রনায় পড়লাম। যাই মীনাকে বলি আমার খুব খেলতে ইচ্ছে করছে। ” আমি ফুটবল খেলবো”। কানামাছি খেলবো। যে ভাবা সেই কাজ, রাজু আনন্দ নিয়ে লাফাতে লাফাতে মীনার কাছে গেলো। মীনা খুবই ব্যস্ত। এই সময় রাজুর এই উদ্ভট আবেদন তাকে খুব বিরক্ত করে ফেলছে।

” সে বিরক্ত হয়ে বললো উহ্ কাজের সময় ডিস্টাব, মীনা কম্পিউটারে ডাটা ইম্পুট স্থির রেখে রাজুর দিকে ঘুরে তাকালো, মীনা রাজুকে মনিটর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলে ঐ যে মনিটরে যে ডিজাইন দেখছে সেটা “ সুপার ট্রান্সফার ডোরের মডেল”। আমি এখন সেই ছোট বেলার মীনা নেই, আমি এখন আনেক বড় সফটওয়্যার তৈরীর বিজ্ঞানী হয়েছি বুঝেছিস। আমার নাম সাইন্টিস মীনা। মিকি পারমানবিক বিজ্ঞানী ও মাউস বড় ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানী সাথে যারা রয়েছে তারা রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানী । পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে তারা। এটা সাকসেসফুল হলে সারা পৃথিবীর মানুষ অনেক উপকৃত হবে, যুগযুগ ধরে মানুষ স্মরন করবে। রাজু আমার এখন খেলার সময় নেই তোমার খেলতে ইচ্ছে করলে “ গেইম রুম নং ০৫২১ যাও। সেখানে বিনোদন মুলক কমপিউটার হতে শুরু করে অত্যাধুনিক খেলার যন্ত্রপাতি আছে তা নিয়ে খেলতে পারো। সেখানে আরো মজার মজার মানবীয় ছোট ছোট রোবট আছে তুমি ইচ্ছে করলে তাদের সাথে খেলতে পারো। এই নাও রুম খোলার পাসওয়ার্ড নাম্বার -৪৪৫১২। যাও আমাকে বার বার ডিস্টাব করতে এসো না। বলেই মীনা তার কাজে মনোনিবেশ করলো। রাজু মীনার কথায় কিছুই না বুঝে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো । রাজু, মনে মনে ভাবছে মীনা, মিকি ও মাউস আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন কত সুন্দর খেলাদুলা নাচ গান আনন্দ উল্লাস করে দিন কাটিয়েছে। বড় হয়ে আজ খুব খারাপ রাগছে। ওরা বড় বড় বিজ্ঞানী হয়ে গেছে। তথ্য প্রযুক্তি পদার্থ, রসায়ন সবকিছুতেই ওরা পারদর্শি। ওই বড় মনিটরটাই ওদের বন্ধু । আমি বাংলাদেশে মা-বাবার কাছে ফিরে যাবে। ওরা ঘোড়ার ডিম তৈরী করছে ভেঞ্চি কেটে বলে “সুপার ট্রান্সফার ডোর”। ওরা আমাকে পাত্তাই দিতে চায় না, এই ভাবে অবহেলা । আমিও কোন একদিন ওদের থেকে মহা বিজ্ঞানী হব। দেখিয়ে দিবো আমি কত্ত বড় বিজ্ঞানী । বক বক করতে রাজু গেইম রুমে চলে যায়।

মীনা ও রাজু, বাংলাদেশের ছেলে মেয়ে। মিকি ও মাউস জিনিয়াস সিটির নামকরা ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানী গবেষক। মিকি মাউস প্রায়ই বাংলাদেশের আইআইটিভি তথ্য প্রযুক্তি অনুষ্ঠান দেখে। টিভিতে হঠাৎ দেখতে পেলে মীনাকে। মীনা সফটওয়্যার তৈরী প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরুস্কার পেয়েছেন। আলোর রুশ্মি ও অনু পরমানুর সিস্টেম ম্যনেজম্যান্ট এর উপর বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার তৈরীর করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনেক টাকা এবং উপহার দিয়েছেন স্বর্ণের মেডেল দিয়েছেন। মিকি ও মাউসের মনে পড়ে গেল ছোট্টবেলার কথা তার এক সাথে রং বেরং প্রজাপতি, ফড়িং নানা রকমের পাখীদের সাথে খেলা করেছে। চির সবুজ তাদের গ্রাম । গ্রামের আকাঁবাকাঁ মেঠো পথের পাশে বাহারী রংয়ের ফুলগাঝ, লতা-পাতা দিয়ে ঘেরা ছিলো তাদের বাড়ীটা। বাড়ীর পাশের ছোট খালটার মাছ ধরবার কথা মনে পড়লে আনন্দে লাফিয়ে উঠে মিকি ও মাউস। পড়াশুনা করবার জন্য সেই যে জিনিয়াস শহরে আসে তারপর থেকে নিজ দেশে ফিরে যায় নাই। আর যাবে কী করে। জন্মের পরপরই তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করেন। মিকি মাউসের মা অনেক কষ্টে জীবন যাপন করত তাদের নিয়ে । মিকি মাউসের বংয়স যখন ৮/১০ তখন তাদের মা হঠাৎ করে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পরেন। হাসপাতাল ছিলো মিকি মাউস তাদের বাসা থেকে অনেক দূরে। রাস্তা ঘাট যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত ছিলো না। ফলে মিকি ও মাউস তাদের মাকে হাসপাতাল পর্যন্ত আনতে অনেক সময় লেগে যায়। গরুর গাড়ী করে হাসপাতালে পৌছানো মাত্রই মিকি মাউসের ‘মা’ মৃত্যুবরন করেন। ডাক্তার জানালো যদি তাদের মাকে সঠিক সময়ে পৌছানো যেতো তাহলে তাদের মা কে বাচাঁনো সম্ভব হতো। তারপর মিকি ও মাউস অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করে। ভালো রেজাল্ট করে এই জিনিয়াস শহরে চলে আসে। নিজ দেশে আর ফিরে যায় নাই। মীনা আর রাজুকে জিনিয়াস শহরে আনতে পেরে মিকি ও মাউস মহাখুশি। দিনরাত পরিশ্রম করেছে মিকি মাউস ও মীনা । সেভাবেই হোক “সুপার ট্রান্সফার ডোর” তৈরী করতে হবে। আলোর রশ্মি মত দ্রুত গতিতে এটি কাজ করবে। পৃথিবীর এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে যে কোন বন্তুু খুব দ্রুত গতিতে চলে যাবে। মীনা সুপার কম্পিউটারের সামনে বসে সফটওয়্যার এর ডাটাগুলো ইমপুট রিসেট করছে। ্িবভিন্ন ডায়েগ্রামের মডেল মনিটরে ডিসপ্লে হচ্ছে। আলোর রশ্মির গতিবেগ এর সাথে সুপার ট্রান্সফার ডোর এর গতিবেগ কিভাবে এ্যাডজাষ্ট হবে তা মিল করে সুপার ট্রান্সফার ডোর এর ঘুর্ননগতি কিভাবে এ্যাডজাষ্ট করা যায় তা ঠিক করা হচ্ছে। মিকি ও মাউস সেই অনুপাতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বসানোর চেষ্টা করছে। বড় একটা নদীর ওপর তাদের বিল্ডিংটা ভাসমান। সুইচ টিপলে খাবার নিয়ে আসে রুমেরী ম্যাডাম। দেখতে রুমেরী ম্যাডাম খুবই স্মার্ট আধুনিক। দেশী জামদানী শাড়ী পরিহত রুমেরী ম্যাডাম অনেকটা হিন্দি ছবির নায়িকাদের মতো দেখা যায়। সাজসজ্জাতে পরিপূর্ন রুমেরী ম্যাডাম। কম্পিউটারের ডিজাইন দেখে সাজ সজ্জা করেন রুমেনীর । মীনা রাজু, মিকি মাউসের জন্য খাবার নিয়ে এসেছে রুমেরী ম্যাডাম। মীনা এক হাতে কাজ করছে আর হাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে। মিকি মাউস কিন্তু খাচ্ছে না। রাজুর সাথে খাবে তারা। মিকি ও মাউস রুমেরী ম্যাডামকে আদেশ দিলো,
রাজু রাগ করে ঘুমিয়ে আছে ০২৪ নং বেড রুমে তাকে নিয়ে আসো একসাথে খাবো। রুমেরী ম্যাডাম রাজুকে ডাকতে যেয়ে রাজুর জোড়ালো ধমক খেয়ে ফিরে এসেছে। মাউস নিজে যেয়ে রাজুকে বুঝিয়ে খাবার খেতে নিয়ে আসে। কিন্তু গোসল ছাড়া কিছুই খাবে না । সে জেদ ধরলো পুকুরে গোসল করতে যাবে । মিকি মাউস বলল এখানে পুকুর নেই। ঐ যে রুমটা দেকতে পাচ্ছে সেই রুমের ভেতর যাবার সাথে সাথে তোমার সমস্ত শরীল ওয়াস হয়ে যাবে। রাজু কোন কিছু না বুঝে ঢুকে পড়লো। বাহ্ কি সুন্দর অনুভুতি হালকা শীতল করে কে যেন গোসল করিয়ে দিলো। রাজুর শরীর ধবধবে পরিস্কার। কিন্তু একটা ভুল হয়ে গেলো। শরীরের কাপড় এই গোসলখানাটা খুলে নিয়েছে। এখন রাজু কি করবে। এই গোসলখানার রোবটটা খুব পাজি। রাজুর পরনের কাপড় খুলে নিয়েছে। এখন রাজু কি করবে। রাজুর হঠাৎ চোখ পড়লো পাশে সুইচের দিকে রংবেরং এর পোশাক আশাক আকাঁ সুইচের উপর । রাজু লাল টক টকে পোশাকটায় টিপ দিতেই লাল টকটকে একটি পোশাক বেরিয়ে এলো। রাজু তড়িঘরি করে পোষাকটা পরে বের হলো। সবাই একসাথে বসে খাবার খাচ্ছে। কিন্তু রাজুর চোখ রুমেরী ম্যাডামের দিকে । রুমেরী ম্যাডাম কত সুন্দর । কিšু‘ সে আমাদের সাথে খেতে বসছে না কেন ? রাজু বলে উঠলো ... এই রুমেরী ম্যাডাম তুমি খাচ্ছে না কেন ? উত্তরে রুমেরী ম্যাডাম হেসে উঠে বলে আমার খেতে হয় না আমি এমনিতেই বাচিঁ । আমার খাবার হলো ইলেকট্রন শক্তি অনু-পরমানু । রাজু হাসি দিয়ে বলে ইলেকট্রন খাবার বুঝি খুব ভিটামিন। তুমি তাই এতো সুন্দর , রাজু মনে করেছে ঐ ইলেকট্রন বুঝি খাবারের নাম । যাতে অনেক ভিটামিন আছে। রুমেরী ম্যাডাম রাজুর কথা শুনে একটু মিষ্টি করে হাসলো।

এর মধ্যে মনিটরে টুত টুত করে সাইর্যাুন বেজে ওঠে লাল দাগ যুক্ত কমান্ড। মিকি মাউস হাত থেকে খাবার রেখে দ্রুত মীনার কাছে চলে গেলো। সুপার কমপিউটারের প্রসেসরের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। উত্তর দাতা রোবটটি ঠিক মতো কাজ করছে না। সুপার কমপিউটারের প্রসেসর প্রশ্নগুলো উত্ত্রদাতা রোবটটি প্রসেসএর এডজাষ্টমেন্ট ফেইলর হচ্ছে। এই মুহুর্তে আবেগময়ী রোবট মেইন কন্টোল রোবট রুমেরী ম্যাডামই পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে। তার অল্প কিছুক্ষন পরেই একটি হ্যাকার ভাইরাস এসে অট্যাক করলে আর মনিটরে ভেসে এল ভয়ংকর একটি জিবানুর ছবি। রাজু সেই ভয়ংকর জীবনুর ছবি দেখে ভয়ে বাচাঁও বাচাঁও বলে চিৎকার করতেই রুমেরী ম্যাডাম হা হা করে জোড়ে হেসে উঠে। রাজু মনিটরের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রুমেরী ম্যাডাম এর দিকে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকালো। রুমেরী ম্যাডাম বলে ” এটা আসল জীব না। এটা একটা হ্যাকারের পাঠানো ভাইরাস। এই হ্যাকারদের জন্যই আমাদের অনেক কষ্ট হয়। রাজু অবশ্য রুমেরী ম্যাডামের কথা কিছুই না বুঝে মুখের উপর বলে দিলো “ তুমি এখানকার কাজের বুয়া এত কিছু জানো কিভাবে। রুমেরী ম্যাডাম কাজের বুয়া শব্দটার সাথে একেবারে পরিচিত নয়। সে জানে যে যার দায়িত্ব কর্তব্য অনুযায়ী কাজ করে। এখানে সবাই সমান, এখানে কর্মের মাধ্যমে সবাই বিচার করা হয় বলেই রুমেরী ম্যাডাম একটু মিষ্টি হেসেই স্থান ত্যাগ করলো। কথাগুলো রাজুর বেশ ভালোই লেগেছে সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছে রুমেরী ম্যাডমের মিষ্টি হাসিটুকু। রাজু আবারও মনিটরের দিকে মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলো সেই ভয়ংকর জীবটা থেকে অনেকগুলো নতুন নতুন জীবানু তৈরী হচ্ছে। কি ভয়ংকর দাত কাটমট করছে ভয়ে শিউরে উঠলো রাজু। রুমেরী ম্যাডাম কি বলে গেলো সব ভুলে গেছে। দৈড়ে এখান থেকে পালাতে হবে নয়ত ঐ রাক্ষুসে জীবগুলো ছাড়া পেলে আমাাকে কামড়ি কামড়ি খাবে। চোখ বুঝে রাজু আবারও চিৎকার জুড়ে দিলো।
মীনা রাজুর গায়ে হাত রেখে বলে ভয় কেন । চোখ খুলে দেখ ।
রাজু চোখ খুললো দেখে মনিটরে ভয়ংকর জীবটা আর নেই । হি হি করে হেসে উঠে রাজু ।
মীনা রাজুর দিকে তাকিয়ে বলে “ আমাদের সুপার ট্রান্সফার ডোর ” এর মডেল ও তথ্যগুলো তৈরী করতে পেরেছি। কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে যাবে বাংলাদেশে।

রাজু মীনার দিকে তাকিয়ে খীল খীল করে হেসে বলে “ মীনা ” তোমার সুপার টান্সফার ডোর ” আবিস্কার হলে পৃথিবীর মানুষ আলস হয়ে যাবে। মীনা রাজুকে বুঝিয়ে বলে “ এই ট্রান্সফার ডোর এর মাধ্যমে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা যেতে পারবে না শুধুমাত্র ইথারের মাধ্যমে জড় বন্তুু ট্রান্সফার করা সম্ভব। আলোর গতির মতো দ্রুত এই সুপার ট্রান্সফার ডোর কাজ করবে। মানুষের জরুরী ঔষধপত্র, অক্সিজেন, জরুরী খাবার ইত্যাদি সুইচ টিপদেওয়ার সাথে সাথে পৃথিবীর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাবে। বিভিন্ন স্থানের কোড নম্বার অনুযায়ী মোবাইল নেটওয়ার্ক মাধ্যমে কোড দেওয়া থাকবে সেই কোড নম্বার অনুযায়ী কাজ করবে এই সুপার ট্রান্সপার ডোর । আর সবচেয়ে খুবই ডেনজারাস ব্যপার এয়ার পলিশন মানে বায়ু দুষন। এই বায়ুদুষনের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে এই ডোর।

রাজু গালে হাত দিয়ে বলে কিভাবে ?
মীনা : কেন বায়ু ধুষন এর অন্যতম উপাদান সীসা। এই সুপার ট্রান্সফার ডোর দ্রুত কাজ করবে বায়ু থেকে ততো সীসা মুক্ত হবে। রাজু তড়িঘড়ি করে মীনার কথায় কিছু না বুঝে বলে উঠে “ খুব মজা হবে পাখিদের মতো বাতাসে উড়ে বেড়াতে পারবো। আচ্ছা মীনা তোমাদের এই সুপার ট্রান্সফার ডোর তৈরী করতে কতদিন লাগবে।
মীনা হেসে বলে “মহান আল্লাহতালা জানেন, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন” তবে এর প্রাথমিক কাজটা আমরা সম্পন্ন করে যেতে পারবো।
রাজুর আর দেরী সহ্য হচ্ছে না সে মীনা জোর অনুরোধ করে বললো চলে বাড়ী ফিরে যাই। আমার ছাগল দুটি অনেক বড় হয়েছে। গ্রামের বিচ্ছুর দলগুলো আামর বড়ই গাছের পাতাসহ খেয়ে ফেলবে। চলো শীঘ্রই বাড়ী ফিরে যাই। আচ্ছা মীনা তোমার সুপার ট্রান্সফার ডোর ” যন্ত্রটাকে আমাদের গ্রামে নিয়ে যাওয়া যাবে ? তাহলে ভারী মজা হবে। গ্রামের অসুস্থ মানুষের জীবন বাচাঁনোর জন্য দামী দামী ঔষধপত্র, অক্সিজেন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি গ্রামে নিয়ে আসবো । তাছাড়া গরু, ছাগল, হাঁস মুরগীর ও অত্যাধুনীক চিকিৎসা হবে। তোমার সুপর ট্রান্সফার ডোর এর পাসওয়ার্ড সুইচ টিপে সব গ্রামে নিয়ে আসবো। ছোট বেলায় চিকিৎসার অভাবে ‘‘বাবা’’ কো হারাতে হয়েছে অনেক দূর পথ হাসপাতালে নিতে নিতে মা মারা গিয়েছে। রাজুর কথা শুনে মীনার চোখে কোনো খানিকটা পানি জমে উঠে। তবুও মনের কষ্ট ভেতরে রেখে বলে উঠে ‘‘সেই জন্যই এত কষ্ট করছি । আর যাতে কারে ‘বাবা’ এভাবেই মারা না যায়। মীনা রাজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে, তুই সঠিক কথা বলেছিস, কিন্তু এই সুপার ট্রান্সফার ডোর দ্বারা কাজকর্ম আরম্ভ করতে কয়েক যুগ লাগবে। আমরা শুধু এটার প্রাথমিক পর্যায়ের সুত্র, ডিজাইন ও পরিকল্পার ৫০% বাস্তাবয়ন করতে পারবো।

রাজু মীনার কথায় কিছুই বুঝতে পারলো না। রাজু না বুঝলে পন্ডিতের মতো মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে বললো “ মীনা তোমার সব কথা বুঝেছি, এখন চলো বাহিরে ঘুরতে যাবো।

মীনা রাজু এই বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারটা এড়াতে পারলো না। পরের দিন খুব ভোরই রাজু মীনা রুমেরী ম্যাডাম , মিকি ও মাউস বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো। সানফেনিয়া অরন্যে বেড়াতে যাবো যেখানে গহীন অরণ্য সুন্দর সবুজে ঘেরা অরন্যটির চারপাশ ঘেরে দুটি ঝড়না বয়ে গেছে। ভারী মজা হবে। মিকি ও মাউস বললো সেখানে মাঝে মাঝে নাকি অদ্ভুদ অদ্ভুদ কান্ড দেখা যায়। সম্ভবত ঐ পরিবেশে নতুন কোন ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। ঐ অঞ্চলেরর নতুন ভাইরাসের উপর আমার দীর্ঘদিনের একটি গবেষনা আছে। ঐ উপকারী ভাইরাসটি আবিস্কার হলো পৃথিবীর মানুষ অনেক উপকৃত হবে। অন্তত মানুষ যে কোন ক্যান্সার নামক মরনব্যাধি থেকে বাচাঁনো যাবে। মিকি আদেশ করলো মাউসকে শক্তিশালী অনুবিক্ষণ যন্ত্রটা নেওয়ার জন্য। মাউস তাদের আটোসিস্টেম মেমোরী যানবাহন এর চালক মানবীয় রোবট “কুইক ল্যন্সার’ আদেশ করলো তার ব্যবহৃত উড়ন্ত যানবাহন ডিফোরকে সালফেনিয়ার আরন্যের কোর্ড নম্বর বসানো জন্য। মীনা মিকি ও মাউস তারা সবাই যানবাহনে বসার সাথে সাথে। আটোসিস্টেমে যানবাহনটি উড়ে চললো সালফেনিয়ে অরন্যে দিকে। মাত্র ১০ মিনিট পাঁচ সেকেন্ডে ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রকরে পৌছালো সালফেনিয়া আরন্যে। অদ্ভুদ দেখতে সুন্দর সালফেনিয়া আরন্যটা। চারদিকে গাছ পালা, পাহাড়, ঝড়না, আর ঘন বন। রাজু এত সুন্দর অরন্য দেখে আনন্দে নচাতে লাগলো। রুমেরী ম্যাডামকে সঙ্গে নিয়ে ঝড়নার দিকে ছটে গেলো । রুমেরী ম্যাডাম একজন সুন্দরী স্মাট তরুনী। রাজুও বড় হয়েছে দেখতে একজন স্মাট তরুণ এর মেতো। এই রুপসী অরন্য সুন্দরী রুমেরী ম্যাডাম এর সংস্পর্শ খুব আনন্দ অনুভব করছে রাজুু। রাজু ও রুমেরী ম্যাডাম পাহাড়ী ঝড়নার কাছে এলামেলো ছুটোছুটি করছে । তাদের মধ্যে খুব ভাব। এদিকে মিকি , মীনা ও মাউস অচেনা একটি বৃক্ষের পাতা পর্যবেক্ষণ করছে নতুন কোনো ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায় কিনা। এরই মধ্যে রুমেরী ম্যাডাম মীনার কাছে দ্রুত গতীতে এগিয়ে আসলো। চিৎকার করে বলতে লাগলো ‘রাজুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

মীনা মিকি ও মাউস তরিঘরি করে রুমেরী ম্যাডামের সাথে রাজুকে খুঁজতে বের হলো। রুমেরী ম্যাডাম পাহাড়ী ঝড়নার দিকে হাত দেখিয়ে বলে, ঐ যে ঐ স্থানটাই রাজু একটা হরিনের পেছন পেছন দৌড়ে ছুটে যায় তারপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। মীনা ঝড়নার ঐ পাড়ে ভালো করে তাকিয়ে দেখে। ঘন অরন্য। গাছপালায় পরিপুর্ন অথচ কোন পশু-পাখী জীব জানোয়ার কিছুই নেই সেখানে। ব্যপারটা খুবই আশ্চার্যজনক মনে হলো মীনর কাছে। মীনা মিকি মাউস রুমেরী ম্যাডাম দ্রুত এগিয়ে গেলো। এদিক সেদিক খোঁজ করার পর মীনা হঠাৎ থমকে দাড়ালো । মিকি ও মাউস মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলো কয়েকটি ফুলগাছের দিকে। কী সুন্দর ফুলগুলোর রং পরিবর্তন হচ্ছে। আশেপাশে কোন পশুপাখি ও পর্যন্ত নেই। ব্যাপারটা আদ্ভুত ভূতরে কান্ড। সেখানে গাছের পাতাগুলোকে বিচিত্র রকম রং পরিবর্তন হচ্ছে।

মিকি মীনাকে বেলে পাথর পূর্ন একটি জায়গা দেখিয়ে বলে, মীনা দেখ ঐ যে বেলে পাথরের স্তুুপ থেকে সাদা ধোয়ার মতো বেরুচ্ছে। মনে হয় রৌদ্রের তাপে পাথরের নীচে কয়লার স্তর রয়েছে সেখানে কাউকে না যাবার জন্য অনুরোধ জানায়। মাউস আবার রসায়ন সম্পার্কে ভলো ধারনা। সে রুমেরী ম্যাডামকে আইসি মিটার ও ল্যাবটপ উপস্থিত করতে বললো। আইসি মিটারটি একটি বড় লাঠির সাথে বেঁধে সেই বেলে পাথরের স্তরের সেখানে নিয়ে রাখলো। হাতে ল্যাবটপ কম্পিউটারের এর আটো আইসি সার্চ বাটনে কিèক করতেই মনিটরে ভেসে এলো সেখানে সালফার ডায়োআক্সাইড ( ঝঙ২ ) রয়েছে । যা ফুলের রং পরিবর্তন করে ফেলে যা প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকারক। মিকি অনুমান করছে এখানে আশে পাশে লতা পাতায় নতুন ভাইরাস পাওয়া যেতে পারে। সে নতুন ভাইরাস নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে মীনা ও রুমেরী ম্যাডাম ভাবছে রাজুর কথা। রুমেরী একজন মানবীয় রোবট তার আবেগ ও অনুভুতি দুটিই আছে। রাজুর পাগলাটে অ™ু¢ত আচরন রাজুর জন্য তার মনটা ছটফট করছে। রাজু হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলো । রুমেরী ম্যাডম একজন রোবট ব্যাপারটা সবাই জানে কিন্তু রাজু জানতো না। রুমেরী ম্যাডাকে রাজু খুব পছন্দ করতো। ঐ পাহাড়ী ঝড়নার কাছে যেতেই রাজু গান গাইতে শুরু করলো। হঠা গান বন্ধ করে দিয়ে রুমেরী ম্যাডামের হাত ধরে বলে ফেললো ” বিয়ের কথা। রুমেরী ম্যাডামকে সে বিয়ে করবে। প্রেম বিয়ে, ভালোবাসা ইত্যাদি শব্দের সাথে রুমেরী ম্যাডাম পরিচিত নয়। তাই সে হেসে ব্যাপার উড়িয়ে দেয়। এইসব ব্যপারগুলো রুমেরী ম্যাডাম মীনা সহ সবাইকে বলে দিলো। সবাই আগ্রহ নিয়ে কথাগুলো শুনছিলো। তখন রুমেরী ম্যাডামের চোখের কোণে পানি জমছিলো আর ঐ ঝলসানো কালো পাথরের স্তরের স্থানটিকে দেখিয়ে বলতে লাগলো, রাজু ও আমি সেখানে যাওয়ার মাত্রই রাজু অজ্ঞান হয়ে পরে বিষাক্ত গ্যাসের কারনে। তড়িঘরি করে রাজুকে সুস্থ করে তুলি। তারপর রাজু সুস্থ হয়ে আমার হাত ধরে হঠ্য্ৎা করে বলে উঠে রুমেরী ম্যাডাম আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই। আপনাকে বউ বানিয়ে মায়ের কাছে নিয়ে যাবো। আপনি খুব সুন্দর একটা বউ হবেন। আপনি আমার খোলার সাথী হবেন। মা আপনাকে দেখলে খুব খুশি হবে। আমি বড় হয়েছি, আমার একটা বউ দরকার আছে, মা আমাকে বলেছে। আপনি খুব ভালো, আপনিই আমার বউ হবেন ? রাজুর এই কথার উত্তর আমি দিতে পরি নাই। রাজুকেও আমি খুব পছন্দ করি। ওর স্বাধীন ভাবটা আমার খুব ভালো লাগে কিন্তু আমার কিছুই করার নেই। আমি তো আর আল্লাহ্ তৈরী মানুষ নই। আমি একটা যান্ত্রিক মানুষ। আমার আবেক অনুভুতি থাকলে কি হবে, বউ, বিয়ে , সুখ দুঃখ এই সব শব্দের সাথে আমি পরিচিত নই। তাই রাজুর কোন কথায় আমি পাত্তা দেই নাই। রাজু জানতো না আমি একজন যান্ত্রিক মেয়ে পুতুল। আমি তাকে সরাসরি বারন করে দিয়েছে। সেই কারণে রাজু খুব দুঃখ পেয়েছে। আমি তাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম। কোন কিছু বোঝার আগেই সে চিৎকার দিয়ে সেখান থেকে দৌড়ে কোথায় চলে যায়। আমি অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পেলাম না। অকপটে মনের দুঃখ নিয়ে কথাগুলো রুমেরী ম্যাডাম বলছে। তার চেহারা চারিপাশে কালো কালো ভাজ পরতে থাকে। সে কাদঁতে পারছে না। কিন্তু তার আবেগ এর প্রসেসরটি ক্রমশই দুর্বল হতে থাকে । এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই মেমোরী শক্তি হ্রাস পেয়ে রুমেরী ম্যাডাম মাটিতে পরে যায়। এমন সময় মিকির হাতের সিপিউর স্ক্রীনে ভেসে আসে বিপদজনক কমান্ড । রুমেরী ম্যাডাম এর আবেগজনিত চালিকার প্রসেসর ও কার্যক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই রুমেরী ম্যাডাম তার মানবীয়তা হারাবে অথার্ৎ সে আর মানুষের মতো আচরন করতে পারবে না। মীনা, মিকি ও মাউস তারা খুবই ব্যাস্ত ও চিন্তিত। তাদের এখন সুপারট্রান্সফার ডোর এর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা এই সুপার ট্রান্সফার ডোর এর সমস্ত তথ্য ও প্রশ্নের একমাত্র উত্তর জানা আছে হান্ডেড কোর টেট্টাবাইট ক্ষমতা সম্পান্ন মানবীয় রোবট রুমেরী ম্যাডাম এর কাছে।.............
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • জয় শর্মা
    জয় শর্মা সুন্দর।
    প্রত্যুত্তর . ১ নভেম্বর, ২০১৬
  • তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল কাহীনি বিন্যাসে আরো গুরুত্ব দেওয়া গেলে ভাল হত
    সুন্দর ভাবনার গল্প
    প্রত্যুত্তর . ৩ নভেম্বর, ২০১৬
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর কাহিনী যত টিট্টাবাইট লম্বা হয়েছে ভিতরের জিষ্ট মাত্র কয়েক কিলোবাইট মনে হয়েছে। কিন্তু রাজুটা যে হারিয়ে গেল তাকে কিভাবে পাওয়া যাবে সেই চিন্তায় পড়ে গেলাম আর কি হা হা হা..। অনেক শুভ কামনা আর আমার গল্প ও কবিতা পাতায় আমন্ত্রন।
    প্রত্যুত্তর . ১০ নভেম্বর, ২০১৬