বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ জানুয়ারী ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

এক জীবনের ব্যর্থ আশা

শ্রমিক মে ২০১৬

মমতাময়ী মা

শ্রমিক মে ২০১৬

নীল কষ্ট, অতঃপর বিসর্জন

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

গল্প - ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ২০১৬)

মোট ভোট ২৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১২ বিরহ ভালোবাসা

ইমরানুল হক বেলাল
comment ১৬  favorite ৩  import_contacts ৭৭৯
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।যদিও এটা একটি বিদেশীয়ান সংস্কৃতি; তবে আমাদের দেশেও অধিগাংশ জীবনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হেলেনা ও আজকের দিনটি বিশেষ দিন মনে করলো।
ভোরের সূর্য তখনও প্রকৃতির বুকে আলো করে ফুটে ওঠেনি।অথচ কি অদ্ভুত কান্ড! হেলেনা সকাল হতে-না-হতেই ঘুম ত্যাগ করে বিছানা ছেড়ে ওঠে পড়ল। আজ যে
ভালোবাসার দিন,•••।
মিলনের সাথে দেখা করার জন্য অস্তির হয়ে উঠল তাঁর মন।
হাতে-হাত,চোখে-চোখ মিলিয়ে উপভোগ করবে ভালোবাসা।গোলাপ যেখানে থাকবে সে তো সুগন্ধ ছড়াবেই। তাই হেলেনা ও চায় তাঁর মনের মানুষটিকে ফুলে ফুলে ভালোবাসার ফুলের গন্ধরেনু উজাড় করে ভরিয়ে দিতে। হেলেনা হলো একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের কলেজ পড়ুয়া পূর্ণ যৌবনা সুন্দরী মেয়ে।
শুধু সুন্দরীই নন; রূপে-বর্ণে উজ্জ্বল পরী।কিশোরী কাল থেকেই তাঁর একটু আধটুকু লেখালেখির প্রতি জোঁক।বিভিন্ন জাতীয় পেপারে তাঁর বেশ কিছু গল্প-কবিতা ছাপা হয়েছে।
একদিন একটি মাসিক কাগজের সাহিত্য পাতায় হেলেনার ব্যক্তিগত হৃদয়ঘটিত ছোট -ছোট দুঃখ-কষ্ট, হতাশা,নিজের কিছু আত্ম কথা ঘিরে একটি গল্প প্রকাশ হয়। মোবাইল ফোন নাম্বার সহ গল্পটা মিলনের দৃষ্টিগোচর হয়। গল্পটি চমৎকার হয়েছে বলে, মাসিকপত্রের কাগজ হতে নাম্বারটি নিজের মোবাইলে তুলে, তার পর হেলেনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানায়। সেই দিন থেকেই হেলেনার সাথে মিলনের পরিচয়, তার পর বন্ধুত্ব,অতঃপর ভালোবাসা।
মিলন হলো চট্টগ্রাম শহরের একজন ব্যবসায়ী শিল্পপতির ছেলে।হেলেনা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও শরীরের গঠন,চেহারা দোহারা মোটামুটি স্মার্ট।
জ্ঞানের দিক থেকেও তার প্রতিবন্ধীকতা নেই।কথা-বার্তা,চালচলন,সাহিত্যচর্চায় ছিল তার অসাধারণ গুণ।সেই গুনে মুগ্ধ হয়ে মিলনই প্রথম হেলেনাকেভালোবাসার কথা শোনায়। জন্ম হওয়ার পর থেকে মা-বাবা ছাড়া মিলনের কাছেই প্রথমভালোবাসার কথা শুনল হেলেনা।
সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত অবধি মেসেজিং করেছিল তাঁরা।শুধু সেদিন নয়,পর দিন,তার পর দিন, তার পথ দিন এবং তার ও পরে অনেক দিন।এভাবে দিনের পর দিন তাদের ভালোবাসা গভীরতর হয়।স্বপ্নের মত দিন গুলি কেটে যাচ্ছিল।
হেলেনা যে কারণে মিলনকে ভালোবেসেছিল, ও যখন মিলনের পাশে বসে গল্প করত মিলন সেই সব গল্প হৃদয় দিয়ে অনুভব করত; হেলেনা তখন লক্ষ করে দেখত, তার দুঃখের কথা শুনে মিলনের চোখ দু'টো জলে ভরে উঠত।আর মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠতো, কি অদ্ভুত! কিংবা, কি দুঃখের। আর বলো না! গল্পের শেষে ধন্যবাদ দিতেও ভুলেনি মিলন।সেই জন্য হেলেনা ইঙ্গিত পেল যে মিলন সত্যিই মন থেকে ওকে ভালবাসে।
হেলেনার মনে গভীর ভালোবাসার বিশ্বাস জন্ম হলো।
সে ভাবলো নানা বিপদ-আপদকে অতিক্রম করে এসেছি বলে তাই বুঝি আমাকে ভালবাসে?
হেলেনা মিলনের কাছে জানতে চেয়েছিল, 'কেন তুমি আমাকে মিথ্যে আশা দিচ্ছ?
আমাকে দেখলে তোমার ভালোবাসতে ইচ্ছে করবে না।কারণ,আমি দেখতে সুন্দর নই, তুমি শহরের একজন নামীদামি শিল্পপতি ঘরের ছেলে,তোমার কাছে এতটা ভালোবাসা পাবার যোগ্যতা কি আমার আছে?
তুমি কি আমাকে স্বপ্নের পুরুষ হিসেবে তোমার বুকে স্হান দিতে পারবে?আমি কি চিরজীবন তোমার স্বপ্নের রাণী হয়ে থাকতে পারবো? পৃথিবীতেসবচেয়ে সুখের জিনিস যদি ভালোবাসা মিথ্যে হয়ে যায়? তার উত্তরে মিলন বললো,শোন হেলেনা,
আমি শুধু সুন্দরীর পূজা নই।আমার কাছে তোমার মনটাই বড়।
ভালোবাসার মাঝে ধনী-গরীবের পার্থক্য নেই।আর তুমি যদি অসুন্দর হয়েই থাকো তাই বলে কি ভালোবাসা শেষ হয়ে যাবে?
তার পর মিলন হেলেনার কাছে দু'কপি রঙিন ছবি চাইলো। মিলন ছবি পাঠানোর পর হেলেনা ছবি দিল। দু'জন দু'জনার ছবি দেখে পছন্দ হলো।যাকে বলে প্রথম দর্শনেই প্রেম।
এর মধ্যে দু'জনের ইনটারনেট থেকে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে ও কথা হয়।
অনেকবার দু'জন দু'জনার বাসাতে ও আসা যাওয়া হলো।
এভাবে কেটে যায় একটি বছর। অতল সমুদ্রে হারিয়ে যায় দু'জন।
আজ ভালোবাসা বিশেষ একটি দিন বলে অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়
দু'জন দু'জনার সাথে দেখা করবে সারাদিন যেখানে-সেখানে এক সঙ্গে বসে গল্প করবে।
নির্ধারিত স্থান হলো চট্টগ্রাম পতেঙা সমুদ্র সৈকত।মিলন রাতেই ফোন করে জানিয়েছিল,
সকাল নয়টার মধ্যে পতেঙার মেইন গেইটে দাড়িয়ে অপেক্ষা করবে হাতে থাকবে নানান রঙের ফুল।
সকাল ভোরে উঠে গোসল,হালকা খানা-পিনা আগেই সেরে নিয়েছিল হেলেনা। ডেসিং রুমে ঢুকে সাজগোজ করে মন অস্থির করতে পারলনা কি রঙের শাড়ি পড়বে।অবশেষে হলুদ-নীল মিক্সড করা শাড়ি পড়ে নিল। তার সাথে মেচিং করে হলুদ চুড়ি,নীল টিপ পরে নিল।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আরেকবার দেখে নিল চমকপ্রদ সাজ সেজেছে।
মনে মনে ভাবলো,হেলেনা নয় সে যেন স্বর্গের উজ্জ্বল পরী।
ওপরের দেয়ালে চোখ রাখতেই চোখ বড়ো হয়ে উঠল। ঘরির কাঁটা তখন নয়টা বেজে ছুঁই ছুই। এক লাফে মায়ের ঘরে গিয়ে বলল,'মা, আজ আমি বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হবো।ফিরতে দেরি হলে কোনো চিন্তা করো না।ঘর থেকে বের হয়ে একটি সি এন জি ডাইবার ডেকে নিল। সারাটা পথ চলতে হলো একা একা। গাড়ি থেকে নামা মাএই একটা শপ থেকে এক গুচ্ছ রজনী গন্ধা আর লাল গোলাপ ফুল মিলনের উপহারের জন্য কিনে নিল। ঠিক নয়টা তিরিশ মিনিটে পৌছে যায়।
সেখানে গিয়ে তার স্বপ্নের পুরুষটিকে তন্ন তন্ন করে খোঁজার
পর ও সন্ধ্যান মেলেনি।দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বিরক্ত লাগলো। মিলনের ফোন নাম্বারটা ও অফ।•••
মিলনের ওপর ভিশন অভিমান হলো তার।যখন শেষ পর্যন্ত তীব্র অপমান নিয়ে ফিরে আসার জন্য পা বাড়ালো।পিছনের দিকে তাকাতেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো!
সেই তো মিলন! সাথে একটি মেয়ে! কে সেই মেয়েটি? মিলন যখন মেয়েটির পাশে বসে হাতে-হাত রেখে কথা বলতে লাগলো,
ধকল করে একটা ধাক্কা লাগলো বুকে। এই প্রথম জয়ের আনন্দটা বিস্বাদ লাগলো। এসব দেখে হেলেনা বুঝতে পারল,
তবে এটাই মিলনের আসল রূপ! তার শরীর ঘামতে শুরু করলো।তীব্র কষ্টে-অপমানে হেলেনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। সব দেখে শুনেও অসহায় নির্বাক হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে চেতনা বোধ নেই। যেন সে এক প্রাণহীন পুতুল!
যখন ঘোর কাটে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। এই মূহুর্তে সমস্ত পৃথিবীটা ওর কাছে বিষাক্ত বোতল মনে হয়।
আজ হেলেনা এসেছিল হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা মিলনকে উপহার দেবে বলে। ভালোবাসার প্রতিদানে ও জীবনের সেরা উপহারটি পেল আজ।কিন্তু হেলেনার জীবনের যে সমস্ত সুখ-দুঃখ আশা-মরীচিকা হয়ে গেল,সর্বনাশ হলো সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলনা।ঈশ্বরের পৃথিবীতে মানব জাতির শেষ্ঠ অবদান সেই হলো ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকে চির সত্য জেনে হেলেনা মিলনকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো, স্বর্গের আলোর মতো ভালোবেসে এসেছিল।
কেন কিছু মানুষ অপূর্ণতার ঝুলি নিয়ে কাঁধে করে পৃথিবীতে আসে? কেন কেউ ভালবাসা পেয়ে ও পায় ঠেলে দেয় আর কেউবা সেই ভালবাসা পেতে তীর্থের মতন অপেক্ষা করে?
কেন এত অদ্ভুত মানবজীবন(???)
ভালোবাসা মানেই যদি বেদনা,কষ্ট পাওয়া! তাহলে কেনই বা মানুষের জীবনে প্রেম আসে?
কে-ন-ই-বা প্রয়োজন হয় এই অনর্থক "অর্থহীন ভালোবাসার!"
হেলেনা আর একটি মূহূর্তে ও এখানে দাঁড়ালো না।
হন হন করে সেখান থেকে চলে আসলো।তার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। এতটা পথ কী করে ডিঙিয়ে বাসায় এল বুঝতে পারল না।বাসায় ফিরে এসে অবুঝ শিশুর মতো বিছানার বালিশে মুখ ডুবিয়ে ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো হেলেনা।
নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে সর্বদাই কাঁদতে লাগলো।
মা,বাবা তার কান্নার কারণ জানতে চাইলে বললো আমার কিছু হয়নি,শরীর খারাপ••••।
এভাবে একমাস কেটে যাওয়ার পরও হেলেনা স্বাভাবিক হতে পারলো না। দিনের পর দিন শরীর ভেঙে পড়েছে।
বা,মা মেয়ের এমন পরিনতি দেখে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করালো।ডাক্তার বললেন,
ওর রোগ নেই।মেয়েটি বড় ধরনের একটা মানসিক আঘাত পেয়ে এমন করছে। যার জন্য এমন করছে তার ভালোবাসার প্রিয় মানুষটিকে এখানে ডেকে আনুন।
সেই ছেলেটি যদি আগের মতো স্বাভাবিক আচরণ করে তাহলে আপনার মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব।
বাবা,মা যখন হেলেনাকে জিজ্ঞাসা করল হেলেনা মিলনের সাথে যা যা হয়েছে সব খুলে বললো।
হেলেনার কাছ থেকে নাম ঠিকানা নিয়ে মিলনদের বাসায় রওনা হলো।
আর এ দিকে মিলন হেলেনাকে ছেড়ে যে মেয়েটির সঙ্গে ওর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল,
সেই মেয়েটির সম্পর্কে খবর নিয়ে জানতে পারল এটা একটি নষ্ট চরিত্রের মেয়ে।
মিথ্যে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের অভিনয় করে ছেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নেওয়াই মেয়েটির নিত্য দিনের কাছ।
মিলন ওর ভুল বুঝতে পারলো। হেলেনাই ছিল তার ভালোবাসার যোগ্য নারী।
সিদ্ধান্ত নিল হেলেনার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবে। হেলেনার ফোন নাম্বারটা অফ।•••।
ইতি মধ্যে হেলেনার বা,মা মিলনের কাছে গিয়ে সব খুলে বলল।
- বাবা আমার মেয়েকে তুমি বাঁচাও,••••••••।
যখন জানতে পারল হেলেনা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে!
মিলন তখন এক চিৎকার দিয়ে উঠেছে -
না•••••••••না•••••এ হতে পারে না।আমার হেলেনা আমাকে ছেড়েঁ যেতে পারে না•••••এই মূহূর্তে মিলন ও গভীর কান্নায়ভেঙে পড়ে।
তার পর হেলেনার বাবা,মা কে নিজের গাড়িতে করে সোজা হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে হেলেনার কাছে গিয়ে বসল মিলন।
হেলেনার পাশে তখন মিলন ছাড়া অন্য কেউ নেই।
মিলন হেলেনা কাছে বসে মাথায় হাত রেখে বলতে লাগলো-
হেলেনা, কথা বলো••••দেখো তোমার ভালোবাসার প্রিয় মানুষটি আবার তোমার কাছে ফিরে এসেছে।
আমাকে ক্ষমা করে দাও।•••••••।
তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি!•••••••••! আমার দিকে তাকাও•••••। বলতে ভিশন কান্নায়ভেঙে পড়ে মিলন।
হেলেনা ততক্ষণে চেতনা থাকলেও মুখ দিয়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।
কিন্তু মিলনের কান্নার আর্তনাদ শুনছিল তখন।
খানিকক্ষণ পর মিলনের মুখের দিকে তাকালো।
মূহূর্তে দু'জনার চার চোখে মিলন হলো।
দুজনেরই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।ততক্ষণে হেলেনা মিলনের হাত শক্ত করে ধরে ফেলে। কান্না জড়িত গলায় বলল,
কেন আমাকে তুমি এত কষ্ট দিয়েছিলে•••?
মিলন ও ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, আমি তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত হেলেনা•••,আজ বুঝতে শিখেছি কারো মন ভেঙে দিয়ে কেউ সুখী হতে পারে না। তোমার ভালোবাসা যে কতটা মহৎ তাও অনুভব করেছি। আমার জন্য যদি তোমার অন্তরে প্রেম না থাকতো তাহলে আজ মৃত্যুপথযাত্রী হতে পারতে না।
আমি তোমার ভালোবাসার গভীরতা না বুঝে তোমায় এত কষ্ট দিয়েছি•••আমায় ক্ষমা করে দাও।•••।
হেলেনা এখন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারছে। হাসপাতালের বিছানা থেকে উঠে বসল।মিলনের বুকে মাথা রেখে বলল,পাগলামি করো না মিলন। ক্ষমা চেয়ে আমায় আর ছোট করোনা।মরণ যদি হয় তোমার বুকে মাথা রেখে যেন মরতে পারি বিধাতার কাছে শুধু এটাই চাওয়া।
দু'জন দু'জনকে গভীর ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রইল।
হয়তো এ বন্ধন চিরকালের।
হেলেনা পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে উঠলে ওর মা বাবা মিলনের বিষয়টা পরিবারকে জানায়। এক প্রসঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়।
ছেলের সুখের কথা ভেবে উনারা একমত আছে।
পরস্পরের বাবা,মা সবাই খুশি। অবশেষে
এক নির্ধারিত তারিখে দু'জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।•••।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন