বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

২.৩৭

বিচারক স্কোরঃ ১.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

সুখে থেকো,ভালো থেকো

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আমার স্বপ্ন গুলো

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

জাগো বিশ্বের মানবতা

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

গল্প - এ কেমন প্রেম? (আগস্ট ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৩৭ প্ৰতিদানহীন ভালোবাসা

ইমরানুল হক বেলাল
comment ৬  favorite ০  import_contacts ২৪৮
কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের (প্রথম-বর্ষ)-এৱ ছাত্ৰী ছিল নিতু।
সারাক্ষণ হৈ-চৈ হাসি-আনন্দ উল্লাস করে সময় কাটাতে পছন্দ করত সে। কলেজের সব ছেলে-মেয়েদেৱ সঙ্গে ভালো মিশত ও।
বন্ধু-বান্ধবীদেৱ সাথে ক্যাম্পাসে বসে গল্প করা,ঘুরে বেড়ানো এ গুলো ছিলো তার নিত্যদিনেৱ অভ্যাস।
ও সব করে ও পুরনো স্মৃতিগুলো ভুলে থাকতে চায়। ক্ষণিকেৱ জন্যে হলেও আনন্দে ভাসতে চায়।
তাৱ অতীত জীবনের স্মৃতি, বুকেৱ ভেতর জমে থাকা বেদনাগুলো,কষ্টগুলো, ভুলে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু পাৱে না।স্মৃতিৱ সেই সুখময় দিনগুলো বাৱবাৱ তাকে নাড়া দিয়ে যায়। যাকে বিশ্বাস করেছিল একদিন কাছে পাবে বলে যাকে ঘিরে স্বপ্ন ছিলো, আশা ছিলো, কিন্তু স্বার্থ মানুষকে তার চিরচেনা পথ থেকে সরিয়ে দেয়, হয়ে যায় পৱ শুধু পৱ।
ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়? ভালোবাসা মানেই শুধু নীল নীল কষ্ট!
গোলাপ তুলতে গিয়ে হাতে যেমন কাটাঁ লাগে, সাগরে যেমন ঢেউ থাকে, ঠিক তেমনি ভালোবাসা হলো মেঘের লুকোচুরি খেলাৱ মত। ৱাতেৱ বেলা সে নির্জনে বসে চিন্তা করে আমাৱ জীবনটা কেন এমন হল? আমাৱ মনেৱ মানুষটি আমার সঙ্গে কেন প্রতারণা করেছে? কি অপরাধ করেছিলাম আমি?
ভালোবাসা মানেই যদি বেদনা-কষ্ট পাওয়া তাহলে ভালোবাসা কে-ন-ই-বা মানুষের জীবনে আসে? কেনই বা প্রয়োজন হয় এই অনর্থক অর্থহীন ভালোবাসাৱ!
এসব ভাবতে ভাবতে ৱাত পাৱ হয়ে ভোৱেৱ আলো ফোটে। এমনি কৱে প্রতিদিন মুগ্ধ নয়নে সে ভোৱেৱ সূর্য ফোটাৱ দৃশ্য অনুভব কৱে। দিনের এত সুন্দর শুরুটা, এত মনোরম দৃশ্য গায়ে মেখে সে নিজেকে সুখি কৱে নিতে চায়।
সে ভাবে, 'ভালোবাসা আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর।' কিন্তু পৃথিবীটা তাৱ জন্য এত নিরব হবে কেন?
এভাবে একটি বছর পাৱ হয়ে গেল।
কলেজ থেকে ফিরে আসাৱ পথে তাৱই ক্লাসেৱ মিঠু নামেৱ একটি ছেলে তাৱ দিকে বন্ধুত্বেৱ হাত বাড়ায়। নিতু প্রথমে ৱাজি ছিলো না। পরে অনেক ৱিকুস কৱাৱ পৱ ৱাজি হয়ে গেল।
শুরু হয় এক সাথে ঘুরে বেড়ানো আড্ডা দেওয়া।প্রতি সাসাসাপ্তাহিক মিষ্টি চিঠিৱ পালা! মোবাইল...। নিতুর তখন মনে হতো শুধু, ভালোবাসা কি মিষ্টি,চিঠির ছত্রগুলো কী মিষ্টি! জীবনটা কি মিষ্টি! কত মধুর আমাদের এই জীবন!
মিঠুকে কাছে পেয়ে সে ধীরে ধীরে অতীতের সব দুঃখ কষ্ট ভুলতে থাকে।
আবার সে ভালোবাসা নতুন করে সাজালো। এদিকে মিঠু ও নিতুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। নিতুকে সে বোঝায় যে, 'তুমিই হবে একমাত্র আমার সুখ-দুঃখের সাথী। সূর্য যেমন দিনে চিরকালের বন্ধু, তেমনি তোমাকে আমার চিরকালের বন্ধু করে নেবো। তখন নিতুর মনে পড়ল আলাউদ্দিনের কথা। একদিন আলাউদ্দিন ও তাকে এই পবিত্র ভালোবাসার বাণী শুনিয়েছিল।তখন নিতু তার প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আজ কোথায় আলাউদ্দিন? তাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেল।
এসব স্মৃতি মনে পড়লেই নিতুর মাথায় বিনা মেঘে বজ্ৰপাত হয়।
সেদিন আর মিঠুর সাথে কোনো কথা বলল না। সারারাত শুয়ে ভাবতে লাগলো,
ভালোবাসা বলতে পৃথিবীতে আজ কিছুই নেই। ভালোবাসার পৃথিবী এখন বদলে গেছে।কোথায় আজ এসে দাঁড়িয়েছে এক অদেখা স্বপ্নের পৃথিবী! হয়তো কোন একদিন মিঠুও আলাউদ্দিনের মত তাকে ছেড়ে চলে যাবে।তবু ও জীবন থেকে থাকে না প্রেমে। বাস্তব বড় কঠিন, তবুও মানুষকে মেনে নিতে হয়।
জীবন এত জটিল, তবু ও মানুষকে বেচেঁ থাকতে হয়।
ভালবাসা বড় কষ্টের, তবু মানুষকে ভালোবাসতে হয়।
কারণ, ভালোবাসা মানুষকে কখনো বাঁচিয়ে রাখে, কখনো ঠেলে দেয় মৃত্যু-মুখে!
ভালোবাসা কখনো মানুষকে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখায়, কখনো জীবনের স্বপ্ন, ভবিষ্যত বিবর্ণ করে দেয়। তবুও মানুষ ভালো না বেসে পারে না।
কারণ, ভালোবাসার জন্য মানুষের জীবন খুবই ছোট্ট।কেউ কেউ তাই প্রতিজ্ঞা করে যে, জীবনে আর ভালোবাসার নাম নেবো না মুখে।
কিন্তু ভালোবাসা যখন দরজায় এসে কড়া নাড়ে তখন ফিরিয়ে দেওয়া সাধ্য কার?
নিতু ভাবল, মানুষ বলতে সবাই এক নয়।
হয়ত বা মিঠু পারবে তার অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।
হয়ত সে নিতুকে নিয়ে মনের মত রচনা করবে সুন্দর এ পৃথিবী।
এ সব ভেবে ভেবে এক অচেনা নির্ঘুম রাত পার হয়ে যায়। পরের দিন আবার মিঠুর সাথে দেখা। এভাবেই মিঠুর হাত ধরেই কয়েকটি বছর কেটে গিয়েছিল।কিন্তু হায়!
সুখ কারো জীবনে চিরস্থায়ী হয় না।
আবার শুরু হল নিতুর জীবনের দ্বিতীয় স্বপ্নভঙ্গ।
নিতু একদিন মিঠুকে বিয়ের কথা জানাল, মিঠু কয়েক বছর সময় চাইল।প্রতিদিন তাদের দেখা হতো, ফোনে যোগাযোগ হতো। দু'জনার ভালোবাসায় এতটাই গভীর ছিল যে, মনে হলো এ বন্ধন চিরকালের। একদিন কেউ কাউকে না দেখলে মনের ভেতর চাপা কষ্ট অনুভব করত। এভাবে ধীরে ধীরে যখন সময় পার হয়ে গেল।নিতু মিঠুকে তার বিয়ের কথা আবার জানালে, প্রতি উওরে মিঠু বলল, তার বাবা-মা পরিবারে কেউ এ বিয়েতে রাজি হবে না।
বাবা-মায়ের অমত ছাড়া সে বিয়ে করবে না। নিতু যেন তাকে মন থেকে একদম মুছে ফেলে। এক কথা শুনে হঠাৎ নিতুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
সে পাথরের মূর্তির মত নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
মুহূর্তের জন্য কোন কথা বলতে পারল না। মনে হলো,
'মানুষের জীবনটাই যেন খেল না,অর্থহীন!'
জীবনের প্রতিটিক্ষেত্রে কেন আমি বারবার ব্যর্থ হই?
বিধাতা কি আমার কপালে এক ফোঁটা ও সুখ রাখেনি?
আমার জীবনের কি কোন মূল্য নেই। গরীব বলেই কি ভালোবাসার কোন মূল্য পেলাম না।
পৃথিবীটা আমাকে আর চায় না! যে পৃথিবীতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা হারিয়ে গেছে সেখানে বেঁচে আর কী লাভ? আমি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিতে চাই!
কারণ, এই পৃথিবীটা হলো মানুষকে জ্বালা দেওয়ার পৃথিবী! কষ্ট দেওয়ার পৃথিবী!
সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল। সমস্ত আকাশ আর পৃথিবী যেন নিতুর দুঃখে কাতর। তারা যেন নিতুর জন্য নিরবে কান্না করে যাচ্ছে।
যেন নিতু না থাকলে পৃথিবীতে ভোরের আলো ফুটবে না।
তারা যেন এমনি করে আজীবন কেঁদে যাবে। হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তীব্র ব্যথা অনুভব করে নিতু।
মুহূর্তের জন্য আবার সুন্দর হয়ে উঠল পৃথিবীটা। ঘর-বাড়ি,
মেঘ,চন্দ্র,সূর্য,তারা,জল,ফুল, লতা, বৃক্ষ সব সুন্দর হয়ে উঠেছে; তারা যেন গুন-গুন করে বলছে, মরিও না।দেখ আমরা কত সুখে আছি। তুমিও সহ্য করে থাক, একদিন সুখি হবে। না হয় আমাদের কাছে এসো, আমরা তোমাকে সুখি করে তুলব। কিন্তু নিতু তবু ও মরে যাবে, কিছুতেই সে আর বাঁচতে চায় না। হঠাৎ ও আলাউদ্দিনের কথা মনে পড়তেই সে বিড় বিড় করে বলতে লাগল-
'এমন দিনে তারে মনে পড়ে যায়
এমন ঘোর বরিষায়।'
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন