বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ জানুয়ারী ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

২.২৭

বিচারক স্কোরঃ ০.৪৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

কবিতার, কবিতা

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

ঝুমুর

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

শীতের বারোভাজা

শীত / ঠাণ্ডা ডিসেম্বর ২০১৫

গল্প - প্রায়শ্চিত্ত (জুন ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২৭ অসম,তম

রুহুল আমীন
comment ৩  favorite ০  import_contacts ১১৭
গেট খোলার শব্দ পেয়ে বারান্দায় এসে দাড়াই,কালো রঙের গাড়ীর দরজা খোলে জাহানারা আপু নেমে আসছে৤ চকলেট আর এষের মিশ্রন রঙের উপর পাথরের কারুকাজ করা শাড়ীপরা । আধো আলো-তে শাড়ীর কারুকাজ ঝিলমিল করছে;সেই সাথে মুখের মেকাপে অপরুপ সৌন্দর্য লাগছে৤ কমলার রঙে রাঙ্গানো ঠোঁট দুটি ঠকি কমলার মতোই লাগছে এর আগে জানু আপুকে এত সৌন্দর্য কখন দেখিনি। জাহানারা নামটি আমার দাদীমা রেখেছিলেন; ছোট বেলায় জাহানারা উচ্চারণ করতে কষ্ট হতো বার বার জানা বলতাম সেই জানা থেকে জানু বলা শুরু। দাদীমা প্রায় আমার উপর রেগে যেয়ে বলতেন আমার দেয়া নামটি তুই পাল্টে ফেললি। আপুকে এখন কাছের সবাই জানু বলে ডাকে। শাড়ীর আচঁলের র্স্পস পেয়ে সিড়িঁর ধাপগুলো খুশিতে আরও বেশী উজ্জল মনে হচ্ছে। জানু আপুর কোমল ফর্সা পা দুটো এলো মেলো পড়ছে, ঠিক জায়গায় পড়ছে না দেখে সিড়িঁর রেলিংয়ে পুতুলের মত কোমল সুন্দর আঙুল দিয়ে শরীরের ব্যলেন্স ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। মাথাটা একটু নিচের দিকে ঝুকে হাটছে। এ অবস্থা দেখে দরজা খুলে নিচে নেমে পাশে দাড়াঁই। জানু আপু আমার মুখের দিকে ঘোর লাগা চোখে একবার তাকিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে আমার কাধঁ জড়িয়ে দরে; ভয়ে আমার অন্তর আত্তাঁ কেপেঁ উঠে। এ রকম পরিস্থিতে কখনও পরিনি, কখনও পড়তে হবে ভাবিনি। জানু আপু তার শরীর পুরোটাই আমার উপর ছেড়ে দিয়েছে । গায়েঁর সুবাসিত ঘ্রাণ আমার নাসিকায় প্রবেশ করা মাত্রই সষ্টইন্দ্রয় জেগে ওঠে। জানু আপুর মুখ যখন আমার মুখ বরাবর হেলে পড়ে ম্যাকাপের ঘ্রাণের সাথে আর একটি ঘ্রাণ আমাকে সম্মিহীত করে ফেলে। আমার চোয়ালের সাথে জানু আপুর চোয়াল সেটেঁ আছে। জানু আপু ঘোংগানো শব্দ করে শরীর আলগা করে শাড়ীর আঁচল ঠিক করতে গিয়ে মাথার চুলের ঝাপ্টা আমার মুখের উপর পরে, আমার সারা অঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে যায়। জানু আপু বয়সে আমার থেকে দুই, তিন বৎসরের বড় হবে; আমি এক প্রকার টেনে নিয়ে উপরে চলছি...
জানু আপুর শোবার ঘরে আমি এই প্রথম এলাম পরিপাটি সাজানো স্বপনের ঘর । বিছানায় শুইয়ে দিয়ে চলে আসার আগে ফিরে দেখি ডানা কাটা ছোট্ট একটি পরি ঘুমোচ্ছে।এ বাড়ির সকলে ঘুমাচ্ছে, আমার চোখে ঘুম নেই; ছাদে এসে আকাশপানে তাকিয়ে আছি। মেঘেরা দল বেধেঁ কোন অজানা দেশে পারি দিচ্ছে চাদঁকে সাক্ষি রেখে। যে দিকে চোখ যায় অন্ধকার ভেদকরে নিয়ন আলো মুচকি হাসে আমার চোখে চোখ রেখে। আমার অস্তিত্ব টের পেয়ে ঐ-ত রাস্তার মোড়ের কুকুরগুলো খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। যেন আমি অর্থব আমার শরিরে রক্ত মাংস বলে কিছুনেই, চাওয়া নেই- পাওয়া নেই। ছোট্ট বেলায় কাকুর হাত দরে যখন জানু আমাদের বাড়িতে আসত সারাদিন আমার সাথে বিভিন্ন খেলায় মেতে থাকত। খাবারের সময় হলে আমাকে ছেড়ে কিছু খেতে চাইত না আর বাড়ি না ফিরতেও কান্নাকাটি শুরু করে দিত । কাকু ঠাট্রা করে বাবাকে প্রায় বলত তোর ছেলে যদি বড় হতো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে রেখে যেতাম। এরই মাঝে অনেক গুলো বছর কেটে গেলো ...গলা ভারী ভারী মনে হচ্ছে; চোখের কোণ ভিজে পানি গড়িয়ে পড়ছে। পিছনে পায়ের আওয়াজ মনে হলো জানু আপু আমার কাধেঁ হাত বাড়িয়ে র্স্পস করতে চাচ্ছে; ঘুরে দেখি কেউ নেই। গা ছম ছম করে উঠল এখন রাত কত হবে বোঝার কোন উপায় নেই। মাথার উপর দিয়ে রাত জাগা কোন পাখি উড়ে গেলো।............
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন