বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ অক্টোবর ২০১৯
গল্প/কবিতা: ১১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

ফারাক

শ্রমিক মে ২০১৬

বিনি সুতোর মালা

শ্রমিক মে ২০১৬

একটি অপয়া মানুষ ও বিবিধ বোধোদয়

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

শীত / ঠাণ্ডা (ডিসেম্বর ২০১৫)

মোট ভোট ১০ শৈত্য দিনের কাব্য

রেজওয়ানা আলী তনিমা
comment ১০  favorite ১  import_contacts ৩৬৪
ধূসর দিনের আভা-
প্রভাতী কুয়াশায় জেগে ওঠে,
শৈত্য দিনের ভেজা শিশির ঝরে পড়ে
সদ্যস্নাতা ঘাসের প্রফুল্ল হাসিতে,
আবছা মসলিন পর্দা তুলে আলগোছে আলস্য ভাঙে -
ধূলায়িত পথঘাট, শুকিয়ে যাওয়া রূপালী নদীর স্রোত-
লজ্জাবতীর কুঁকড়ানো পাতা, পার্কের বিরান প্রাঙ্গন।
আজ আরেকটু দেরীতে সাজবে প্রাতভ্রমণের আয়োজন,
আরও একটু সময় , একটু খানি বেশী আয়েশি শয্যার আলিঙ্গন।



কাঁথা গুলো মুড়ে তোলা , নিপাট লেপকম্বলের ভাঁজ খুলে ন্যাপথালিন-
ঝরে পড়ে , বরফের স্বেদবিন্দুর মতোন,
ভাপা পিঠের অজুহাতে হিমহিম শীতনিঃশ্বাসে মিলন উষ্ণ বাষ্পতে-
জুবুথুবু পথের দাঁড়কাকটাও চাতক চোখ পাতে।
স্কুলগামী শিশুদের কষ্টক্লান্ত পদক্ষেপে আরেকটু বেশী কঞ্জুসিপনা,
এমন শীতল দিনে আরেকটু ওমের আশ্রয় কি দেয়া যেত না?



গাছের সারিতে খেজুরের মধু, প্রকৃতির দান অমিত,
রাস্তার ধারে চায়ের আসরে -
একটু গলা খুসখুস, খোনা স্বাদ, একটা লালনীল মাফলার,
একটু গরম আদা চা , একটু গরম কিছু পেয়ালার ভার।
উদোল পথশিশু ভবঘুরেদের আগুণে কাঠকুটোয় ফোটে শব্দ
দেহউত্তাপ রেখে শীতকে কোনমতে করে দিতে হবে জব্দ।



ফ্যাশন তাকে তুলে রেখে ফিনফিনে শাড়ি কামিজ পাতলুনের সাথে-
আগাগোড়া মিহিন পশমিনা শাল, সোয়েটার, জ্যাকেটে ঢাকা সব ,
শীতার্ত হাত পরম পিপাসায় শুষে নেয় পকেটের জমানো মুঠিভরা তাপ,
এই নিথর রুক্ষ হিমেল দিন , সন্তর্পণ তার সন্তাপ।
প্রচন্ড প্রখর ভাস্কর ভাস্বর মহিমা হারিয়ে নির্বাপিত
হিম প্রভাবী দিনের মিলেছে রাতের হিমাকর,
টিমটিমে সায়াহ্নের মলিন জোৎস্না হয়ে জ্বলে সতত,
ঊষর ঘোলাটে চাদর ভেদে চুঁইয়ে পড়ে তার স্নিগ্ধ স্বচ্ছ নিরাকার আদর।



বয়সী বটের জটার মতো ডাল আলথালু ছড়িয়ে তরুন তরুবীথিও বুড়ো সাজে,
বলিরেখার আঘাতে নিশ্চল পল্লবী আর মানববৃদ্ধ দূর্দশায় সমান-
নির্দয় তুহিন পবন দমনে আজ সবাইকে করেছে স্থবির ম্লান।
বিপ্রতীপ বৈপরীত্যে রিক্ত ক্ষত- পূরণের দায়,
স্বতঃপ্রবৃত্ত তুলে নিয়েছে কাঁধে-
ইনকা গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ,পপির দল মিলেমিশে তা মেটায়।



ছেঁড়া শীতবস্ত্রের দৈন্য ছিন্নমূলের সহাবস্থান নেয়,
মিলন পার্বন সানাই বারবিকিউ হরেক রংতামাশার সাথে ,
সহজিয়া নিত্য অভ্যস্ততায়-
এই প্রবহমান শীতের দিন ইতিবার্তা
খেয়ালী হেঁয়ালি সে যে নিসর্গ দুহিতা।
শুকনো পাতার ধমনীতে শিরায় শিরায় কুহক ঠান্ডা শিরশিরে ছোঁয়ায়,
স্বচ্ছন্দ গান করে ধুন ধরে প্রমোদভ্রমণ,
অবশিষ্ট কিছু শূন্যতা শুধুই নির্জল বাতাসের মৈথুনে করে গুঞ্জন।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন