বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

দুঃখ (অক্টোবর ২০১৫)

যেমন করে ছেলেটি তার স্বপ্ন হারিয়েছিল

সুমন
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৫৬৭
ছেলেটির নাম জানা নেই । লম্বা লম্বা হাত পা – পুকুর ডোবায় সাতরে বেড়ানো শরীর । কাছে গিয়ে গন্ধ শুঁকলে এখনো কাঁদা মাটির সোঁদা গন্ধ পাওয়া যায় । বিশেষত্বহীন সাধারন চেহারার এই ছেলেটির বিশেষত্ব ছিল শুধু তার চোখ দুটোতে । একজোড়া স্বাপ্নিক চোখ নিয়ে কল্পনায় - বাস্তবে সে ঘুরে বেড়ায় দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, নদীর তীর । তার স্বপ্ন সাথী আরেকজন, পরীর মত অপরূপা উচ্ছল এক গ্রাম্য কিশোরী । গাছ থেকে ফল পাড়া , ঘুড়ি উড়ানো , এক সাথে স্কুল এ যাওয়া, তার সব না জানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা .... এ সবই যেন ছেলেটির নিত্য দিনের কাজ। তার নাম দিলাম শিশির ।
বরিশাল শহর থেকে সোজা যে রাস্তাটি খুলনার দিকে চলে গেছে , সেই পথ ধরে কীর্তনখোলা পাড়ের এক ছায়া সুনিবিড় সবুজ এক ঐতিহাসিক গ্রাম সুজাবাদ । যেথায় জ্যোৎস্না রাতে সাঁরা গ্রাম জ্বল জ্বল করে, খোলা উঠানে গল্পের আসর জমে, ভরা বর্ষার পানিতে মাঠে ধান ক্ষেতে সবুজের ঢেউ খেলে, তার উপর দিয়ে ছেলেটি শিশির কে নিয়ে নৌকা বেয়ে চলে যায় অনেক দূর । সে ভাবে এই স্বাপ্নিক জীবন ছেড়ে সে কোথাও চলে যাবে না ..কোনদিন ও না।
কিন্তু একদিন মায়ের স্বপ্ন পুরন করার জন্য ছেলেটিকে ভর্তি হতে হয় শহরের নামকরা জেলা স্কুলে। যেদিন ছেলেটি তার গ্রাম ছেড়ে শহরে স্থায়ী ভাবে চলে যাবে সেদিনের রক্ত জবার মত লাল হওয়া শিশির এর মায়াময় চোখ দুটো বলে দিয়েছিল ছেলেটির প্রতি শিশির এর গভীর অনুরাগ এর কথা । চলে আসার সময় ছেলেটি ও বুঝেছিল তার কি যেন ফেলে আসার অনুভূতি । শহরের নতুন পরিবেশ , নতুন বন্ধু বান্ধব , পড়াশুনার প্রতিযোগিতা সব ছাপিয়ে ছেলেটির মনে সবসময় ধরা দেয় তার সেই গ্রাম … তার চলার সাথী শিশির । তাই যখনই স্কুল ছুটি হয় তখনই সে ফিরে আসে তার স্বপ্নের রাজ্যে… তার শিশির এর কাছে । অনেক দিনের না বলা হাজার কথার খই ফোটে তখন শিশিরের ।
এক সময় ছেলেটির পড়াশুনার চাপ বেড়ে যায়। গ্রামে আসার তেমন সুযোগ হয়না তার। একদিন সে শুনতে পায় শিশির পরিবার সহ চলে গেছে কোন এক পাহাড় ঘেরা শহরে তার বাবার কাছে । এর পর ছেলেটির চারদিকে তার নিঃসীম শূন্যতা ...বুকের গভীরে কোন এক খানে শিশিরের জন্য কিসের এক মায়া… তাকে এক পলক দেখতে পাওয়ার কি আকুলতা। … এটার নাম কি ? ভালবাসা ।
এর পর কীর্তনখোলার জল অনেক গড়ায় । ছেলেটি একদিন জানতে পারে তার শিশির গ্রামীণ সমস্ত স্বপ্ন ভুলে বাসা বেঁধেছে কোন এক শহুরে আধুনিক ছেলের বুকে । সেদিন ছেলেটির দু চোখে অঝোর ধারায় শ্রাবণ এর বন্যা । এরপর অনেক অভিমান অনেক কষ্ট নিয়ে ছেলেটির নিরন্তর একাকি পথচলা … কঠিন বাস্তবতার মাঝে ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে টিকে থাকা ।
তারপর একদিন সব হারিয়ে শিশির কে ও ফিরে আসতে হয়েছিল ছেলেটির কাছে । সে তখন জানতে চেয়েছিল এখনো ছেলেটি আগের মতো স্বপ্ন দেখে কি না । অনেক কষ্ট অভিমান নিয়ে ছেলেটি বলেছিল “ স্বপ্ন দেখার দিনগুলো হারিয়ে গেছে তার” ।
সময়ের পরিক্রমায় ছেলেটি আর শিশির এখন একই শহরের বাসিন্দা । আজ যেখানে শিশির সুখের সংসার সাঁজায়, নিঃসঙ্গ ছেলেটি তখন কম্পিউটার এ প্রোগ্রামিং হিসাব মেলায় । এখন তার সফটওয়্যারে সব হিসাব ই মিলে যায় কিন্তু এই জীবনে সে কি চেয়েছে আর কি পেয়েছে তার হিসাব আর মেলে না ।
কোন কোন মাঝ রাতে ছেলেটির হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় । আবার মন ফিরে যেতে চায় কীর্তনখোলা পাড়ের সেই গ্রামে যেখানে তার আজন্ম লালিত স্বপ্নের বসবাস । সব মান-অভিমান ছেড়ে সে চায় তার কিশোর বেলার ভালবাসা শিশির কে ফিরে পেতে …তার হাত ধরে নদীর ধারে হেটে যেতে। যখনি ছেলেটি সন্দিৎ ফিরে পায় তখনি কি জানি কি ভেবে ভালবাসার উত্তাপ জরানো লোনা জলে তার দু চোখ ভিজে আসে । কেন এমন হয় সে নিজেও জানে না… শুধু এটুকু জানে… এই ইট কাঠ পাঁথরের শহর ছেড়ে তার কোথাও যাওয়া হবে না, কোন দিন ও না ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন