বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৫৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৮৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৮ / ৩.০

কবিতা - বিসর্জন (এপ্রিল ২০১৬)

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৫৫ “প্রিয়তমা তুমি আমার স্বদেশ”

অসীম অম্বর
comment ৮  favorite ০  import_contacts ৩৮৮
আমি জানি তোমার আর আমার মাঝে বিস্তর তফাৎ;
তাইতো তোমার চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসের মূলে আঘাত
হানতে চাইনি কখনও।
তুমি থাকবে প্রিয়তমা বঁধু আমার,
তুমি থাকবে আমার হৃদয়ে-আমার অস্তিত্বে;
আমার ভালোলাগার প্রতিটি মূহুর্ত জুড়ে।
তুমি হয়তো জানোনা বসন্ত বিদায় নিতে না নিতেই
চুরি হয়ে গেছে-আমার বাগানের সমস্ত ফুলের সৌরভ
চুরি হয়ে যাওয়া বিশ্বাসের মতো।
আজকাল বিশ্বাসের মতো চুরি হচ্ছে স্বপ্ন-
আই,সি,সি’র সাথে আমি তোমাকে মেলাবো না প্রিয়তমা,
কেননা আই,সি,সি শুধু তাসকিন-সানি’র স্বপ্ন চুরি করেনি-
চুরি করেছে ষোল কোটি বাঙালির স্বপ্ন;আর তুমিতো করেছো আমার।
প্রিয়তমা বঁধু আমার তুমি হয়তো এও জানোনা-
আমি এতোদিন বেঁচে আছি একটা বিশ্বাসের লাঠিতে ভর করে,
তোমার কোমল হাতের ছোঁয়ায় কী করে যে ভেঙে যাবে
সেই বিশ্বাসের লাঠিটা-বুঝতেই পারিনি।
তুমি ভেবোনা প্রিয়তমা বঁধু আমার-
এ নিয়ে আমি তোমাকে দোষারোপ করবো না কখনও;
কেননা আমি তোমাকে ভালোবাসি।
ভালোবাসা আমার সহজাত প্রবৃত্তি,নেশা এবং পেশা।
আমি ভালোবাসি ফুল,ভালোবাসি পাখি,ভালোবাসি নদী
ভালোবাসি আকাশ এবং প্রকৃতিকে-
ভালোবাসি নির্মল জ্যোৎস্না রাতে নির্জন পথ ধরে একাকী হাঁটতে।
আমি ভালোবাসি আমার জন্মদাতা পিতা এবং জন্মদাত্রী স্নেহময়ী মাতাকে,
ভালোবাসি মানুষকে-আমি ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তমা বঁধু আমার......
আর ভালোবাসি আমার মতোই দীর্ঘকাল ধরে রোগাক্রান্ত প্রিয়তমা স্বদেশকে
জন্মাবধি যে রোগে-শোকে,অনাদরে-অবহেলায়,অনলে-বারুদে দগ্ধ;
প্রবাহমান দুর্নীতি যার শিরা-উপশিরায়।
কোন তন্ত্র-মন্ত্র কী থামাতে পেরেছে কোটি প্রাণের হাহাকার ?
রিজার্ভ ব্যাংকের টাকার মত চুরি হয়ে যাওয়া মন নিয়ে
আমি আর কতটা ভাবতে পারি বলো?
যেখানে টাকাই এখন সব-
টাকার কাছে জিম্মি আজ মানবতা,বিবেক,বিশ্বাস এবং ভালোবাসা।
ব্যবসা আর রাজনীতি শব্দ দুটি নিজেরাই গোলমাল পাকিয়ে যখন হয়ে গেলো বিজিনীতি
তখন আর এ নিয়ে ভাববার অবকাশ কোথায়?
পুঁজিবাদ,দ্রব্যমূল্য,মুদ্রাস্ফিতি এসবতো অনেক দূরের কথা.........
প্রতিহিংসা,দুর্নীতি,ক্ষমতালিপ্সার কাছে জিম্মি আজ গণতন্ত্র-
যার জন্য ঝরেছিল তিরিশ লক্ষ তাজা প্রান,দু’লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম।
আমরা কী ভুলে গেছি শহীদ সামছুজ্জোহাকে,শহীদ নূর মোহাম্মদকে
শহীদ বুদ্ধিজিবীদের সেই রক্তের বলিদান।
চেয়ে দেখো প্রিয়তমা বঁধু আমার-
আমার স্বদেশের মাটিতে আজও শুকোয়নি সেই রক্তের দাগ
তোমার দেয়া আঘাতের ক্ষত চিহ্নের মত তা আজও অমলিন......
তবুও তো আমি তোমাকেই ভালোবাসি,ভালোবাসি চিন্তা করতে
আমার স্বদেশকে আমি ভালোবাসি।
আমারা কি ভুলে গেছি আমাদের ইতিহাস?
কোথায় সে বজ্রকন্ঠ ধ্বনি?
যার এক উচ্চারণে একত্রিত শহর-নগর-বন্দর,
গ্রাম-গঞ্জের আপামর জনতা;চেয়েছিলো কাম্য বস্তু স্বাধীনতা।
প্রিয়তমা বঁধু আমার
যাদের রক্তে গড়া স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্বের উপর দাঁড়িয়ে আছি
সেই স্বদেশের বুকে আজও কেন থামেনি নৈরাজ্য,দুর্নীতি,অরাজকতা।
এ দেশের আশি ভাগ কৃষক এখন চরম হতাশায়;
বেকায়দায় পরে গেছে মধ্যবৃত্ত শ্রেণী-
আমলাতন্ত্রের উচ্চহাস্যে স্থবির জনতা আজ বাকরুদ্ধ।
আমরা আমাদের চিন্তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছি,
এই জাতিকে আজ মেধাশুন্য করার পায়তারা চলছে......
প্রিয়তমা বঁধু আমার-এই মেধাশুন্য জাতি নিয়ে
আমরা আর কতদূর এগুবো আমি ভেবে পাইনা।
যে ভাবনার গভীরতা,যে আবেগের তাড়না
একদা আমাদের রক্তে জ্বেলেছিল আগুন;
যে বিশ্বাস আমাদের ঘুমুতে দেয়নি-
যে বিশ্বাসের বদৌলতে পেয়েছিলাম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা
আজ পঁয়তাল্লিশ বছর পরেও খুঁজতে হয় সেই স্বাধীনতার মানে
এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে?
প্রিয়তমা বঁধু আমার আমি আর ভাবতে পারছিনা
মাথা আমার ভারী হয়ে আসছে;
আমি বেশ বুঝতে পারছি এসব জটিল ভাবনা আমার কাজ নয়-
আমারা বরং জেমসের গান শুনতে পারি-“হুমায়রা বিশ্বাস চুরি হয়ে গেছে”
আবার নির্মলেন্দু গুনের কবিতার দু’একটা লাইনও আওরাতে পারি-
“আমি স্বাধীনতা পেয়ে গেলে পরাধীন হতে ভালোবাসি
প্রেম এসে যাযাবর কন্ঠে চুমু খেলে মনে হয়-
বিরহের স্মৃতিচারণের মত সুখ বুঝি আর কিছু নেই ।”
আবার দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে গাইতে পারি-
কবি গুরু’র গান “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”
অথবা “ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা”।
আর তোমার কানের খুব কাছে মুখ রেখে ফিসফিসিয়ে বলতে পারি-
প্রিয়তমা বঁধু আমার-আমি তোমাকেই ভালোবাসি।।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন