বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ জুন ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

অচেনা আদর

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

পদ্মার পলিদ্বীপে পড়ন্তবেলায়

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

মরীচিকা

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

গল্প - শ্রমিক (মে ২০১৬)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৩ স্বপ্ন ভাঙা জোছনায়

নাফ্হাতুল জান্নাত
comment ৬  favorite ১  import_contacts ১৫৬
এখন যে রাত কটা তা ঠাউর করতে পারেনা জোনাকী, কাল খুব সকালে উঠতে হবে, মাতব্বর চাচার চাতালে কাজে যেতে হবে। চাতালটা গ্রাম থেকে বেশ দূরে নয়, জমির আইল দিয়ে হেঁটে গেলে একটা সাঁকো পড়ে ঐ সাঁকোটা পাড় হলেই চাতাল। বিশাল এলাকা জুড়ে চাতালটি দাঁড়িয়ে আছে, কত মানুষ যে কাজ করে তা আর বলতে হবে না। বিশেষ করে মেয়েরা, জোনাকীর মত মেয়েরা, যাদের এখন বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার বয়স কিন্তু পেটের দায়ে কাজে নেমে পড়তে হয়েছে।
এখন বৈশাখ মাস-কাঠ ফাটা রোদ্দুর, এ গরমে খাল বিল সব শুকিয়ে চৌচির, পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়, সবাই তখন ছুটে যায় চাতালের মালিক মাতব্বর চাচার ডিপটিউবয়েলে, সেখানকার ঠান্ডা পানি যেন হয় বেহেশতের পানি। মেঠো পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এক টিউবয়েলে কাছে পৌঁছে যায় জোনাকী, পানি ভরে মনের সুখে বাড়ির পথ ধরতেই চোখে পড়ে যায় স্কুলটা। আহা এই স্কুলটায় কত স্মৃতি জুড়ে আছে, এখন সবই ঝাপসা লাগে নিজের কাছে-সেই দিন কী ফিরে আসবে না এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায় তা বুঝতে পারেনা জোনাকী।
বাড়ি ফিরে নিজের দাওয়ায় বসে তারপর হেসেল ঘরের দিকে তাকাই, শূণ্য হেসেল ঘর একসময় কী গমগম করত- যখন মা সুস্থ ছিল, ভাই বোনেরা সব একসাথে বসে ভাত খেত, আজ মা অসুস্থ তাই রাধা বাড়ার সব দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় জোনাকীকে। চাতাল থেকে পাওয়া চাল ধুয়ে চুলোয় বসাতে বসাতে এসব ভাবে জোনাকী।
রান্না করতে করতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাই জোনাকী, দেখে আকাশ জুড়ে লাল চাঁদ উঠেছে-ভরা জোছনা আজ।
এক সময় বাবা এসে হাঁক দেয় জোনাকী, মা জোনাকী।
বেড়ার ফাঁক দিয়ে জোনাকী বলে ওঠে বস বাবা, ভাত বাড়ছি। আগে বাবা মেলায় ঘুরে ঘুরে গান গাইত, এখন বাবর গলা আর আগেরমত খেলেনা তাই পথে পথে ঘুরে ভিক্ষা করে। ঐ দিয়ে কী আর চলে।
খাওয়ানোর পাট চুকে গেলে জানলার পাশে দাঁড়ায় জোনাকী। ওপাশ থেকে মিষ্টি একটা বাতাস এসে মনে মৃদু দোলা দিয়ে যায়, ভাঙা আয়নায়নিজের মুখ দেখে আর কী যেন ভাবে...
পিছন থেকে মা বলে, আর কত রাত জাগবি, সারাদিন কত খাটাখাটুনি করিসরে মা তা কী বলতে...
শুয়ে ঘুম আসেনা জোনাকীর...কী চিন্তায় বিভোর থাকে তা নিজেও জানে না, হয়তো পড়াশুনা শিখলে তাঁর জীবনটা অন্যরকম হতে পারত...
কিন্তু তা হয়নি সে হয়েছে একজন চাতাল শ্রমিক...হয়তো এটাই তার নিয়তি...সে মেনে নিয়েছে
ঘুম জড়ানো চোখে বাবা-মার কথা কানে আসে জোনাকীর
...কেন যে তারা বিয়ের জন্য এত উৎসুক হয়ে পড়েছে-বিয়ে কী সব নাকি এভাবে তো ভালোই চলছিল।
মার চিকিৎসা, বাবার গান, ভাই বোন পড়ানো, ভাঙা বাড়িটা সারানো...এসবই তো স্বপ্ন দেখে জোনাকী, বিয়ে হয়ে গেলে কী আর এসব পূরণ হবে। তখন অন্য সংসারে তাদের ইচ্ছামত পরিচালিত হতে হবে। নিজের স্বাধীনতা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা।
এসব ভাবতে ভাবতে চাতালের দিকে পা বাড়ায় সে এমন সময় মাথার উপর দিয়ে দাঁড়কাক কা কা করে উড়ে যায় যেন কিছু বা বলতে চায়।
গাঙ পাড় হতেই রোদ্দুরের ঝিকিমিকি খেলা করে চারদিকে আজ বড্ড দেড়ি হয়ে গেল একবার ভেবে আবার পা চালাই জোনাকী। সামনের বাঁশবাগানটা দেখেই কেমন যেন গা ছমছম করে ওঠে জোনাকীর ভেতরটা কেমনযেন গুমোঢ় অন্ধকার, সেদিনের কথা কেন যেন আজও ভুলতে পারেনা, যেদিন নাসিরমোল্লার সুপুত্র তার হাত চেপে ধরে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলো। যদিওবা সেকথা প্রত্যাখান করেছিল তবুও সেদিনের কথা ভুলতে পারিনি জোনাকী। তাওতো একজন তাকে ভালোবাসার কথা বলেছিল...
সে জানে তার মত একজন চাতাল শ্রমিকের কী ভালোবাসা শোভা পায়...দারিদ্যে জর্জারিত জীবনে সেকী পারবে তার স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে নাকী পোড় খাওয়া চাঁদের মত ভেসে বেড়াবে গণ্তব্যহীন।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন