বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.২৭

বিচারক স্কোরঃ ০.৪৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

ইচ্ছেজাগা

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

পালটে যাব বলে

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

মন বাউলা

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

কোমলতা (জুলাই ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২৭ পরিনতি. (একটি ব্যার্থ প্রেমের গল্প)

দিপেশ সরকার
comment ৪  favorite ০  import_contacts ১,৭৯৫
সম্পর্কের টান-পরেন আনেক দিনের, শেষ মেষ সম্পর্কটা ভেঙেই গেল। হঠাৎ করেই কাল বৈশাখি যেন সব কিছু ওলঠ পালঠ করে দিল। সুদিপ্তর জীবনে এটাই ছিল সব চাইতে বেশি হারানোর যন্তনা কারন মনিকাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ছিল সে। জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম প্রেম। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কোনো দিন কল্পনাও করেনি সুদিপ্ত। শ্রাবনে অঝর ধারাই যেমন বৃষ্টি ঝরে তেমনি প্রতি মাঝ রাতেই বালিশ ভিজে যেত কান্নাই, দুচোখ বাধা মানেনি। মনিকার হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের মানে খুজতে গিয়ে বার বার জরিয়ে পরেছে স্মৃতির অন্তরালে। মনে পরে যায় সেই সব দিন গুলোর কথা, একদিন মনিকা সুদিপ্তকে না দেখলে থাকতে পারতো না। আজ ভাবলে অবাক লাগে সুদিপ্তর এই কি সেই মনিকা যে সুদিপ্তর মুখে একবার আই লভ ইউ শোনার জন্যে কান্নাই ভেঙে পোরতো। হুম সত্যিই সব কিছুর পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে তাই আজ সব কিছু নকল লাগে, নকল ভালোবাসা,মনে হয় সবি অভিনয়! কাছে আশা,হাজার প্রতিশ্রূতি আর ভালোবাসাটাই। তবু তো চলতে হবে সুদিপ্ত তাই ব্যাথাকে সঙ্গী করে 'ল'-টা পড়া শেষ করে।দেখতে দেখতে অনেক গুলো বৎসর কেটে গেছে শুনেছে মনিকার বিয়ে হয়ে গেছে এ শহরেরি এক বড়ো শিল্পি পতির সাথে।সেটাও নাকি আবার লভ ম্যারেজ। কিন্ত সুদিপ্ত ভালবাসাকে তার জীবনের অভিষাপ মেনে নিয়ে দ্বীতৃয়বার আর কাউকে আনতে চাইনি জীবনে, অবশ্য মনে মনে মেয়েদের ঘৃণাও করে।দেখতে দেখতে আরো তিনটে বৎসর কেটে যায়।আজও স্মৃতির পাতা থেকে ঝরে পড়ে অতিতের টুকরো টুকরো মান,অভিমানে জরানো কথা।এখনো মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, স্বপ্ন দেখে মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গরিয়ে পড়ে।সে রাতে আর ঘুম আসেনা।


সুদিপ্ত বরো এডবুকেট আজ, সুনামও করেছে আনেক তাই আর টাকা পঁয়সারও আভাব নেই এখন। তবু শুখ মানে তার কাছে চাতক পাখি, আজও মনিকাকে ভূলতে পারেনি সুদিপ্ত।মাঝে মাঝে জাকিয়ে ওঠে মনের আন্তকোনে লুকিয়ে থাকা নিস্পাপ যন্তনা। তাই কাজের ব্যাস্ততার মধ্যে দিয়ে জোর করে ভুলে থাকার চেষ্টা।সেদিন যখন সুদিপ্ত তার বৈইঠক খানাই বসে মক্কেলদের সাথে কথা বলছিল হঠাৎ চমকে ওঠে একটা চেনা গলার স্বর শুনে, আশতে পারি সুদিপ্ত বাবু? মনিকার বাবা, যে এক সময় সুদিপ্তকে নিজের ছেলের মতই ভালোবাসতো, তাকে সুদিপ্ত বাবা বলে ডাকতো, বাবা থেকে বাবু একটু আবাক করে দেই।সুদিপ্ত উঠে গিয়ে প্রনাম করে তার পর নিয়ে যাই অতিথিশালাই। সোফাই বসে মনিকার বাবা অমলেস বাবু সুদিপ্তর দিকে এক নজরে চেয়ে থাকে তার চোখ এরাইনা সুদিপ্তর পরিপাটি করে সাজানো গোছান ঘড়।সুদিপ্তর কথাতেই ধান ভাঙার মতো চমকে ওঠে, কেমন আছেন মেস মশাই? তোমার কিছুই পালটাইনি সুদিপ্ত তুমি সেই আগের মতই আছো।সুদিপ্ত এবার তার আবেগ আর ধরে রাখতে পারেনা,হ্যা মেস মশাই আমি সেই আগের সুদিপ্তই কিন্ত মনের গভিরে একটা বিরাট এক ক্ষত নিয়ে জীবনটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে সেটা দেখানো যায় না।অমলেশ বাবু মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে যান।সুদিপ্ত ছারুন সে সব কথা বলুন আজ এতো গুলো বৎসর পর!চোখের কোনাই তখন জল অমলেশ বাবুর, যান সুদিপ্ত জীবন আনেক বৈচিত্রের।কখন আলো আবার কখন আধার,কখন ভালো কখন মন্দ আবার কখন জোয়ার তো কখন আবার ভাটা,আজ আমরা বড় অসহাই সুদিপ্ত। পেনশানের টাকাই তোমার মাসিমার শেষ চিকিৎসা করা হয়, তার পর তোমার মাসিমা গত হবার পর রোড এক্সিডেন্টে মনিকাও বিধবা হয়,শেষের দিকে ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিল না বলে মোটা টাকার লোন নেই রমেশ। আর ওর এক্সিডেন্টের পর ওর সব সম্পত্যি ব্যাঙ্ক নিলাম কররিয়ে নেই।মনিকা এখন আমার এখানেই। সুদিপ্তের মনে করুনা হলেও পুরানো যন্তনা যেন তাকে দাই এরানোর মন্তব্য দেই, মনে মনে ভাবে একদিন মনিকাও আমাকে অস্বিকার করে চলে গাছিল শুধু আমার সেদিন দোষ ছিল আমি বেকার, আসহাই, গরিব ছিলাম। তাই দাই এরানোর ভাষাই বলে এখন আমি কি করতে পারি মেস মশাই।মনিকা ভিষন ভেঙে পরেছে কারোর সাথে কথা বলেনা কোথাও বেরাই ও না আর তোমার সামনে এসে দারাবে তার সাহষ কোথাই। নিওতির কাছে সব হরিয়ে ভরসা আর আমাদের সেষ সম্বল রমেশের করা ইন্সোরেন এর টাকা কটা কিন্ত ইন্সোর কম্পানি নানা আজুহাত আর কাগজ পত্র চেয়ে ঘুরিয়ে যাচ্ছে তুমি যদি আমাদের একটু সাহায্য কর। হ্যা সব কগজ পত্র এনেছেন।না বাবা কাল যদি তুমি একবার আমাদের বাড়িতে আসো তাহলে ভালো হয়। সুদিপ্ত আজান্তেই হারিয়ে যায় পুরানো স্মৃতি ধরে, মনে পরে রোজ বিকালেই সুদিপ্ত যেত মনিকার সাথে দেখা করতে ওদের বারিতে, মনে পরে সেদিন বিকালের কথা আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে গেছে বৃষ্টিও হচ্ছে মুশলধারে, সুদিপ্ত ভাবে আজ বিকালে আর যাবেনা আর যাবেই বা কি করে এই বৃষ্টিতে, বিকাল গরিয়ে সন্ধা নামে তবু এ বৃষ্টি যেন কিছুতেই থামবার নয়, তখনি মনিকার ফোন হ্যালো, এই সুদিপ্ত তুমি আজ এলেনা যে, এখনো দাখোনা বাবা মা এলননা, বৃষ্টিতে আটকে পরেছে। কাতর কন্ঠে মনিকা বলে আমার ভিষন ভয় করছে তুমি তারাতারি এসো না।সুদিপ্ত আর কিছু বলতে পারেনা মনিকার কাতর কন্ঠে বশ হয়ে যায় সুদিপ্ত ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পরে। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে সুদিপ্ত পোছে, গেটের সামনে গিয়ে বেল বাজাতেই বেরিয়ে আসে মনিকা, সুদিপ্ত ভাবে মনে হয় তারই জন্য বোধ হয় মনিকা অপেক্ষায় বসে ছিল। বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সদর গেট খুলে দিলে সুদিপ্ত প্রবেশ করে,ইস তুমিতো একদম ভিজে গেছ, সুদিপ্ত হাসি মুখে বলে তুমিও তো ভিজে গেছ। এসো এসো ছাতার তলাই এসো দুজনই ঘরে ঢুকতে ঢুকতে চাপ ভিজে যায়। ঘরে ঢুকতেই জোর আলো আর আওয়াজ হয়ে বাজ পরে মনিকা ভয়ে সুদিপ্তকে জরিয়ে ধরে দুজন দুজনকে আলিঙ্গন করে নেই।দুজনের সরিলে যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়, এই প্রথম এতো কাছে আশা দুজনার তবু সিতল সরিলে দুজনি উষ্ণতা খুজে পায় আর এক আজানা শিহরন। সুদিপ্ত মনিকার মুখ উচু করে কনিকার কাপতে থাকা ঠোঁটে একে দেয় প্রথম চুন্মন। সুদিপ্তকে ঠেলয় মনিকা, আন্ধকার ঘড়ে দুজনেই চুপ। আবার বিদ্যুতের চমকের জোর মনিকা এগিয়ে গিয়ে জরিয়ে ধরে সুদিপ্তকে। তার পর আর কোন বাধা মানেনি দুটি উষ্ণ সরিল।জীবনের প্রথম আলিঙ্গনে মেতে ওঠে যৌবনের আদিম খেলাই দুজন। তাদের উষ্ণ ঠোঁট, উষ্ণ সরিল উষ্ণতা খুজেছে প্রতিটা পরশে। তার পর শৃঙ্গার ভালোবাসার আজানা এক শুখের ইস্পে, দুজনকে আরো মহিত করে। বিছানার চাদর সে রাতে ভিজে যায় বৃষ্টি ধারাই।

★( এর পর আগামি সংখ্যাই, পাশে থাকবেন আর আপনাদের গঠন মূলক মন্তব্য আশা করবো)
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন