বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ এপ্রিল ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ১৩টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৯৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

প্রেম সাগরে

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

ফাগুন লেগেছে আজ মনে

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

অন্য আলো

অস্থিরতা জানুয়ারী ২০১৬

গল্প - ত্যাগ (মার্চ ২০১৬)

মোট ভোট ২১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৮ ত্যাগ

মোহাম্মদ আবুল হোসেন
comment ৭  favorite ২  import_contacts ৩৭৮
মায়ের পায়ে কড়া পড়ে গেছে। বেঁকে গেছে শরীর। বাম দিকে শক্তি নেই। ডান পায়ে ভর দিয়ে অন্য হাতে লাঠি ধরে কোনমতে শরীরের ভর সামলেছেন মা। কোমরে এখন আর বল নেই। এ কয়েক বছর আগের কথা। এখনকার কথা বলব! মা আমার বিছানায় শয্যাশায়ী টানা দু’ বছরের বেশি। শুয়ে থাকতে থাকতে তার কোমরে চামড়া কুঁচকে গেছে। কোমড় তুলতে পারেন না। দিন-রাত সারাটা সময় বিছানায় শোয়া। খাওয়া, নামাজ আদায়, এর ওর মুখ দেখা- সবই ওই বিছানায় শুয়ে। এর চেয়ে আর কষ্ট কিসে হতে পারে! আমি মার কথা বলছি। কেন আজ তার এমন অবস্থা, জানতে চাইবেন না?
আমাদের সংসার ছিল প্রচ- অভাবী। কল্পনাও করা যায় না কি এক ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উঠে এসেছি। পিতামাতার জমি বলতে একমাত্র বসতভিটে। তাও মাত্র ১৩ শতাংশের। এর বাইরে জমি বলতে আমাদের আর কিছুই ছিল না। বাবা অন্যের খেতে কাজ করতেন। দিনমজুরি দিয়ে যা কামাই করতেন তাতে কোনমতে সংসার চলতো। কিন্তু তিনি একদিন কাজে না গেলে, অসুস্থ থাকলে, আমাদের আর মুখে হাত যেত না। অনাহারে কাটাতে হতো দিনের পর দিন। বিশ্বাস হচ্ছে না! নিরেট সত্য কথা। এভাবে যখন আমার পিতা সুজন মিয়া একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন আমাদের আর কোন উপায় থাকে না। অনাহারে দিন কাটতে থাকে। উপায়হীন হয়ে ক্ষুধা মেটাতে ঘন্টায় ঘন্টায় টিউবওয়েল থেকে পানি পান করি। অতিরিক্ত পানি পান করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা তখন জানা ছিল না। তো ওইভাবে পানি পান করতে গিয়ে একদিন বমি হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকি। এ অবস্থা দেখে মা আলেয়া আর বসে থাকতে পারলেন না।
আমরা তিন ভাইবোন স্কুলে পড়ি। বড়ভাই ইকবাল ভীষণ মেধাবী। বাড়িতে খাবার সঙ্কট। তাই তিনি চলে যান লজিংয়ে। পাশের গ্রামে লজিং থেকে পড়াশোনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করলেন ভাই আমার। তার নাম ছড়িয়ে পড়ল অজপাড়া গাঁয়ে। চারদিক থেকে লোকজন তাকে দেখতে এল। তা দেখে আমাদেরও উৎসাহ বেড়ে গেল। পড়াশোনা করলে মানুষ এত সম্মান করে! এত ভালবাসে! তাই আমরাও আঁটোসাঁটো পড়াশোনা শুরু করি। আমিও প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়ে যাই। যখন এ খবর পেলাম তখন বুকের ভিতরটা কয়েক মিনিট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। দম টানতে পারছিলাম না। হাসবো না কাঁদবো ভাবতে পারছিলাম না। বাবা সুজন মিয়াকে এ খবর বাজার থেকে প্রধান শিক্ষক রশিদ খান জানিয়ে দিয়েছেন। সেদিন বাবার চোখে মুখে যে হাসি, যে চঞ্চলতা, যে অস্থিরতা দেখেছি তা বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। বাড়ি ফিরে মাকে যখন বললাম বৃত্তির খবর। মা কেঁদে ফেললেন। এই যখন অবস্থা তখন আমাদের পড়ালেখা যাতে বন্ধ না হয় তাই মা আলেয়া একদিন অন্যের বাড়ি কাজ নিলেন। গ্রামের মাতব্বর আলম। তার বাড়িতে ঝিয়ের কাজ। তাতে লাভ হলো না। এ কাজ করে শুধু তিন বেলা তিনমুঠ খাবার পান। তা বাড়ি এনে ভাগ করে সবার মুখে যা জোটে তাতে ক্ষুধা আরও তীব্র হয়। মা উপায় খুঁজতে লাগলেন। তিনি দেখলেন মাতুব্বর বাড়ির সিদ্ধ ধান বাজারে নিচ্ছে ভাঙিয়ে চাল করতে। মা বললেন, এগুলো আমারে দেন। আমি ঢেকিতে ভেনে দেই।
মাতুব্বরের বউ রূপবান রাজি হয়ে গেলেন। এক ধামা ধান ভেনে দিলে বেতের সেরের আধা সের চাল দেবেন। এই চুক্তিতে মা আলেয়া মাতুব্বর বাড়ির ধান ভানা শুরু করলেন। সেই সকাল বেলা বেরিয়ে যান। সারাদিন ধান ভানেন। ক্ষুধায় তার শরীর বেঁকে আসে। কিন্তু তিনি হেলেন না। একের পর এক পা চালাতে থাকেন ঢেকিতে। চোখে তার স্বপ্ন। তিনি বিমূর্ত পদায় দেখেন তার ছেলেরা দেশের সেরা শিক্ষিত। ভাল চাকরি করছে। শহরে থাকে। কারো কাছে হাত পাততে হয় না তাদের।
ধান ভেনে সন্ধ্যায় যখন বাড়ি ফেরেন একসের বা দু’সের চাল নিয়ে তখন তার চোখ দুটো অক্ষিকোটর থেকে যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। দাঁড়াতে পারছেন না ঠিকমতো। শুকনো কলা পাতার মতো তার দেহ দুলছে এদিক ওদিক। সেই অবস্থায় খালি পেটে গোসল সেরে আসেন। আবার বসেন চুলার পাশে। যে চাল নিয়ে এসেছেন তার অর্ধেকটা ধুয়ে দেন চুলায়। মাতুব্বর বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুটি ধুন্দল এনেছেন চেয়ে। তা এক পাতিল পানিতে দিয়ে ঝোল করে রান্না করেন। কোন মাছ নয়, কোন মাংস নয়, ডিম নয়Ñ শুধু সাদা পানির ঝোল। তা দিয়ে রাতে আমাদের পাতে খাবার তুলে দেন। আমরা হাপুস হুপুস করে তা খেতে থাকি। মা তাকিয়ে থাকেন মুখের দিকে। নিজের জন্য তিনি ভাত রেখেছেন কিনা তাও তখন খোঁজ রাখার মতো বুদ্ধি হয় নি। কি স্বার্থপর আমরা তাই না! এভাবেই রাত যায়, দিন আসে। সূর্য্য ডোবে। সূর্য্য ওঠে। মা-ও একইভাবে খেটে যেতে থাকেন। মাতুব্বর বাড়ি যেদিন ধান ভানা থাকে না সেদিন অনেক কষ্ট হয়। আগের দিন যে চাল জমা করেছিলেন তার সঙ্গে কলার থোড় কুঁচি কুঁচি করে কেটে সিদ্ধ করেন। সঙ্গে একটু হলুদ আর মরিচ। এর নাম খিচুরি। সেই খিচুরি তখনকার দিনে কত যে মজা লাগতো, আহা! সেই খিচুরিতে চাল বা ভাত খুঁজে পাওয়া ছিল কঠিন। যেদিন কলার থোড় না পেতেন সেদিন ছেঁচি শাকের সঙ্গে মিশিয়ে একই রকম খিচুরি।
একবার প্রচ- অভাব। ভীষণ অভাব।
কোন কাজ নেই। মা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন আক্কাচদের ভিটায়। সঙ্গে একটি ঝুড়ি। সবার হাতে টেঙ্গি। টেঙ্গি দিয়ে আমরা মাটি কুপিয়ে কুপিয়ে কচু তুললাম। এক সময় তাতে ঝুঁরি ভরে গেল। তা নিয়ে বাড়ি এলেন মা। সিদ্ধ করলেন কচু। তারপর উপরের খোসা ছাড়িয়ে বের করে আনা হলো কচুর মুল অংশ। এবার পাতিলে পানি দিয়ে জ্বালানো হলো। পানি ফুটতে শুরু করলে ছাল ছাড়ানো কচু আলু ভর্তার মতো করে সেই পানিতে ছেড়ে দেয়া হলো। সঙ্গে দেয়া হলো হলুদ ও মরিচ। মা একটি চামচ দিয়ে ভাল করে নাড়তে লাগলেন। নাড়ার ফলে পানির সঙ্গে একেবারে মিশে গেল কচু। ভাল করে ফুটানো হলো তা। এরপর লবণ দেখে তা নামানো হলো। এই খাবারটির নাম হলো খাটা। কচুর খাটা। আমাদের সামনে মা পরিবেশন করলেন তা। আমরা খেলাম। তবে গলা চুলকানো শুরু হলো ভীষণ। তাই পাশের বাড়ির তেঁতুল গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে আনা হলো। তা খেয়ে গলা চুলকানো কমলো। এমনি করেই কেটেছে আমাদের দিন। আর কত বলব বন্ধু!
হাটবারে বাবা হাটে যেয়ে মুখে হাত দিয়ে বসে থাকতেন। তার কাছে টাকা নেই। মানুষ ধামাভর্তি বাজার নিয়ে বাড়ি যায়। আর আমার বাবা খালি ব্যাগে চোখ মোছেন। বাড়িতে মা আশায় বসে আছেন কোন না কোন একটা ব্যবস্থা তো করেই বাবা ঘরে ফিরবেন। কিন্তু রাত যখন গাঢ় হয়ে এসেছে তখন বাবা ঘরে ফেরেন। রাগে ক্ষোভে ভাজ করা খালি ব্যাগটা বারান্দায় ফেলে দিয়ে হাতমুখ ধুতে চলে যান। তার বুকের ভিতর তখন যে কি ঝড় বইছে তা কোন ব্যারোমিটার দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। মার আশার বেলুন এতক্ষণে ফুটো হয়ে গেছে। মা কোন কথা বলেন না। ব্যাগটি তুলে নিয়ে রেখে দেন ঘরে। তখন পাশের বাড়ি থেকে টাটকা ইলিশ ভাজার ঘ্রাণ ভেসে আসে বাতাসে। রাতে ঘুমাতে গিয়ে বাবা তার মনের দুঃখের কথা খুলে বলেন মার কাছে। বাবাকে মা বোঝান- আপনি কাইন্দেন না তো! ছেলেরা বড় হলি আমাগার দুঃখ আর থাকপেন না।
সে পর্যন্ত তো আমাগার বাঁচতি হবি!
আল্লাহ-ই বাঁচাবেনে। আল্লাহ তার বান্দার মনের খবর রাহে।
তাই যেন হয় বউ।
আমি কই কি আপনি বিদেশে যান।
বিদেশে যাব?
হ। বিদেশে যায়ে এক মাস থাহে আসেন।
আমি এক মাস বিদেশে থাকলি তোমরা ক্যামনে বাঁচবা?
সে ভার আল্লাহর ওপর, তারপর আমার ওপর ছাড়ে দেন।
মার কথায় রাজি হয়ে যান বাবা। বিদেশ মানে দূরের কোন গাঁয়ে দিনমজুরি দেয়া। আমাদের এলাকার বড় হাট কানাইপুর বাজার। সেই হাট বসে শুক্রবার ও মঙ্গলবার। সেখানে একপ্রান্তে বসে মানুষ কেনাবেচার হাট। সেখানে দিনমজুররা জড়ো হন। গেরস্থ বাড়ির কর্তা গিয়ে সেখান থেকে শক্ত সামর্থ দেখে দিনমজুর নিয়ে নেন কন্টাক্টে। কন্টাক্ট মানে তিন বেলা খাওয়া, থাকা ফ্রি। কাজ করার বিনিময়ে প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ মজুরি। এমনই এক বাজারে গিয়ে একদিন আমার বাবা সুজন মিয়া বিক্রি হয়ে চলে যান পদ্মার চরে। তারপর থেকে এক মাস তার কোন খবর জানতে পারি না আমরা।
এদিকে বাড়িতে মা আমাদের নিয়ে লড়াই করতে থাকেন। একবার যান তার মামা বাড়ি। একবার যান আমার নানা বাড়ি, মানে মার বাবার বাড়ি। তাদের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে আনেন ধান বা চাল বা গম। তা দিয়ে আমাদেরকে কোনমতে বাঁচিয়ে রাখেন। এদিকে আমাদের পড়াশোনার খরচ টানতে পারেন না। তাই স্কুল থেকে আমাদেরকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। তাই বলে খাতা কলম কেনার টাকা পাব কোথায়! শুরু করলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতেই টিউশনি। টিউশন থেকে যা পাই তা দিয়ে নিজের খাতা কলম কিনি। খাতায় প্রথমবার লিখি পেন্সিল দিয়ে। তারপর তার ওপর দ্বিতীয়বার কলম দিয়ে লিখে ব্যবহার করি। এতে একই খাতার দুইবার ব্যবহার হয়।
একমাস পরে বাবা যখন ফিরলেন সেদিন যেন আমাদের ঈদের আনন্দ। পদ্মার চর থেকে লুঙ্গিতে বেঁধে এনেছেন মিষ্টি আলু। এই আলু কাঁচাও খাওয়া যায়। বেশ মিষ্টি লাগে। মা সেখান থেকে কতগুলো নিয়ে সিদ্ধ করলেন। তা আমাদেরকে খেতে দিলেন। আমি আলুর উপরের খোসা না ছাড়িয়েই খেতে লাগলাম- আমার পরিষ্কার মনে আছে। তা নিয়ে আমাকে অন্য ভাইবোন বেশ খেপাতে লাগলো। আমি বললাম- আমাকে খেপাও কেন? আব্বা কষ্ট করে আলু কিনে এনেছে। খোসা ফেলে দিলে তো তা বাদ হয়ে যাবে। খেয়ে ফেললে তাতে পেট ভরবে। আমার এ কথায় ওরা হাসলো। হাসলেন বাবাও। খোসা সমেত সেই আলু খেয়ে আমার বেশ পেট ব্যথা হয়েছিল মনে আছে।
আজ সেসব কথা বড্ড মনে পড়ে।
আমার সঙ্গের, আমার বয়সী গ্রামের অন্যরা এখন দিনমজুর, অন্যের জমিতে খেটে সংসার চালায়। আর আমি? আমি বিদ্যের জোরে একজন চাকুরে। ভাল না হোক যা বেতন পাই তা দিয়ে কোনমতে এই কষ্টের বাজারে দিন কেটে যায়। সন্তানের পড়ালেখা, সংসারের খরচ বাদ দিলে হাতে বাড়তি কোন পয়সা থাকে না। মা এখন শয্যাশায়ী। তার প্রতি মাসে তিন হাজার টাকার ওষুধ লাগে। তাকে হরলিক্স দিতে হয়। ফল দিতে হয়। ভাল পথ্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু খরচ যোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। কপালও ভাল। অকস্মাৎ একদিন প্রশাসন থেকে ডাক পড়ল। ভয়ে ভয়ে গেলাম। জানি না চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয়া হবে কিনা। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তার সামনে যেতেই তিনি একগাল হাসি দিলেন। আমার ভিতরের গুমোট ভাবটা একটু কেটে গেল। আমাকে বসতে বললেন তিনি। তার সামনে রডের চেয়ার। আমি বসলাম। তিনি আমার দিকে একটি হলুদ খাম ধরিয়ে দিলেন। আমি হাতে নিয়ে তখনও বুঝতে পারলাম না কিসের খাম সেটি। তিনি বললেন, কি হলো রণবীর। খাম খোলেন!
খুলব?
হ্যাঁ, ভয় নেই। খোলেন।
আমি ত্রস্ত্র হাতে খামটি খুললাম। বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমার প্রমোশন হয়েছে। বেতন বেড়েছে। এখন দ্বিগুন বেতন আমার। সবার আগে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। মনের পর্দায় ভেসে উঠল মার মুখটা। তিনি যেন বলছেন- আল্লাহ তোমার কাছে আমানত আমার সন্তানরা। তুমিই ওগার জিম্মাদার।
মনে হলো মার প্রার্থনা কবুল করেছেন আল্লাহ। যে মা তার সন্তানের পড়াশোনার জন্য অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন, বাড়া ভানেন তার প্রার্থনা, তার শ্রম বৃথা যেতে পারে না।
এবার আমি একটু চালাকি করলাম। বেতন বাড়ার খবরটি বাসায় আমার স্ত্রীকে জানালাম না। আমার পরিকল্পনা- বাড়তি টাকাটা আমি মাকে পাঠাবো। এ কথা বউকে জানালে হয়তো সে বাগড়া দিতে পারে। মেয়ে মানুষের মন। বলা তো যায় না। যদি বাগড়া দিয়ে বসে তাহলে আমি মায়ের অধিকার আদায় করতে পারবো না। বাবার প্রতি কর্তব্য পালন করতে পারবো না। এতে সংসারে অশান্তি নেমে আসবে। আমি তা চাই না। তাই স্ত্রীর কাছ থেকে গোপন করলাম বিষয়টা। সেই গোপনকে গোপন রেখে আমি মায়ের সেবা করে চলেছি। মা আমার, বাবা আমার যে কষ্ট করে, যে শ্রম দিয়ে আমাদের মানুষ করেছেন তার কাছে এই গোপনীয়তার মাধ্যমে যে অন্যায় আমি করছি তা কিছুই না। এখন এই যে আমি- আমিত্ব। সবই আমার মা-বাবার শ্রম, উচ্চ মানসিকতার ফসল। এ শ্রমের মূল্য কোনদিন শোধ করতে পারবো না। মা তুমি আমাকে ক্ষমা করো। বাবা আমাকে ক্ষমা করো। তোমাদের ত্যাগের মূল্যায়ন হয়তো আমি কোনদিনই করতে পারবো না। এ আমার অপারগতা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন