বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ জুন ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩০

মানুষ অইত্যান্ত জটিল

সরলতা অক্টোবর ২০১২

বৃষ্টিভেজা ধর্ষণের গল্প

বৃষ্টি আগস্ট ২০১২

সুপ্ত শক্তি

গ্রাম-বাংলা নভেম্বর ২০১১

২১শে ফেব্রুয়ারী (ফেব্রুয়ারী ২০১২)

মোট ভোট ৩০ ভালবাসা বনাম অপমান

খালিদ ফারহান
comment ২১  favorite ২  import_contacts ৬১৩
আমাদের কলেজে একটা মেয়ে পড়তো , নাম আদিবা । ওরা গুলশানে থাকতো , তিনতলা একটা বাড়িতে । কলেজে প্রায় ই ওকে নিয়ে কথা হত যার প্রধাণ কারণ সে দেখতে সুন্দর । সাধারণ সুন্দর বলা উচিত না , একটু অতি মাত্রায় সুন্দর । আমি আর আমার বন্ধু সাদমান প্রথম দেখায় ই ওর প্রেমে পড়ে গেলাম । প্রেম মানে একেবারে উথাল পাথাল প্রেম । কলেজে যাই ওকে দেখতে , সারাদিন তাকিয়ে থাকি ওর দিকে আর বাসায় এসে দুইজন গল্প করি ওকে নিয়ে ।

আমরা যে কি কঠিন প্রেমে পড়েছি সেটা বুঝলাম যেদিন সকালে সাদমান আমাকে ফোন দিয়ে বললো,
সারারাত ঘুম হয় নি রে , ঘুমাতে গেলেই মনে হয় কালকে ও কি পরে আসবে কলেজে , চুল কি খোলা থাকবে না বাঁধা ।
ও বলতে থাকে আর আমি হারিয়ে যেতে থাকি কল্পনায় । এতই কল্পনায় হারাই দুজন মিলে যে মনেও থাকে না কলেজে যে আদিবা কলেজের জামা পরেই আসবে আর চুলে দুই বেনী থাকাই কলেজের নিয়ম ।

এমনই ছিল আমাদের অবস্থা ।

তো, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কলেজে কম ছিল না । আসলে সেভাবে দেখলে আমি আর সাদমান ও তো প্রতিদ্বন্দ্বী ই ছিলাম যদিও আমাদের তা মাথায় আসতো না । কলেজে প্রথম দুই সপ্তাহ যাওয়ার পর একদিন সাদমান আমাকে বললো ,
বন্ধু, তুমি কালকে ওর সাথে কথা বল । দিন তো চলে যাবে পরে ।
আমিও ফোনে খুব ভাব নিয়ে ওকে বললাম , হ্যা , বলবোই তো । আমার বলতেই হবে । কিন্তু তুমিও তো ভালবাসো ,তাই না ?
সাদমান হেসে বলে , তোমাকে দিয়ে একটু দেখে নেই আগে কিরকম প্রতিক্রিয়া হয় । জানোই তো, পিছে গেলে সোনা পায় যে ?
আমি রেগে যেতে যেয়েও হেসে ফেলি , হাসতে হাসতেই বলি – আর যদি ও আমার হয়ে যায়?
সাদমান বলে , কি যে বল না – আমার আমার বন্ধুর উপর বিশ্বাস আছে । ও কোনদিনও তোমার হবে না । বলতে বলতে হাসি তে ভেঙ্গে পড়ে ও ।

আমরা যখন আদিবার স্বপ্নে বিভোর , তখন ছিল জানুয়ারি মাস । দেখতে দেখতে এসে গেল আমাদের প্রাণের মাস ফেব্রুয়ারি । ওহ , বলা তো হয় নি । আমি আর সে সময়ে আদিবার সাথে কথা বলতে পারি নি । দুই দিন আমি চেষ্টা করেছিলাম , কিন্তু সাহস করতে পারি নি । তারপর আদিবা নাকি ঘুরতে ইটালি গিয়েছিল । তাই ওর দেখাও পাই নি । এভাবেই জানুয়ারি শেষ হল ।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ঠিক করলাম , এবার তো কথা বলতেই হবে । যেই ভাবা সেই কাজ , আদিবার একটা বন্ধু ছিল নাওমি নাম । ওকে বললাম , আদিবার টেলিফোন নাম্বার টা আমাকে কি দেয়া যাবে ।
ও একটু অবাক হলেও দিল ।
আমিও খুশি মনে সাদমান কে বললাম , এবার হবে দেখিস ।

ফোন দিলাম , আদিবা ধরলো ফোন ।
হ্যালো আদিবা , আমি খালিদ । চিনতে পেরেছো?
হ্যা পেরেছি । বল কি বলবে ।
না মানে , একদিন একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবে বাইরে ? তোমার বন্ধুরাও থাকবে,আমার বন্ধুরাও থাকলো । কিছু কথা ছিল ।
ইয়া , শিওর ।
চল তাহলে বইমেলায় যাই একদিন ?
ইয়াক , বুক ফেয়ার ? ওকে , আই উইল গো । কবে ?
২১ তারিখ ই যাই চল ।
ওকে ডান , ডুড ।
আমি ফোন কেটে দিলাম । খুশি হব নাকি রাগে চিল্লাবো বুঝতে পারছিলাম না । কার সাথে কথা বললাম আর কি কথা বললাম আমি । মেয়ে তো বাংলাই বলতে পারে না । তড়িঘড়ি করে ফোন দিলাম সাদমান কে ।
বন্ধু , ২১ তারিখ , বইমেলা । ও আসবে । এসে গেছে আমার ভালবাসার দিন । আমাকে সাহস দে না ।
সাদমান খুশি হয়ে বললো , হ্যা রে । তোর বাবা-মা মারা যাওয়ার পর এতদিন তুই যে কষ্ট করলি একা একা , হয়তো সে কষ্ট টা শেষ হবে তোর ।
এরপর আরো কিছুক্ষণ এ বিষয়ে কথা বলে ফোন রাখলাম । ২১ তারিখ এসে গেল দেখতে না দেখতেই আইন্সটাইন কে ভুল প্রমাণিত করে ।
আমি আর সাদমান সকালের দিকেই লাইনে দাড়ালাম বইমেলার । আমার হাতে একটা গোলাপ । কিছুক্ষণের মধ্যেই আদিবা আর ওর বান্ধবী নাওমি চলে আসলো । আমি ভেবেছিলাম আগের রাতে মনে মনে যে আদিবা একটা সবুজ শাড়ি পরে আসবে , আমি ওকে লাল গোলাপ টা দেব , একটা পতাকা পতাকা ভাব আসবে । কিসের কি , গাড়ি থেকে নামলো যেন এক নিষ্প্রাণ পুতুল । গাউন টাইপ কিছু পরা , আমি চিনি না জামা টা । তার পাশেই ছিল বান্ধবী নাওমি ,নীল একটা শাড়ি পরা । অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল ওকে ।

দুইজন এসে দাঁড়ালো আমার আর সাদমানের সামনে ।
আদিবাই প্রথম কথা বললো ,
টেল ডুড , কি বলবা – আমি এখান থেকে লাউঞ্জে যাবো । টুমি চাইলে হামরা ওখানেও কটা বলতে পারি ।
আমি আদিবা কে হাস্যমুখে জিজ্ঞেস করলাম , বাংলা ভাল লাগে না ?
আদিবা বললো , নট সো সো , আই এম মোর কম্ফোরটেবল উইথ ইংলিশ ।
আমি আরো হাস্যমুখে ঘুরে নাওমির দিকে তাকিয়ে গোলাপ টা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,
আমি তোমাকে ভালবাসি ।
সাদমান মাথা ঘুরে পড়ে গেল পেছনেই । আর নাওমি কি করেছিল সেটা না হয় না ই বললাম ।
বাংলা ভাষার অপমান আমার একদম সহ্য হয় না ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন