বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ অক্টোবর ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ২১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

যদি না তুমি হতে অধরার দলে

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

আমারও একটা সপ্ন ছিল

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

অপূর্ণতা

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

দাগ

মোস্তফা সোহেল
comment ০  favorite ০  import_contacts ৫৪
চাঁদ দেখতে কার না ভাল লাগে?
তাই এই জাগতিক সংসারে হাজারও ব্যাস্ততার মাঝে একটু সময় করে মাঝে-মাঝে চাঁদ দেখতে চলে আসি আমাদের বাড়ির ছাদে।মাস গেলেই অপেক্ষায় থাকি কবে ভরা পূর্ণিমা আসবে আর আমি সীমান্তকে সাথে করে চাঁদ দেখব।কিন্তু সীমান্তটা খুব আলসে আমার কথা শুনতেই চাই না। এ সব চাঁদ দেখা-টেখা ওর তেমন ভাল লাগে না বুঝি।বিছানা থেকে উঠতেই চাই না। এই তো সেদিন বিয়ে হল আমাদের অথচ দেখতে দেখতে আটটি বছর কখন যে কেটে গেল বুঝতেই পারিনা। আমাদের একমাত্র মেয়ে অধরা, ওর বয়স এবার ছয় বছরে পড়ল। দেখতে দেখতে অধরা ও বড় হয়ে যাচ্ছে। একদিন ওর বিয়ে হয়ে যাবে। অধরাও কি আমার মত করেই ওর স্বামীর হাত ধরে চাঁদ দেখবে। কি জানি, অধরা আমার মত না ও কিছুটা ওর বাবার স্বভাবের হয়েছে।

আজ আকাশ আলো করে গোল থালার মত একটা সুন্দর চাঁদ উঠেছে।জানি চাঁদ সব সময়ই সুন্দর । আমার কাছে চাঁদ প্রতিবারই নতুন রুপে ধরা দেয়। অধরা বেশ আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। সীমান্ত বিছানায় শুয়ে টিভি দেখছিল। আমি রাতের খাবার বেড়ে সীমান্তকে খেতে ডাকলাম। প্রতি পূর্ণিমা রাতে চাঁদ দেখতে যাওয়া আমার কাছে যেমন আনন্দের ঠিক ততটাই আমি কি যেন একটা কষ্টে ভুগি। আমি জানি কষ্টটা কি তবু কাউকে বলতে পারি না। আমি কখনও আমার এই কষ্টটা কাউকে বলতে চাই নি তবে সীমান্তকে বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই আজ আট বছরে আমি হয়তো হাজার বার সীমান্তকে সেটা বলতে চেয়েও বলতে পারিনি। নিজের বুকের চাপা কষ্টটাকে নিজের মাঝেই লুকিয়ে রেখেছি।
কি হল নীলা কি ভাবছ? সীমান্তের কথায় আমি বাস্তবে ফিরে আসি।
কই কিছু না তো।
আমার মনে হয় তুমি কি যেন একটা ভাবছিলে।
না মানে আজ পূর্ণিমা তাই ভাবছিলাম তোমার সাথে ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখব। তোমাকে বললে তুমি না বল কিনা তাই ভাবছিলাম।
না বললেও তুমি কিছু বললে আমি করিনি এমন কোন কাজ আছে।
না ঠিক তা না তুমি বিরক্ত হও কিনা তাই।
আমার বউ আমার সাথে চাঁদ দেখবে এতে বিরক্ত হওয়ার কি আছে। তুমি তো জানো আমি একটু অলস তাই আলসেমি করি।এখন তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও আমি আজ তোমার সাথে মন ভরে চাঁদ দেখব।
খাওয়া শেষে আমি আর সীমান্ত ছাদে যায়। আজ চাঁদটাকে আরও বড় মনে হচ্ছে। অবশ্য খবরে পড়েছিলাম আজ নাকি চাঁদটাকে আরও বড় দেখাবে। এটাকে বলে সুপার মুন। চাঁদটা আজ না, আমার কাছে আজীবন সুপার মুন হয়েই থাকবে।
আজ কি আমি সীমান্তকে বলব আমার জীবনের সেই কালো অধ্যায়ের কথা। যে কথা আমি আট বছরেও বলতে পারিনি। আমার জীবনের এই কালো অধ্যায়ের কথা বললে সীমান্ত কি আমার সাথে সম্পর্ক রাখবে। সম্পর্ক রাখলেও সীমান্ত কি আমাকে আগের মতই ভালবাসতে পারবে।
আমার তখন কেবল তের বছর বয়স সে সময় আমার জীবনে একটা কালো রাত নেমে এসেছিল। সেই কালো রাতের কথা মনে হলেই আমি ভয়ে অস্থির হয়ে যায়। আমার বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছা শেষ হয়ে যায়।
আমি সীমান্তের বুকে মাথা রেখে ফুফিয়ে কেঁদে উঠি।
এই নীলা কাঁদছ কেন?
সীমান্ত তুমি আমাকে এই ভাবে সারা জীবন তোমার বুকে আগলে রাখবে তো?
কেন রাখব না তুমি না আমার লক্ষী বউ।
সীমান্ত আমাকে ওর বুকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবি আমি কি সীমান্তের সাথে প্রতারনা করছি। সীমান্তকে কি আমি নিরবে শুধু ঠকিয়ে যাচ্ছি।
বিয়ের আগে আমার হালিমা খালা বলেছিল, শোন নীলা প্রত্যেক নারীর জীবনেই কোন না কোন কাল দাগ থাকে। তবে সেই দাগ এক সময় উঠেও যায়। তোর এই দাগের জন্য তুই দায়ী না। দায়ী আমরা এই বড়রা, আমাদের এই সমাজ।কারন তোকে আমরা নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এই সমাজ তোকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি।তুই শুধু শুধু এই ঘটনার জন্য তোকে কেন খারাপ ভাববি।আর শোন জীবনে মনের ভুলেও তুই এই কথা তোর স্বামীর কাছে বলবি না। কোন স্বামী তার স্ত্রীর অনাকাঙ্খিত ঘটনাও মেনে নিতে পারেনা।
-নীলা এই নীলা
-হু বল
-তুমি না প্রতি পূর্ণিমা রাতে আমাকে কি যেন একটা কথা বলতে চাও আজ বলবে না?
হ্যা বলব, আমি তোমাকে আমার নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসি।
সীমান্ত হেসে আমার কপালে একটা চুমু দেয়।
আমি আবার চাঁদের দিকে তাকায়। চাঁদটা হেসে আমাকে বলে পাগলি একটা, দেখ এই চাঁদ আমি কত সুন্দর, তবু আমারও কলঙ্ক আছে।আর তুই তো একটা মানুষ, তার উপরে এই সমাজে তুই একটা মেয়ে তোর তো দাগ থাকবেই।
আমি সীমান্তকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরি। জানি এই ভালবাসার বাধন এত সহজেই ছিড়ে যাবেনা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন