বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

২.৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৩ / ৩.০

শীত - ডাকনামে ও স্পর্শে

শীত / ঠাণ্ডা ডিসেম্বর ২০১৫

পরগাছা

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

কাঞ্চন ফুলের পাপড়ি

ভালোবাসা / ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ব্যথা (জানুয়ারী ২০১৫)

মোট ভোট ১৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৭ ভোঁদাই

রেনেসাঁ সাহা
comment ১৪  favorite ১  import_contacts ৬৭২
শীতের দিন। সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মেজাজটা বিগড়ে গেল নেহার। ভাই বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নেহার একমাত্র ভাই। যেদিন প্রথম ভাইকে নিয়ে মা নার্সিংহোম থেকে বাড়িতে এসেছিলেন, সে দিনটার কথা আজও ভোলেনি নেহা। তখন নেহা ক্লাস ওয়ান এ পড়ে। চুপ চুপ করে ভাইয়ের ঘরে, ছোট্ট মশারিটা তুলে দু'চোখ ভরে দেখত সে। ছোট্ট ভাই; নেহা ভেবেছিল তার খেলার সাথী হবে ভাই। একসাথে অনেক মজা হবে। ভাই একটু বড় হতে হতে বোঝা গেল যা, ভাই একা একা অ-আ-ই করে কথা বলে, অকারণে অর্থহীন উচ্চারণে উ-----উ----উ করে চেল্লায়। অকারণে শব্দ করে হাসে একা একা। বিকট ভাবে হাত, পা ঘোরায়। বছর ঘোরে। ভাই ইস্কুলে ভর্তি হলে বোঝে সে, ভাই একটু অন্যরকম। মানসিক রোগের শিকার ভাইয়ের পরিচয় দিতে লজ্জাই লাগে একটু নেহার এখন।

নেহা ভাইকে না ছুয়েই বিছানা থেকে ওঠে। ভাই প্রথমে একটু উউ---উ করে একটা বিকট চিৎকার করে। তারপর জানায় মা নেহাকে তাড়াতাড়ি উঠতে বলেছে। ভাইয়ের বিকট অঙভঙ্গিতে নেহার কান্না পায় না এখন আর। নিজেকে শক্ত করে ফেলেছে সে, আগে যখন ভাইয়ের কীর্তি দেখে সবাই নেহাকে উপহাস করত, বা দয়া দেখাত তখন নেহার মনে হত মরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন সে বোঝে লাভ নেই কিছু, প্রকৃতির কী বিচিত্র পরিহাস। এখন নেহা কলেজে পড়ে। বিকেলে যখন সে নিজের ঘরে ফেরে , দেখে বিছানায় ভাই বসে। নেহা বলে-"তুই যা, আমি পড়তে বসব। " ভাই আবার চিল্লিয়ে ওঠে; সেই অর্থহীন চিৎকার এ নেহার গা গুলোয়, ভারী হয়ে আসে ভেতর টা। আবার হাত-পা ঘুরিয়ে ভাই সুর করে বলে--"গল্প, গল্প, গল্প"। এর অর্থ নেহাকে এখন গল্প শোনাতে হবে ভাইকে। মাথার রক্ত পায়ে ওঠে নেহার। "গেলি তুই!" জোরে চিল্লিয়ে ওঠে নেহা।দু'একটা চড়-থাপ্পড় মারল। ভাই হাত-পা নড়িয়ে আটকানোর চেষ্টা করল, পারল না। সে পালাল না, আর নালিশও করার চেষ্টা করে নি মায়ের কাছে। একটু করুণা জাগে নেহার মনে। বলল -"এখন যা, রাত্রে গল্প শোনাব।" ভাই আস্তে আস্তে অন্য ঘরে যেতে থাকে। কোনমত অল্প একটু পড়াশোনা করে নেহা ভাই কে ডেকে রাজকুমার আর রাজকুমারীর গল্প শোনায়। গল্প শেষ হওয়ায় ভাই মাথা নাড়িয়ে চিৎকার সহযোগে জানতে চাইলো- "রাজপুত্র কেমন? আমার মতন?" খুব হাসি পেল নেহার। সে শব্দ করে হাসল। ভাই জানতে চাইল আবার -"তালে কোটালপুত্র? ও আমার মতন?" নেহা বলে না রে, ওদের অনেক গুণ, তোর মতন না। তুই তো ভোঁদাই । হাঁদা। ভাই একটু দমে গেল বুঝি।

নেহার সাথে ভাইয়ের যেটুকু কথা হত দিনে, তাও বন্ধ হল এরপর। ভাই সহজে আর এদিক মাড়ায় না, নিজের ঘরেই থাকে, আপদ বিদেয় হল, বাঁচা গেল। অর্জুন নেহার ক্লাসমেট। খুব পছন্দ ছেলেটাকে নেহার। তার কাছে সে ভাইকে নিয়ে দুঃখ করেছিল । অর্জুন তার লেখা একটা কবিতায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য। নেহার পায়ের তলা থেকে মাটি যেন সরে যায়। সবাই নেহাকে দয়া করা শুরু করছে। চুপচাপ ঘরে বসে সে কাঁদছিল। মা-বাবা বাড়িতে নেই। ভাই জানালা দিয়ে মুখ দেখায়, ভয়ে আসে না নেহার ঘরে। হাতের পেনটা ছুঁড়ে দেয় নেহা ভাই এর দিকে। একটু ব্যথা পাক। তাতেই শান্তি। য়র সাথে যা যা ঘটছে সব ভাইয়ের জন্য। ভাই আসবার আগে তো এমনটি ছিল না।

কিছুদিন পড়ে ভাই জেলা ম্যারাথন দৌড়ে নাম লিখিয়েছে বলে জানায় বাবা নেহাকে। নেহা হাসে। ভাই হঠাত খাওয়ার টেবিলে কাঁদে, বলে- "ভোদাই--ভোদাই-- ভোঁদাই"। নেহা খাওয়ার টেবিল থেকে খাওয়া শেষ না করেই উঠে পড়ে।

দৌড় প্রতিযোগিতার মাঝপথে ভাইয়ের খিচনি ওঠে। শব্দ করে মাঠে শুয়ে পড়ে ভাই । আর ওঠে না। শিলিগুড়ির বড় হসপিটাল থেকে ভাইকে মৃত ঘোষণা করে দেওয়া হয়। বাড়িতে তখন কান্না তুমুল। নেহা ভাইয়ের প্রাণহীন মাথাটা ছুয়ে দেখে। বুক ভেঙ্গে আসছে তার। কানের কাছে যেন কেউ চেল্লাচ্ছে -"ভোঁদাই , ভোঁদাই।" অনেকে অনেক কথা বলল, কেউ বা কিছু বলল না। নেহা বোঝে এসব না বলা, না দেখানো দয়া। এখন এটাও বোঝে এর জন্য ভাই দায়ী ছিল না। হাত দুটো ঝুলে থাকে নেহার। কাউকে থাপ্পড় মারতে পারে না সে, শুধু ঘেন্না হতে থাকে নিজের হাত দুটোর ওপর। বিদ্রুপাত্মক হাসিগূলোর ওপর।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন