বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ আগস্ট ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ৫টি

আমার অজান্তে

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আহা মোর দুঃখরে

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

প্রেমিকা খুঝি

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

আমি চাই সবাই পরুক

জহির খান
comment ০  favorite ০  import_contacts ১৫
আমি চাই এটা নারী পুরুষ সবাই পড়ুক।
যাতে একজন আক্রান্ত নারীর মতো তারাও
অনুভূতিটা বুঝতে পারে, আমি চাই এসবের পরিবর্তন হোক।

সুপ্রিয়,
আমি আপনাকে ডিসেম্বরের ঠান্ডা বিকেলে লিখছি, আমাকে ধর্ষণচেষ্টার প্রায় এক বছর পর। কারণ এতোদিনে আমি কাগজ-কলম নিয়ে বসার মতো যথেষ্ট শক্তি অর্জন করেছি। আমি আপনাকে লিখছি কারণ, আজ বিকেলে আমাদের আবার দেখা হলো।
তবে আশপাশের পরিবেশ আগের মতো ছিল না।
আপনার হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল, যেগুলো আমার শরীরকে আঁকড়ে ধরার মতো অবস্থায় ছিলো না।

আপনি বলেছেন যে, আপনি যা করেছেন তা খুব অল্প সময়ের জন্য ছিল।
আপনি আমাকে ২০ মিনিটের জন্য একটি ঘরে বন্দী করেছেন,
আপনি আমার পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করেননি, আমাকে ধর্ষণের চেষ্টাও আপনি করেননি।

আপনি বলেছেন, মেঝেতে আমার শরীরের ওপর আপনার শরীর ছিল কারণ অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য পা হড়কে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম আমি, আপনি আমাকে জোর করে মাটিতে ফেলে আমার ওপর চেপে বসেছিলেন, এরপর আমি আপনাকে আমার দু’পায়ের মাঝখান থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে পেরেছিলাম, কারণ আপনি সিদ্ধান্ত নেননি যে, আপনি থেমে যাবেন।

আমি আপনাকে থামতে বাধ্য করেছিলাম, আপনার চোখগুলো ছিল কালো এবং আপনি সরাসরি আমার আত্মার ভেতর তাকিয়ে ছিলেন। এ সময় বলেছেন, আপনি আমাকে ছাড়তে চাননা, আমি বলেছিলাম আমাকে ছেড়ে দিন! আমি জানিয়ে ছিলাম যে, আমি ট্যাম্পুন পরে আছি।
এরপর আমি আপনাকে লাথি মারলাম, ভয়ে চিৎকার করলাম এবং কাঁদতে শুরু করলাম।

আপনি আমাকে ধরে শরীরজুড়ে ব্যথা দিতে লাগলেন, অথচ আপনাকে আমি আমাকে ছোঁয়ার অধিকার দেইনি।

আমার মতো যে নারী আপনার মতো পুরুষদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, আমি আদালতে তাদের পক্ষে কথা বলবো।
প্রতিটি ধর্ষিত, নির্যাতিত, আক্রান্ত, ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্পর্শ হওয়া নারীর পক্ষে কথা বলবো।

আমি বুঝতে পারছিলাম না যে, আমার সঙ্গে কী হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে আদালত থেকে আমার কাছে চিঠি আসে।
এরপরই আমি বুঝতে পারি, যে বিষয়টি সারা বছর এড়ানোর চেষ্টা করেছি তার মুখোমুখি হতে হবে, যাতে আমার অবস্থান অন্যকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে উৎসাহিত করে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন