বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ নভেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৯৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৩২ / ৩.০

নষ্ট প্রেম

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

প্রেম শুধু একা থাকা

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

কি যেন একটা

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৬)

মোট ভোট ১১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৩ পর পুরুষ

আল মামুন খান
comment ১২  favorite ১  import_contacts ১৯০
পারিবারিক ডাক্তারের চেম্বার থেকে ফেরে কণা। রিপোর্ট হাতে নিজেদের রুমে ঢুকে দেখে, শাহেদ খবরের কাগজ পড়ছে।

নিরবে শাহেদের দিকে বাড়িয়ে দেয় রিপোর্ট কার্ড। শাহেদ হাতে নেয়। খবরের কাগজ নিচে অলস পড়ে রয়। মনযোগ দিয়ে পড়ে। শেষ হতেই একজন বাবা কণার দিকে তাকায়। আনন্দে উদ্বেলিত এক বাবার চোখ কেমন হয়? এমনই কি?
শাহেদের এই মুহুর্তের মত?

মা-বাবার আনন্দঘন সময় কাটে এক মায়াবী বিকেলে। প্রহরগুলি কেটে যায় দুরন্ত বাতাসের দোলায়।

সন্ধ্যা নামে। শাহেদ কোথাও যেতে রেডি হয়েছে। কণা কাছে আসে। ওর ডান হাত শাহেদ আলতো ছুঁয়ে কাছে টানে। কপালের ওপর অধর ছুঁয়ে দেয় শাহেদ। বলে, 'আসি।'
বিদায় চুম্বন?

কণা হেসে বলে, 'এমন ভাবে বলছ যেন আর আসছ-ই না।' হাসে শাহেদ। তাকায় কণা। শাহেদের চোখে হাসি নেই। ও দু'টো রঙ পরিবর্তন করেছে।
সম্পুর্ণ অন্য এক ভিন্ন চোখে তাকায় শাহেদ। কণার সম্পুর্ণ অচেনা লাগে ওকে। ধীরে ধীরে তখন শাহেদ বলে চলেছে, 'হ্যা ক্ণা! আমি চলে যাচ্ছি। তোমার সাথে আমার পথ এ পর্যন্তই ছিল।'

কোনো অনুতাপ নেই। নেই কোনো বিষন্নবোধ। সম্পুর্ণ নির্বিকার থেকে কণার দিকে পিছন ফিরে শাহেদ। দরজা সেদিকে।

'দাঁড়াও!'
কণার ডাকে শাহেদ থামে। পেছন ফেরে। কণা নিজের গর্ভে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করে, 'এর কি হবে?'
শাহেদ চুপ থাকে। ওর ভিতরে কি ভাংগাচূরা চলে?
'আমাকে পাঠানো হয়েছিল 'আমাদের প্রতিনিধি তোমাদের পৃথিবীতে রেখে যাবার জন্য।' এটুকু বলে একটু থামে শাহেদ। কণার চোখে তাকিয়ে বাকিটুকু বলে, ' আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি কেবল, তোমার সাথে কোনো ধরণের বন্ডেজ নেই আমার।'

কণার হতবিহবল ভাবটা কাটতে চায় না। ও জিজ্ঞেস করে, ওর সামনে দাঁড়ানো সম্পুর্ণ অন্য এক মানুষকে, 'কে তুমি? আমার মানুষটি কোথায়?'
'তোমার মানুষটি আর নেই। তোমার জন্য দু:খপ্রকাশ করলে তোমার মানুষটি যদি ফিরে আসত, অবশ্যই করতাম আমি। কিন্তু তা হবার নয়।'

দরজার চৌকাঠ ধরে একটু থামে। শাহেদের অনুরুপ নিয়ে যে মানুষটি চলে যেতে চাচ্ছে, কণাকে ছেড়ে, সে ম্লান হেসে জানায়, ' আমি আমার কাজ সম্পুর্ণ করিনি। তোমার মানুষটির স্পার্ম-ই তোমার গর্ভে। সে তোমার সন্তানের বাবা। তার মৃত্যুর পুর্বেই আমি সংরক্ষন করেছি। বাবুটার যত্ন কর। ও তোমাদের বাবু। আমাদের জগত জানবে সে আমাদের মানুষ। এটাই তোমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করার একমাত্র পথ ছিল।'

দরজা খুলে অচেনা মানুষটি বাইরে পা বাড়ায়। কণা নিরবে সামনে আগায়। দরজা ধরে শেষ প্রশ্ন করে, 'তুমি কে?'

দূরে চলে যেতে যেতে, দূরের কোনো পৃথিবীর অবাক করা মানুষটি, পেছন না ফিরে জানায়,' আমি পর পুরুষ!'

রাতের অন্ধকার ছুঁয়ে ছুঁয়ে, একজন অচেনা মানুষের ফিরে যাবার ক্লান্ত পদধ্বনি, নিমিষে মিলায় বাউরি বাতাসে। সব চুপচাপ। চারিধার। এক নিশ্চুপ। মাঝরাত।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন