বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ এপ্রিল ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৩২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৯৭

বিচারক স্কোরঃ ২.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

অভিশপ্ত প্রেম

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

অন্তর্দেশে রক্তক্ষরণ

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

স্বাধীনতার সংজ্ঞা

ত্যাগ মার্চ ২০১৬

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৯৭ সানুর দেশপ্রেম

মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৫৫৪
(১)
একাত্তর !
উনিশ’শ একাত্তর !
বাংলাদেশ জ্বলছে !
গ্রাম,গঞ্জ,শহর,নগর নির্বিশেষে গোটা বাংলাদেশ জ্বলছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অগ্নি সংযোগে ! বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ততদিনে পুর্ব পাকিস্তান অতীত স্মৃতি বৈ অন্য কিছু নয়। একদিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দেওয়া আগুনে যেমন বাংলাদেশ জ্বলছিল তেমনি জ্বলছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের স্বপ্ন, আবেগ আর ভালবাসার ঠিকানা।
আচমকা এমন একটা মারমুখী পরিস্থিতি সবাইকে কিছুটা হতবাক করে দিলেও পরিস্থিতি সামলে নিতে খুব বেশী সময় বাঙালীকে ব্যয় করতে হয় নাই তবে ততদিনে গণমানুষের রক্তস্রোত পদ্মা, মেঘনা আর যমুনা বেয়ে বঙ্গোপসাগরকে রঞ্জিত করে ফেলেছে এবং মূলত এ কারণেই মানুষের মাঝে প্রবল বেগে সৃষ্টি হতে থাকে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের স্পৃহা, সৃষ্টি হয় স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করার অঙ্গিকার। সেই প্রবনতা আবালবৃদ্ধবনিতার মাঝে এমন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে, যার প্রকাশ ঘটে এমনকি সানুদের মত কিশোরদের মধ্যেও।
সানু তখন মাত্র এস,এস,সি পরীক্ষার্থী। কয়েকদিন হয় টেষ্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছিল জোড়েশোরেই কিন্তু এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকারকে যখন পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বুটের তলায় পিষে দেবার চেষ্টা করছিল তখনই জ্বলে ওঠে এ দেশের গণমানুষের প্রাণপ্রিয় জনপদ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশেরই ভুমিপুত্র সানু কোন ভাবেই তার আবেগ, দেশপ্রেমকে বই আর খাতা দিয়ে চাপা দিয়ে রাখতে পারে নাই। স্ফুলিঙ্গের মত ঝলসে ওঠে মাতৃভুমিকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে। হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচারের মুখে পাবনা শহর থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে সুজানগরে। কিশোর তরুণ আর যুবকদের দলে মিশে সানুও হাজির হয় সুজানগর থানা প্রাঙ্গনে অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ শিবিরে। তখন মানুষের চিন্তার যোগসুত্রই ছিল দেশমাতৃকার স্বাধীনতা। গুটিকয় স্বাধীনতা বিরোধী ব্যতিরেকে আপামর জনতার মাঝে তৈরী হয়েছিল ভালবাসার এক অদ্ভুত অপরূপ মেলবন্ধন আর ঐক্যের সীসা ঢালা প্রাচীর, যাকে ভেদ করার শক্তি ছিল না কারও । মানবতার সেই নিদর্শন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। মানুষ যে মানুষের প্রতি কতটা উদার, সহনশীল আর সহানুভূতিশীল হতে পারে তারই এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এদেশের মুক্তি পাগল মানুষ। জীবনের বিণিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যারা ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাদের কাছে সম্পদের প্রতি মায়া ছিল একেবারেই তুচ্ছ। ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণের গতি যখন জীবন উৎসর্গের মহোৎসব সৃষ্টির আবেগ তৈরীতে ব্যস্ত তখনই হানাদার বাহিনীর সুজানগর অভিযানের আগাম বার্তা ছড়িয়ে পড়ল। প্রশিক্ষনরত কিশোর তরুণ আর যুবকরা মিলে সন্ধ্যায় থানায় উপস্থিত হয়ে ওসি সাহেবের কাছে অস্ত্র গোলাবারুদ দাবী করে বসল। ওসি সাহেব তাদেরকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করল এই বলে যে, যে কলা কৌশল তোমরা অর্জন করেছ তা অত্যাধুনিক মারনাস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছে একেবারেই নগন্য। তাদেরকে তোমরা প্রতিরোধ করতে গেলে তোমরা তো পরাজিত হবেই, তোমাদের সাথে সাথে গোটা অঞ্চলের মানুষের জীবনও বিপন্ন হবে। তার চেয়ে বরং তোমরা যারা এখানে প্রাশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলে তাদের উচিৎ ভারতে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে দেশে ফিরে এসে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা।
ওসি সাহেবের উপদেশের মধ্যে যুক্তি এবং বৃহত্তর চিন্তার সন্ধান পেয়ে সবাই বাড়ী ফিরে যাবার জন্যই থানা প্রাঙ্গন ত্যাগ করল বটে তবে সানুর মামাতো ভাইয়ের উৎসাহে পরদিন ভোরেই ভারতের উদ্দেশ্যে কুমারখালীর পথে রওনা হবার সিদ্ধান্ত নিয়েই ওরা বাড়ী ফিরে গেল এবং পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফজরের আযানের সাথে সাথেই বেড়িয়ে পড়বার জন্য সবাই একত্রিত হ’লো। ওরা পাঁচজন যখন সুজানগরকে পিছে ফেলে পদ্মার পাড় ধরে এগুচ্ছে তখনও সূর্য উঁকি দেয়নি। তবে আবছা আলোয় পাঁচজনের সারিটা এগিয়ে চলছে এক অজানার পথে সেটা বেশ পরিস্কারই বোঝা যাচ্ছিল। ওরা জানে না আগামী সময়টাতে ওদের জন্য কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তবুও ওরা চলছে ! ওরা জানে না ওরা বাঁচবে না মরবে ! ওরা জানে না দেশটা স্বাধীন হবে কী হবে না ! ওরা জানে না ওদের উদ্দেশ্য সফল হবে কী হবে না ! তবুও ওরা চলছে ! কারণ ওরা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে চায়। পথিমধ্যে দেশবান্ধব কৃষক ভাইয়েরা কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছিল ওদের অভিপ্রায়। তাই ক্ষেতের বাঙ্গী দিয়েই ওদের সকালের নাস্তার প্রয়োজন টা মিটিয়ে দিল। সূর্যের উত্তাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে চলার গতিও মন্থর হয়ে আসছিল, দৃষ্টিগুলো বার বার ছুঁয়ে আসছিল পদ্মার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া পাল তোলা নাও গুলোকে। জীবিকার অন্বেষায় মাঝি চলছে ঠিকই কিন্তু তার কন্ঠে নাই চিরচেনা ভাটিয়ালীর সুর, ঝাঁকে ঝাঁকে পানকৌড়ি গুলো উড়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু মনে হচ্ছিল ওরাও বড় ব্যথাতুর। ততক্ষণে সূর্যের তলদেশে ওরা ভীষণ ভাবে ঘাম ঝরাচ্ছিল, অবশ্য যাত্রাও প্রায় আপাততঃ শেষের কাছাকাছি, তাই ওরা বেশ উৎফুল্লও। একজন সহযাত্রীর আত্মীয় বাড়ীতে সবাই যখন গিয়ে উঠ্ল তখন পাশের বাড়ীতেও পাবনা শহর থেকে এসে উঠেছে সানুরই প্রতিবেশী দুই সিনিয়র ভাই, যার একজন হাতবোমা তৈরী করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, আর সে কারণেই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে এসে আত্মীয় বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। গোসল খাওয়া সেরে সবার মাঝে দেখা সাক্ষাৎ যখন শেষ হ’লো তখন ওদের পাঁচজনের চেহারাই হতাশায় ভরে গেল। তবে কী এতটা পথ কষ্ট করে আসাটাই বৃথা গেল ! পাবনার সিনিয়র ভাইদের মুখে যখন সবাই শুনল যে, সীমান্ত পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয় তখন আত্মীয়-স্বজনও বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে আপাততঃ বাড়ী ফিরে যাওয়ার পক্ষেই মত দিল। তাই আর অযথা সময় ব্যয় না করে রাতের খাওয়া শেষ করে বিষন্ন মনে বিছানায় গাটা এলিয়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর রইল না। অনিশ্চিত জীবনে ফিরে যাওয়ার দুঃখটা মনের ভেতর একটা বেদনা ছড়িয়ে দিল !

(২)

সুজানগর ফিরে আসার পর থেকে সানুর মনটা সব সময় খারাপই থাকতো, যদিও ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী হানাদাররা সেই সময় সুজানগর আক্রমন করে নাই, কিন্তু বেশী দিন অপেক্ষা করতে হ’লো না। কয়েকদিনের মধ্যেই ওরা সুজানগরে অতর্কিত ভাবে হামলা করে বসল। সানুদের পরিবারও সেই হামলা থেকে রেহাই পেল না। সেই আক্রমনের ভয়াবহ তান্ডব সানু নিজের চোখেই প্রত্যক্ষ করল। মানুষের জীবন যে কত ঠুনকো আর অনিশ্চিত, এই হামলার মধ্য দিয়ে সানু তার সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পেল। যে যে অবস্থায় ছিল সে সেই অবস্থায়ই নিজ নিজ জীবন নিয়ে যে যেদিকে পেরেছে রূদ্ধশ্বাসে শুধু ছুটেছে আর ছুটেছে। ডানে বামে কে আছে কারও দিকে কারও তাকাবারও ফুরসত ছিল না, এমনও হয়েছে ভাই-বেরাদার, বাবা-মাও সন্তানাদির খবর নেওয়ারও সময় পায় নাই।“চাচা আপন জান বাঁচা” কথাটার মানে এতদিনে সানু বুঝতে পারলো ! হায়রে মানুষ ! হায়রে মানুষের জীবন ! সানুরা যখন ওদের গ্রাম ছেড়ে আরও প্রায় তিন মাইল গভীরে পালিয়ে গেল তখন সবাই যেন সম্বিৎ ফিরে পেল। শুধু ফিসফিসানী ছাড়া আর কারও মুখে কোন উচ্চ বাচ্য ছিল না, ততক্ষণে সকালের সূর্য টা কখন যে বেলা এগারোটার কাঁটা ছুঁয়েছে কেউ বুঝতেও পারে নাই। সানুর মা সকালেই চুলোয় ভাত চাপিয়েছিল কিন্তু ভাতের যে কী অবস্থা সে কথা কারও খেয়ালই নাই, যখন সানুর ছোট ভাই ভাতের পাতিল মাথায় নিয়ে সবাইকে খুঁজছিল তখন সবার মনে পড়ল ভাতের কথা ! কী সেই দৃশ্য ! সানুর ছোট ভাইয়ের দু’চোখ বেয়ে ঝরছিল অঝোর ধারায় মহাসমুদ্রের সমস্ত জল ! সেদিন পাষন্ডতম মানুষও চোখের জল না ঝরিয়ে থাকতে পারে নাই ! স্বাধীনতার মূল্য নিরূপণ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা কারো মাঝেই ছিল না, তাই এ দৃশ্যটা ছিল সবার কাছেই বিষদৃশ্য সম ! কান্নাও যেন কান্নাকে সেদিন ভয় পেয়েছিল ! সাজানো গোছানো গ্রাম গুলো পশুরা যখন চোখের পলকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে চলে গেল কেবল তখনই মানুষ প্রাণ ভরে কেঁদে কেঁদে অশ্রু ঝরিয়ে যেন মনের দুঃখটাকে প্রকাশ করে মনটাকে হালকা করার সুযোগ পেল। শুরু হ’লো আপন জনের লাশের সৎকারের আয়োজন ! এভাবেই চুকাতে হচ্ছিল স্বাধীনতার মূল্য ! গ্রাম আর শহরের মাঝে এই যখন ব্যবধান, বাধ্য হয়ে সানুর বাবা-মা তখন অর্দ্ধেক পরিবার নিয়ে শহরের অরক্ষিত বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিল। কারণ সঞ্চিত টাকা পয়সা ততদিনে প্রায় নিঃশ্বেস হতে চলেছে, শহরের ব্যবসা বানিজ্যও স্থবির, তাই জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে অপেক্ষাকৃত বয়োজৈষ্ঠ সন্তানদের গ্রামে রেখেই সানুদের চার ভাই বোনকে নিয়ে ওর বাবা-মা শহরের বাড়ীতে ফিরে এলো। কিন্তু বাড়ী ফিরে এসে যে দৃশ্য দেখল তা কারও কল্পনায়ও ছিল না। ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাঁধাই করা মালামাল, সাংসারিক আসবাবপত্র কোন কিছুই অবশেষ ছিল না কেবল মাত্র ঘর-দুয়ার আর তার ভাঙ্গা-চোরা দরজা জানালা ছাড়া ! সানুর অস্থির চিত্ত যেন বিদ্রোহের বারুদে পরিণত হ’লো। হানাদার পশু ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্পৃহা যেন ক্রমেই অঙ্গিকারে পরিণত হতে থাকল। ও যেন পাগলের মত জীবন উৎসর্গের বাজী ধরতে চায়, ওর রক্ত প্রবাহে ঝড় তুলেছিল কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহের আগুন সম গান আর কবিতা এবং আপেল মাহমুদের একটি ফুলকে বাঁচাবার জন্য যু্দ্ধ করার অঙ্গিকার। কিন্তু কিছুতেই কোন উপায়ান্তর খুঁজে পাচ্ছিল না। এমনি সময় সন্ধান পায় বন্ধু বরুনের, যে নাকি ইতোমধ্যেই ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছে। অবশ্য প্রথম অবস্থায় ও স্বীকারই করতে চায়নি ভারতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হবার কথা। ওর জন্য এটাই ছিল স্বাভাবিক, পরে অবশ্য সানুকে বিভিন্ন ভাবে বাজিয়ে নিয়ে ভারতে ফিরে যাবার সময় সঙ্গে নিয়ে যেতে রাজী হয়। সানুর সঙ্গী হবার জন্য ওর আরও তিনজন বন্ধু সিদ্ধান্ত জানালে সানুও ভীষণ খোস মেজাজে সেই কাঙ্খিত সময়ের অপেক্ষায় দিনাতিপাত করছিল। সানু নিয়মিত ভাবেই বরুনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল, বরুনও একদিন সানুকে পরের দিনই ভারতে যাবার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল। সানুর মাঝে শুরু হয়ে গেল কঠোর গোপণীয়তার মধ্য দিয়ে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। বরুনেরই প্রতিবেশী রফিকের বাড়ীতে রাত যাপনের ব্যবস্থা হ’লো, সেখানে আসবে কামাল আর রইচ। প্রতিসন্ধ্যার মত সেদিনও সন্ধ্যায় রইচদের বাড়ীতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবর শোনার নাম করে সানু বেড়িয়ে গেল বাড়ী থেকে। এ ব্যাপারে সানুর বাবার বরাবরই সায় ছিল, কারণ তিনিও খবরা খবর জানার জন্য ভীষণ উদগ্রীব থাকতেন কিন্তু তিনি ঘুর্নাক্ষরেও জানতে পারেন নি যে সানু খবর শোনার নাম করে নিখোঁজ হয়ে যাবে ! সাথে ছিল পরিধানের পোশাক ছাড়া মাত্র বিশটি টাকা আর একটা গামছা ও জামা। রইচদের বাড়ী গিয়েই সানু প্রথম ধাক্কাটা খেল, যেটার জন্য সানু মোটেও প্রস্তুত ছিল না। টিপ টিপানী একটু একটু বৃষ্টি হচ্ছিল, বৃষ্টির মধ্যেই সোজা গিয়ে উঠল রফিকদের বাড়ী। কথামত রফিক আর কামালকে পেয়ে রইচের অভাব ভূলে গেল সানু কিন্তু রইচের না যাবার সিদ্ধান্তটা মনে হ’লো ওদের দু’জনকেও হতাশ করলো যদিও তখন মুখে কিছুই ওরা বলল না। ফজরের আযানের আগেই বরুন আর আলমকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার দায়িত্বটা ছিল সানুর উপর, তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ল ফলে সময় মত ঘুম থেকে উঠতে মোটেও কষ্ট হয়নি সানুর, যদিও মনের মাঝে যথেষ্ট চিন্তা ছিল। সানু ঘুম থেকে উঠে রফিক আর কামালকে ডেকে তুললো বটে কিন্তু লাভ হ’লো না। কারণ ওরা উঠেই সানুকে না যাবার কথাটা জানিয়ে দিল। সানু কিন্তু মোটেও ভেঙ্গে পড়ল না তবে ভীষণ দুঃখ পেল আর রাগও হ’লো কিন্তু প্রকাশ না করে সকালের কাজ সেরে রফিকদের বাড়ী থেকে বেরুতে বেরুতে ফজরের আযানটা পরেই গেল। মেঘলা আকাশের ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত তারপর আবার টিপ টিপানী বৃষ্টি। রফিকদের বাড়ী থেকে বেড়িয়েই বরুনদের ঘরের দরজাটা ভাল করে একবার দেখার চেষ্টা করল। ডাকবাংলোর গেটে দাঁড়ানো হানাদার বাহিনীর সেন্ট্রি, যেখান থেকে বরুনদের ঘরের দরজাটা ভাল করেই দেখা যায়। তবে বৃষ্টি ভেজা আঁধারী রাতের কারণে কয়েক গজ দুরের কোন কিছুই চোখে পড়ছিল না এটাই ছিল আশার কথা। আল্লাহর উপর ভরসা করে পা টিপে টিপে এক সময় ঠিকই বরুনদের দরজায় পৌঁছে গেল সানু। কিন্তু ডেকে তোলাটাই ছিল ভীষণ ঝুঁকির কাজ। কারণ জোড়েশোরে ডাকাটা ছিল খুবই বিপজ্জনক। দরজায় অনেকক্ষণ ছোট ছোট করে টোকা দেওয়ার পর ঘরের মধ্যে একটু নড়াচড়ার আভাস পাওয়া গেলেও কোন জবাব এলো না। আরও কয়েকবার ডাকার পর অনুচ্চস্বরে প্রশ্ন এলো, কে ? নাম বলে উত্তর দেওয়ার পর ভেতর বাড়ী যাওয়ার গেট খোলা আছে বলে ভেতরের দরজায় যেতে বলল। মনটা বেশ হালকা হয়ে গেল সানুর। তারও অনেকক্ষণ পর দরজাটা যখন খুলল তখন নিজেকে কিছুটা বিপদমুক্ত মনে করল। সানুকে একা দেখে কেন যেন ওরা মোটেও অবাক হ’লো না বরং নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল। সে সময় ওদের কাছে মাত্র চারটা গ্রেনেড আর দুইটা বেয়োনেট ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র ছিল না। নিরবে শুধু মোমের আলোয় এক ঝলক দেখে নিল সানু ওগুলোকে কাপড়ের একটা পোটলাতে ভরতে। আস্তে করে দরজাটা ভিড়িয়ে দিয়ে বাড়ীরই কাউকে দরজা বন্ধ করে দিতে বলে ওরা তিনজন বেড়িয়ে গেল বৃষ্টির পানি মাথায় নিয়ে রফিকদের বাড়ীর সামনে দিয়ে মজুমদার পাড়া হয়ে বড় রাস্তা পাড়ি দিয়ে মক্তবের পিছন দিয়ে সোজা আওতাপাড়ার রাস্তায়। তখনও রাস্তা ঘাট অতটা পরিস্কার হয়নি তবুও সানু নিজের অজান্তেই একবার দেখে নিল শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত মাতৃভূমির শেষ দৃশ্যটা। পেছনে পড়ে রইল বাবা-মা, ভাই-বোনের বাঁধন হারা মায়ার সংসার।

(৩)

আওতাপাড়ায় দিনের বাকী অংশ আর পরের দিনটা কাটিয়ে ওরা আরও বড় একটা দলের সাথে সন্ধ্যায় রওনা দিল জলঙ্গী অপারেশন ক্যাম্পের উদ্দে্শ্যে। পথিমধ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ঢাল পাড়ি দিয়ে পদ্মাপাড়ের একটা মসজিদে সাময়িক বিরতি দিয়ে নিশিরাতে সবাই চড়ে বসল একটা মাঝারী গোছের ছই তোলা নায়ে। নিঃশ্বব্দ আঁধারি রাতে জোনাকীর সঙ্গী হয়ে তর্ তর্ করে বয়ে চলল একদল মুক্তিসেনানী। নিয়মিত লগি বৈঠা আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ ছাড়া পাথারের মাঝে আর কোন শব্দ নেই। তবে মাঝে মধ্যে হানাদার বাহিনীর গানবোটের আওয়াজের সাথে লুকোচুরি করে করে জীবনকে বাজী ধরে এগিয়ে চলা। এক সময় পুবের আকাশটা যখন আঁধার পেরিয়ে আলোর পূর্বাভাসের জানান দিল ততক্ষণে ওরাও ভিড়ে গেল জলঙ্গী অপারেশণ ক্যাম্পের ঘাটে। জীবনের প্রথম বিদেশের মাটিতে পা রাখল সানু তাও আবার বেড়াতে নয়, রীতিমত দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করার প্রস্তুতি স্বরূপ প্রশিক্ষণ আর অস্ত্র নিয়ে যাবার প্রয়োজনে ! একেবারেই নতুন পরিবেশ। সকালের সকল আবশ্যকতা সেরে নাস্তা খেয়ে শুধুমাত্র কৌতুহল মিটাতে একা একাই জলঙ্গী বাজারে বেশ কয়েকটা চক্কর দিয়ে দেশের মাটির গন্ধের সাথে ভারতের মাটির গন্ধের ফারাকটা বোঝার চেষ্টা করল, কিন্তু ভারতের মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী আর বাঙলাদেশের পাবনা বা সুজানগরের মাঝে সানু তেমন কোন ব্যবধান খুঁজে পেল না। ফিরে এল ক্যাম্পে। ক্যাম্পে ফিরতেই বরুন বুঝিয়ে দিল কিভাবে জলঙ্গী থেকে কেচুয়াডাঙ্গা যেতে হবে। বরুনের নিকট থেকে দিক নির্দেশনা নিয়ে সানু ঠিকই পৌঁছে গেল কেচুয়াডাঙ্গা ট্র্যানজিট ক্যাম্পে। একটা দোতলা গার্লস স্কুল ও তার সামনের বিশাল চত্বর এবং রাস্তার ওপাশেরও একটা বড় মাঠ নিয়েই গড়ে উঠেছে ক্যাম্পটি। রাস্তা ছেড়ে মাঝ মাঠে আসতেই প্রায় নিগ্রোর মত একজন বাঙালী এসে সানুর পথ আগলে দাঁড়াতেই থমকে গেল সানুর পথ চলা। দেখতে দেখতে সানুর চারপাশে গড়ে উঠল একটা মানব বৃত্ত, ঠিক বানর নাচ দেখার জন্য মানুষ যেমন বানর কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলে। শুরু হ’লো জিজ্ঞাসাবাদ, প্রশ্নের পর প্রশ্ন ! এরকম একটা নতুন অভিজ্ঞতার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে সানু কেমন যেন থতমত খেয়ে গেল ! কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না আসলে ওর কী করা উচিৎ। বিশেষ করে সানুর বাড়ী পাবনার নকশাল অধ্যুসিত এলাকায় হওয়া এবং খেলাধুলার সুবাদে তাদের সাথে ওঠা বসার দায়ে সানুকে যখন নকশাল বলে সাব্যাস্ত করেই ফেলল, তবে এটা ঠিক যে পাবনার নক্শাল পন্থীরা ছিল পাবনার খেলার মাঠের রাজা। বিশেষ করে ক্রিকেট, বডি বিল্ডিং, ফুটবল এবং এ্যাথলেটিক্সে। আর সানুও একজন উঠতি ক্রিড়ামোদি হওয়ার সুবাদে তাদের সাথে কলেজ মাঠের সাক্ষাৎটা ছিল অবশ্যম্ভাবি। তাই বলে শুধু মাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সানুর দেশপ্রেমকে নিয়ে ছেলে খেলা সানুর মোটেই পছন্দ হলো না কিন্তু কিছু করারও ছিল না। সানু পরিস্কার বুঝতে পারছিল ও একটা ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার, শুধু অপেক্ষা করছিল পরবর্তী অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখার জন্য। যখন ওর কাছ থেকে কথা আদায়ের জন্য রাজাকারের চিড়ানো লাকড়ি হাতে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে সানুর শার্টের কলারটা মুঠোর মধ্যে নিয়ে নিল সেই ভীমদর্শী কুঁচ কুঁচে কালো মানুষটা ঠিক তখনই সিনেমার বিশেষ দৃশ্যের মতই মানব বৃত্ত ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল সানুরই সহপাঠী স্বপন ! ওর আপন মামা তখন পাবনার প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু কী আশ্চর্য এত কিছুর পরও সানুর মধ্যে কোন ভীতির সঞ্চার না হওয়ায় সবাই অবাক হ’লো বৈকি ! স্বপন সব কিছু জানার পর সেই ভীমদর্শী মানুষটাকে প্রায় ব্যঙ্গাত্বক সুরেই বলে বসল, “পারলে নকশালের আঁখড়ায় গিয়ে কিছু করে দেখান।” কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সানুকে নিয়ে সোজা স্কুল বিল্ডিংয়ের দোতলার বারান্দায় উঠে গিয়ে ওর বিছানার পাশে রিলিফের কম্বল দিয়ে সানুর জন্য বিছানা করে দিতে দিতে বলল, ওনাকে চিনিষ না ? উনিতো পিনুর বাবা ! পিনু সানুদের এক ক্লাস নিচে পড়ে, তবে খেলার মাঠের ভাল বন্ধু। ক্যাম্পের শুরু থেকেই আছেন উনি কিন্তু ট্রেনিং নিয়ে দেশের ভেতরে যেতে রাজী নয়। এখানে বসে বসে শুধু মুখ দিয়ে গুলি ছোঁড়ে আরকি ! পরে আস্তে আস্তে কাফি, সেলিম, এলাকার সিনিয়র ভাই মুকুল, সফি ও অন্যান্যের সাথেও দেখা হয়ে গেল কিন্তু মুকুল বাদে সবাই ট্রেনিংয়ে যাবার জন্য ইতোমধ্যেই তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। শুনে মনটা কিঞ্চিত খারাপ হয়ে গেল ! তারপরও বেশ কয়েকটা দিন ভালই কাটলো সানুর। সত্যি সত্যি যেদিন স্বপনদের ট্রেনিং ক্যাম্পে নিয়ে যাবার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর লরীগুলো চত্বরে এসে দাঁড়ালো সেদিন সানু খুবই মুষড়ে পড়েছিল এবং স্বপন লরীতে ওঠার সময় দু’বন্ধু পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় কেঁদেছিল। বাধ্য হয়ে সানুর মহল্লার সিনিয়র ভাই মুকুল সানুকে নিজের সাথে দেরাদুনে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সানুকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছিল, আর সানু অশ্রু সজল চোখে তাকিয়ে রইল স্বপনদের চলে যাওয়া লরীর দিকে।

(৪)

স্বপনদের ট্রেনিংয়ে চলে যাবার পর অবশ্য বেশী দিন সানুদের অপেক্ষা করতে হয় নাই। ঠিকই একদিন সারি সারি সামরিক কনভয় গুলো ক্যাম্পে এসে হাজির। যথারীতি সদা প্রস্তুত মুক্তিযোদ্ধারা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই গোছগাছ করে ঝটপট উঠে পড়ল গাড়ীতে। ছুটে চলল সামরিক কনভয় গুলো কলকাতার দিকে। পিছে পড়ে থাকল বেশ কিছুদিনের পরিচিত কেচুয়াডাঙ্গা ট্র্যানজিট ক্যাম্প।
কেচুয়াডাঙ্গা বাজারের চা-মিষ্টির দোকানী ভগবান দা’র কথা মনে থাকবে, মনে থাকবে তার মিষ্টি ব্যবহার আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতির কথা। বাংলাদেশের মফস্বল শহর থেকে আসা অরাজনৈতিক সাধারণ পরিবার, রাজনৈতিক পরিবারের অশিক্ষিত, অর্দ্ধশিক্ষিত, শিক্ষিত, ছাত্র, অছাত্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের আড্ডা ছিল এই ভগবান দা’র মিষ্টির দোকানে। কখনও তাকে বিরক্ত হতে দেখা যায়নি। যদিও সবাইকে একই রকম মনে হয়নি তবুও গড় পড়তায় জয় বাংলার মানুষের প্রতি তাদের একটা সমর্থন ও সহানুভূতি কাজ করতো। গাড়ীতে উপবেষ্টিত সবারই চোখে মুখে এক দৃপ্ত শপথের প্রতিচ্ছায়া। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনে এক একজন সাহসী বীর ! কারও মাঝে ভীতির কোন চিহ্নমাত্র নেই। সবারই লক্ষ্য উদ্দেশ্য একটাই, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা। হাওড়া ষ্টেশনে লরীগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে গেল, একে একে নেমে এল জাতির সূর্য সন্তান। দেরাদুন গামী ট্রেনটা ইতোমধ্যেই প্লাটফরমে এসে দাঁড়িয়ে আছে তবে ছাড়তে বেশ কিছুটা বিলম্ব হবে। এই ফাঁকে সবাই যার যার মত করে যতটা সম্ভব ফ্রেশ হবার চেষ্টায় ব্যস্ত। ঠিক তখনই ঘটে গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা ! প্রবাসী বিপ্লবী সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পুত্র, যিনি একজন জাঁদরেল ছাত্রলীগ নেতাও বটে, হন্ত দন্ত হয়ে দু’জন কিশোর কে সঙ্গে নিয়ে এসেই গ্রুপের দায়িত্ব প্রাপ্ত সানুর মহল্লার সিনিয়র ভাই মুকুল কে গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য নির্দেশ দিলে পরিবেশটা বেশ ভারি হয়ে গেল। কেননা ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য ট্রেনিং সেন্টার থেকে নির্দেশিত হয়ে কেবল মাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকেই নিয়ে আসা হয়েছে। এখন অতিরিক্ত দু’জনকে অন্তর্ভূক্ত করতে হলে অবশ্যই অন্য দু’জনকে দল থেকে বাদ দিতে হবে, এর কোন ব্যত্যয় ঘটানো চলবে না। মন্ত্রী পুত্রের চাপাচাপিতে মুকুলেরও চ্যাপ্টা হবার দশা ! শেষ মেষ সিদ্ধান্ত হ’লো দলে যদি কোন অরাজনৈতিক সদস্য থাকে তাদের দু’জনকে বাদ দিয়ে নবাগত দু’জনকে দলভূক্ত করতে হবে ! অবশ্য দেরাদুনে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির পূর্বশর্তই হচ্ছে, ছাত্রলীগ অথবা আওয়ামী লীগ অথবা দলের যে কোন অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে হবে !(ভারতের কেবলমাত্র দেরাদুনেই মুজিব বাহিনী/লিবারেশন ফোর্স/ পলিটিক্যাল কমান্ডোদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ছিল) তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের মোটেই বেগ পেতে হলোনা। কারণ গ্রুপের দুই সদস্য সানু আর মতিন অরাজনৈতিক হলেও গ্রুপের দায়িত্ব প্রাপ্ত মুকুলের মহল্লার ছোট ভাই হিসেবেই তাদের নেওয়া হয়েছিল কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি তাদের প্রতিকুলে থাকায় মুকুলের আর কিছুই করার থাকলো না। অগত্য মধুসুদন ! ফিরে চল আবার কেচুয়াডাঙ্গা ! ট্রেনও ছাড়বার সময় হয়ে এলো, সানু আর মতিন পরস্পর চোখাচোখি হতেই একটা বেদনার ছায়া এসে ওদের চেহারা মলিন করে দিল ! কিন্তু সানুও বার বারের পরাজয়কে পরাজিত করার আকাঙ্খাকে ধারণ করেই ফিরে এলো কেচুয়াডাঙ্গায় এবং মুক্তিযোদ্ধা হবার দুর্নিবার সাধকে সাধন করার প্রত্যয়ে পরবর্তী ব্যাচেই শিলিগুড়ির পানিঘাটার এফ,এফ(ফ্রিডম ফাইটার)ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফিরে এলো দেশের অভ্যন্তরে। একের পর এক বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নিজের দেশপ্রেমকে প্রমানিত সত্যে পরিণত করেই বীরের বেশে, বীর মুক্তিযোদ্ধার বেশে ফিরে এলো মায়ের বুকে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন