বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৮ আগস্ট ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৩২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

আর যাবো না

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

সাঁকো

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

আঁধারের ছায়া

শ্রম মে ২০১৫

কোমলতা (জুলাই ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৩২ নিজেকে ফেলে অন্য নিজে

রবিন রহমান
comment ৫  favorite ০  import_contacts ৪৮৭
এক

গরমে ঘাম মুছতে মুছতে রেহা রাস্তা দিয়ে হলের দিকে যাচ্ছিল, হঠাৎ রেহার চোখ যায় ফুলমনির দোকানের দিকে। ফুলমনি আজ অনেক বছর হলো দোকান চালাচ্ছে। নানা রঙের চূড়ি, ক্লিপ, আয়না এগুলো তার দোকানের পণ্য। ছাত্র ছাত্রী পথিক তার দোকানের ক্রেতা। হলে নিজের কোনো আয়না নেই। তাছাড়া নতুন জায়গা, নিজেকে একটু পরিপাটি রাখা দরকার। একটা আয়না ব্যাগে থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। ফুলমনির দোকান থেকে একটা আয়না কিনে তাতে চোখ রাখে রেহা। বাড়ি থেকে আসতে শেষ যে আয়নাতে চোখ রেখে ছিল সেখানে যে রেহা ছিল এ আয়না তে যেন অন্য এক। রোদে পোড়া, কয়েক দিনের ঘুমহীন কালন্তির ছাপ স্পস্ট ফুলমনির আয়নার যে রেহা তার মুখের ছাপে। মুখটা ব্যাগের বোতলে থাকা পানি দিয়ে ধুয়ে আবার একবার আয়নায় মুখ রাখে রেহা। তারপর আয়নাটা ব্যাগে ঢুকিয়ে আবার চলতে শুরু করে।

দুই

আজ স্মম্মান ডিগ্রি পাবার চার বছরের ক্যাম্পাস জীবনের প্রতিদিনি প্রায় এজায়গাটাতে বসেছে। লাইব্রেরির পেছনের পাকা করা জায়গাটাতে হিজল তলাতে বসতে ভালোই লাগে। আফজাল একসাথে একি ব্যাচের ছাত্র। একদিন যে কিনা ঢোলা একটা জামা আর প্যান্ট ছাড়া কিছু ছিলনা বললে চলে আজ তারি কিনা ফিট করা কাপড়ে সুট, পায়ের সু চকচক করে। চোখের চশ্মার ফ্রেমটা পরিবরতন হয়ে গেছে। ভালো চাকুরীর সাথে নতুন ফ্লাট ও পেয়ে গেছে। দুজনে বিয়ে করেছে কিছুদিন হলো। আজি ফ্লাটে ওঠার দিন ঠিক হবে। একদিন যে কিনা রেহার মুখটা দেখবে বলে রেহা বারবার আয়নায় মুখ রাখতো এখন সেই আফজাল কিনা রেহার দিকে তাকাবার সময়ি পায় না। আফজাল কে রেহা দেখতে পাচ্ছে। বন্ধুদের সাথে কথা বলছে। আফজাল আসবার আগে একবার আয়নাটা বের করে মুখটা দেখে নিতে চায় রেহা। ফুল বানুর আয়নার প্রথম দেখা সেই রেহা আর এ রেহা যেনো একদম আলাদা। মাটির কলসের পেটের মত ফোলা চোয়াল, চুলগুলো আর আগের মত নেই। পাল্লারের ক্রিত্তিম তাপে রংটা বদলে যেন লাল হয়ে গেছে। টিপটার রংটাও যেন গড়ো হয়েছে। ঢোলা কামিজের মলিন কাপড়ের বদলে নতুন শাড়ির ভাজ দেখা যাচ্ছে। আয়না তে চোখ রাখতে আফজালের আসটা দেখতে পায় নি। আফজাল এসে রেহার হাতের আয়নাটা কেড়ে নিয়ে এক টা দামি মবাইল হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে
আয়নাটা এখনো ফেলে দাওনি তুমি। ফোনের ডিসপ্লের কাচটা দেখো তোমার এ আয়নার চে অনেক পরিস্কার। ওটা দিয়েই এখন থেকে তুমি নিজের মুখটা দেখবে। নিজেকে একটু পাল্টাও রেহা। কথা টা বলে আফজাল আয়নাটা পাশের ময়লা ফেলার স্তুপে ছূড়ে ফেলে।

তিন

মাঝ দুপুর, লিটু একটা গাড়ীর নিচে ইন্জিন কিভাবে বাতাস ছাড়ে পরীক্ষা করছিল, গাড়ীর ড্রাইভার এসে ধমক দিতে প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। সূযের আলো যেনো আয়নাটার উপর চেপে বসেছে। আলোর চমক লিটুর চোখে লাগে। লিটু আয়নাটা তুলে তাতে মুখ রাখতে দেখতে পায় রোদে পোড়া কালিতে মাখা মায়ের কাছে শোনা ভূতের এক রুপ। ওতো মানুষ, তাহলে আয়নাতে এমন দেখাচ্ছে কেন। একটা ট্যাপের পানি দিয়ে মুখ পরিস্কার করে আবার আয়না তে মুখ রাখে। মুখের কিছু অংশ সাহেব বাড়ির ওর বয়সি অর্নবের মত লাগছে, কিন্তু কিছু অংশে যে এখনো কালি লেগে আছে ওর। যেভাবে হোক কালি তুলতে হবে, কাজ খুব সহজ। বড় রাস্তার মোড়ে সাইকেলের ওয়ার্কসপে গিয়ে রহমত চাচার কাছ থেকে কালি তোলার তেল নিয়ে পরিস্কার করে ফেললে সাহেব হয়ে যেতে পারবে । তাই সময় নষ্টো না করে রহমত চাচার দোকানে গিয়ে দাঁড়ায় লিটু।
কাকা একটু তেল দেন, কালি তুলবো ।
ওই ছোকরা, পথে পথে ঘোরস সারাদিন, ওহন আইছস তেল লইতে? মাঙনা কি তেল দেয়ন যায়। ওই সাইকেলটা পরিস্কার করেদে, তেল পাবি ।
লিটু কাপড় নিয়ে সাইকেল পরিস্কার করতে সুরু করে, মাঝে মাঝে ছেঁড়া প্যান্ট এর পকেটে
বারবার হাত দিতে থাকে লিটু, আয়নাটা যত্ন করে পকেটে রেখেছে লিটু। সাইকেল পরিস্কার শেষে উঠে দাঁড়ায় লিটু। এবারে তেল দিতে না করেনা রহমত মেকার। কিন্তু জিজ্ঞাস করে তেল দিয়ে কি হবে। লিটু উত্তর দেয় মুখের কালি পরিস্কার করে সাহেব হব। রহমত মেকার আবার বলে ওঠে আমার এখানে কাজ করবি ? আমি তোকে সাহেব বানিয়ে দেবো, আমার দোকান দেখাশোনা করবি, আমার ছেলের সাথে সময় কাটাবি। লিটু রাজি হয়ে যায়। তারপর সুরু হয় দশ বছরের পথশিশু লিটুর সাহেব হবার গল্প। দোকানের প্রায় সব কাজি ওকে দেখতে হয়। এমন কি রহমত মিয়ার দোকানের ও বাড়ীর বাজার থেকে অনেক কাজি করতে হয় ওকে। প্রতিদিনি কাজ শেষে ঘুমাতে যাবার আগে আয়নায় চোখ রাখে লিটু। আয়নাটা পাবার প্রথম দিনের সেই লিটূর চেহারা আর আজকের লিটূর চেহারার অনেক পরিবর্তন। এখন লিটুর হাত এতবড়ো হয়ে গেছে যে হাতের কালি আর মুখে লাগে না। তাই সেটা নিয়ে ভাবার প্রোয়জন হয়না লিটুর।

চার

আজ রহমত চাচা তার ছেলে রিংকু কে নিয়ে এয়ারপোর্ট এ গেছে। রিংকু দেশের বাহিরে উচ্চতর ডীগ্রি নিতে যাচ্ছে। লিটুকেউ রহমত মিয়া আজ একটা গুরুত্তপুর্ন কাজ দিয়ে গেছে। দেশের বাহির থেকে আসা সাইকেলের পার্সের চালান বুঝে নেবার দায়িত্তো লিটূর। চালান বুঝে নিয়ে গাড়ি থেকে দোকানে ঢোকাতে একটা বাক্সু হাতে তুলতে লিটু থমকে দাঁড়ায়। সাইকেলের টীউবের বাক্স সেটার ভার এত হবে কেন, কৌতুহলি হয়ে লিটু বাক্সটী খুলে একটা টিউব হাতে নিতে চোমকে ওঠে। সোনার বার গুলো চকচক করছে, লিটূর বুঝতে বাকি থাকে না তার মহাজন রহমত মিয়ার দুম্বরি ব্যাবসা আছে। এটাও বুঝতে পারে সাইকেলের দোকানের ব্যাবসা দিয়ে কিভাবে এত অর্থ সম্পদ্ এর মালিক হয়েছে রহমত মিয়া। চোরাচালানির মাধ্যমে সে এত ধনি হয়েছে। রহমত মিয়াতো ওকে সাহেব বানাবে বলে কথা দিয়েছিল সে তো তার কথা রাখেনি, দোকানের এক কর্মচারী ছাড়া ওকে আর কিছু ভাবে না সে। আর ভাবার সময় নেই লিটুর কাছে। রহমত মিয়া যেকনো সময় ফিরে আসবে। নিজের কাঁধে ঝোলানো ঝুলিটা কাঁধে ঝুলায় লিটু। এর মধ্যেই আছে তার সাহেব হবার আশা জাগানোর আয়না টা, তার সাথে জায়গা করে আছে একটা । দ্রুতো বাক্সটা নিয়ে রেলইস্টেশনের দিকে রওনা হ্য় লিটু। পথে দোকান থেকে একটা ব্রিফকেস কিনে সোনার বার গুলো তাতে সাজিয়ে নেয়। গায়ের পোষাক পাল্টীয়ে সাহেব দের মত পোষাক পরে নেয় লিটু । যে শহর লিটুর কালিঝুলি মাখা ভুত রুপ দেখেছে সেই শহরের মানুষ ওকে সাহেব হতে দেবেনা। তাই এ শহর ছেড়ে অন্য কোন শহরের উদ্দেশ্যে যাবে বলে ট্রেনে উঠে দাড়াতে ট্রেন ছুটে চলে। তখন ট্রেনটি একটা নদীর ওপর ব্রিজে কান ফাটানো শব্দ করে ছুটে চলেছে। লিটু দেখতে পায় ট্রেনের টিটি ছুটে আসছে ওর দিকে। লিটূর গায়ের পোষাক আর হাতের ব্রিফকেস এর সাথে কাঁধের ঝোলাটা সাহেবি ভাবের মধ্যে একটা প্রশ্ন বোধক চিহৃ তৈরি করে । টিটি যদি প্রশ্নটি করে ফেলে। হঠাৎ লিটূর সাহেবি বুদ্ধি কাজ করে মাথায়। বাম হাতটা দিয়ে কাঁধের ঝোলাটা টেনে নিয়ে নদীর উপচে পড়া পানিতে ঝোলাটা ছুরে দেয়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন