বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৮ আগস্ট ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

২.৭৩

বিচারক স্কোরঃ ০.৯৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

আর যাবো না

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

সাঁকো

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

নিজেকে ফেলে অন্য নিজে

কোমলতা জুলাই ২০১৫

শ্রম (মে ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৭৩ আঁধারের ছায়া

রবিন রহমান
comment ৫  favorite ০  import_contacts ৪২৪
ভোর থেকে রা¯—ার ধারে বসে ছিলো ইস্কান্দার। গায়ের দুর্বলতা বুঝতে পারছে সে। চুলের রঙদেখে বয়স আন্দাজ করা যায়। আজ কাজ না পেলে না খেয়ে থাকতে হবে তাকে। যে পায়ের উপর ভর করে পাকি¯—ানিদের বির“দ্ধে যুদ্ধ করেছে, সেই পায়ে কিনা আজ থুরথুরে কাঁপন। গত রাতে খাওয়া হয়নি বললে চলে। একটুকরো র“টি আর পানি। বয়স হয়েছে দেখে কেউ আর কাজে নিতে চায় না। দেখতে দেখতে ইস্কান্দারের পাশে যারা বসে ছিলো তাদের সকলেই প্রায় কাজ পেয়ে গেছে। কোঁদাল, কা¯ে— আর ঝাঁপি টা সামনে নিয়ে বসে থাকতে থাকতে সূর্যটা একদম মাথার উপর উঠে আসে ইস্কান্দারের। আর বসতে পারে না সে। উঠে দাঁড়ায়, ব¯ি—র দিকে হাঁটা দেয়। পেটের খুদা এতটা দুর্বল করে দিয়েছে তাকে যে হাঁটতেও পারছে না। কিন্তু স্পষ্ট কানে শুনতে পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের গান শে­াগান আর নানা বক্তিতাতে মুখোরিত হচ্ছে চারিদিক। হঠাৎ ইস্কান্দারের চোখ আনন্দে নেচে ওঠে। আয়নাল ভাই, মুক্তিযুদ্ধের ওর সেক্টরের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলো সে। এখন রাজনীতি আর তোষামদে হয়ে অনেক অর্থের মালিক না কি সে। কিন্তু এ কি, তার পাশে মাহাতাব ব্যাপারি যে। মাহাতাব ব্যাপারি কে কে না চেনে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় এ শহরে ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় যতটুকু পারছে অর্থ আর জোতজমি নিজের করে নিয়েছে সে। তাছাড়া তোষামদি কাজ আর অর্থের জোড় দেখিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে সে দেশে হর্তাকর্তা হয়ে চলে ফেরে। ¯^াধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান, মেজবানি আয়োজন, নানা রকমের লোকজনের সমাবেশ। নাকে সুগন্ধি চালের গন্ধ, মনের আত্মতৃপ্তি সেও তো মুক্তিযুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলো। আর আয়নাল ভাই যেহেতু আছে সেহেতু ভেতরে যেতে কষ্ট হবে না। ধীর পায়ে কোঁদাল কা¯ে— আর ঝাপি টা একটা জায়গায় রেখে পাশের টিউবয়েল থেকে হাত পা ধুয়ে ভেতরে যাবে বলে আগায়। দূরে দেখা যাচ্ছে আয়নাল ভাই সকলের সাথে কথা বলছে। হঠাৎ কেউ একজন হাত চেপে ধরে বলে ওঠে: এই মিয়া, আপনি কি দলের লোক। এই পোষাকে কোন লোক ভেতরে ঢোকা যাবে না। মাহাতাব ব্যাপারির চোখ এরায়নি ব্যাপার টা। এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সামনে। গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, গায়ের রঙটাও টকটক করছে। চুলের সেকি বাহারি রঙ টুপির নিচ দিয়ে বের হয়েছে। রোদে তো কোন দিন বাহিরে যেতে হয় না তার। সাগরেদ দের দিয়েই করিয়ে নেই যা করবার।আয়নাল ভাই ও তাকিয়েছে ওর দিকে। কিন্তু না, কোন কথা বলছে না সে। স্থির দাঁড়িয়ে দেখছে। মাহাতাব ব্যাপারি হাতের তর্জনি উঁচিয়ে বলে ওঠে: দূর কর ব্যাটারে। নাপাক, বেয়াদপ লোক, চুরি করতে ঢুকেছে এখানে। একদম দূর করে দিয়ে আই আমার চোখের সামনে থেকে। দেখতে দেখতে আয়নাল ব্যাপারির মতো দুজন যেনো ইস্কান্দার কে ধরে শূন্যে তুলে নেই। জীবন জীবিকার যুদ্ধের শেষ অস্ত্র কোঁদাল, ঝাপি আর কা¯ে— টা ওখানেই পড়ে থাকে।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন