বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৮ আগস্ট ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ১৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০২

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

আর যাবো না

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

সাঁকো

ঘৃনা আগস্ট ২০১৫

নিজেকে ফেলে অন্য নিজে

কোমলতা জুলাই ২০১৫

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০২ দেহ

রবিন রহমান
comment ৫  favorite ২  import_contacts ৬৭১
শায়লা বাতাসের গায়ে ভর করে ছুটে চলেছে। রাত তখন মধ্য হবে, নিস্তব্ধ প্রকৃতি। লোকালয় এ বন থেকে অনেক দূর। লোকলয় পাশে কোথাও হলে ও এই মাঝ রাতে শায়লার মতো ভূত প্রেত না হলে হয়তো কেও জেগে থাকতো না । বনের গাছ গুলোও যেনো ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ শায়লার কানে ভেসে আসে একটা পুরুষ ভূতের কান ভারি করা কান্নার শব্দ। সাথে পানিতে শব্দ, যেনো কেও পানিতে ঝাপাঝাপি করছে। শায়লার খুব কৌতূহল যাগে। যদিও সময় খুব কম। নারী ভুতদের সভা শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। পূর্ব পারে বাঁশবাগানে হয়তো এখন প্রায় সকলে এসে উপস্থিত হয়েগেছে।শায়লা কন্নার বিষয়টা না দেখে যাবেনা। ঝোপ পেরিয়ে তালগাছ গুলোকে পিছে ফেলে শ্যাওড়া তলার বড় খাল টাতে এসে পৌছায় শায়লা। এসে দেখে সেখানে ওরি মতো একটা পুরুষ ভূত পানিতে অবিরত ডুবদিয়ে কি যেনো খুঁজছে। আর আর্তনাদ করে কাঁদছে। শায়লা কিছু সময় দাঁড়িয়ে দেখে , তারপর আস্তে আস্তে ভূতটার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। বলে:
কি হয়েছে, কাঁদছেন কেনো ।
দেহ, আমার দেহ।
দেহ মানে । আপনি তো একজন ভূত, আপনার দেহ এলো কোথা থেকে।
দ্রুত পানিতে একটা ডুব দেয় মোটকু মামু, যে এখন এই শ্যাওড়া আর দিঘীর ভূত। কিছু সময় পরে পানি থেকে উঠে এসে হাঁপাতে থাকে। গায়ের সাথে তখনো লেগে থাকা পানির মেছো ভূত ছাড়ায়। তারপর বাতাসের একটা অংশ ড্রাই ক্লিনারের মতো ব্যবহার করে গায়ের পানি পরিষ্কার করতে করতে বলে:
শুনবে সে কাহিনী, শুনবে।
শায়লা : ঠিক আছে বলুন শুনি।
সঙ্গে সঙ্গে মোটকু মামু গল্প করার কাওকে পেয়ে এক হেঁচকা টানে শায়লাকে নিয়ে শ্যায়রা গাছটার মগডালে উঠে যায়। তারপর ডালে শায়লাকে বসিয়ে দিয়ে নিজে বাতাসে ভর করে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে হাত উঁচিয়ে দূরে একটা গ্রাম দেখিয়ে বলতে থাকে:
ঐ গ্রামটা দেখছো, ওটা হলো আমাদের গ্রাম। অনেক বছর আগে ঐ গ্রামে বাস করতাম আমি। আমার বাবা ছিলো গ্রামের মাতব্বর। গ্রামের প্রায় সকলে তাকে সমাদোর করতো। গোলা ভরা ধান , পুকুর ভরা মাছ, গোয়ালে গরু , বাড়ি ভর্তি মানুষ সব সময় গিজ গিজ করতো। আমি ছিলাম তার একমাত্র সন্তান । তাই সকলে আমাকে আদরে রাখতো। গ্রামে যারি ভালো কিছু হতো সে গাছে আম, লিচু , জেলেরা বড় মাছ পেলেও আমার জন্য বাড়িতে দিয়ে যেতো ।আমিও বড় খেতে ভালোবাসতাম । দেখতে দেখতে আমার শরীর ফুলতে থাকে। এতো মোটা হয়ে যাই যে ঠিক ভাবে হাঁটতেও পারতাম না । তারপরো আমি খাওয়া ছাড়তে পরিনি। আমার মা তার আমাকে আগলে রাখতো , কেও আমার শরীর নিয়ে কিছু বললে তার রেহায় থাকতো না । কেও আমার শরীরের দিকে নজর দিলে সাথে সাথে সে এক খাবলা থুথু ছিটিয়ে দিতো আমার গায়ে। তাতে নাকি কারো নজর লাগার রেশ থাকতো না । সময় গড়িয়ে যেতে থেকে , আমিও বড় হয়ে উঠি, বাবাও বৃদ্ধ হয়ে যায়। দেখতে দেখতে আমি গ্রামের মোড়লের ভূমিকায় চলে যাই। যে কোন সমস্যা হলে আমাকে দ্রুতো সেখানে যেতে হতো, সমাধান করতে হতো। আমার কোন বোন ছিলনা বলে গ্রামের সব বাচ্চাদের আমি নিজের ভাগ্না ভাগ্নির মতো দেখতাম , ওড়াও আমাকে ভালোবেসে মোটকু মামা নামে ডাকতো । তাতে আমি খুশিই হতাম। দেখতে দেখতে কেমন পাল্টে যেতে থাকলো গ্রাম। বাহির থেকে কিছু মানুষ আসতো গ্রামে। কি সব বুদ্ধিদিতো গ্রামের যুবকদের । কানে আসতো আমার , কিন্তু কখন আসে কখন যায় বোঝা কঠিন ছিলো। কেমন দৃশ্য পট পাল্টে যায়। গ্রামে চুরি ডাকাতি বাড়তে থাকে। বাহির থেকে নানা অস্ত্র আর পরামর্শ নাকি আসতো গ্রামে। আমাদের বিচার আচার কিছু যুবক মানতে রাজি হয়না । তারা যা ইচ্ছা করতে থাকে। ক্ষমতা আর অস্ত্রের মুখে আস্তে আস্তে যেনো জিম্মি করে ফেলে পুরো গ্রামকে । গ্রামটা শহর থেকে এতোটা ভেতরে যে সেখানে প্রশাসনিক দেনদরবারের লোক আসতে পারতো না । অবশেষে উপায় না দেখে আমরাও গ্রামের কিছু ভালো যুবক আর বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শে গড়ে তুলি গ্রাম নিরাপত্তা কর্মী। যাদের কাজ গ্রামের বিপথে যাওয়া ব্যক্তিদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া। তাতে কাজ না হলে বল প্রয়োগে তাদের অপরাধের শাস্তির ব্যবস্থা করা। অতটা ভয় কখনো কাজ করেনি নিজের ভেতর । যাদের সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি । যাদের ভালোবাসায় গ্রামে নিজেদের এতো সম্মান তৈরি হয়েছে তারা আমাকে কিছু করবে ভাবিনি কখনো । কেও সাবধানে চলতে বললে উত্তরে বলতাম ওরা অপরাধ যাই করুক আমার সামনে এসে কোন কিছু করা ওদের সম্ভাবনা। আমার কোন ক্ষতি ওরা করতে পারেনা । এই বিশ্বাসী একদিন আমার মৃত্যুর কারণ হলো। আমার গড়া নিরাপত্তা বাহিনী আমার সাথে থাকতে চেয়ে ছিলো কিন্তু সাথে নেয়নি আমি। গ্রামের বাজার থেকে রাতে বাড়ি ফিরছিলাম । এই বনের ধারদিয়ে ঐ রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম । আমার পথ আগলে দাঁড়ায় কিছু মানুষ। হাতের টর্চ জ্বালাতে দেখি আমারি বিশস্ত কিছু গ্রামের যুবক তাদের সাথে অপরিচিত কিছু মুখ। আমি হুমকার দিয়ে বলি দেখ আর যাই করিস , আমার শরীরে যেনো কোন আচর না লাগে । জানিষতো তোদের ছেলেমেয়েরা আমাকে মোটকু মামা ডাকে। আমার শরীরটা ওদেরো কতো আনন্দ দেই , সেই শরীরে তোরা আঘাত দিতে পারিসনা ।তোরা এ পথে কেনো চলছিস । তোদের কি আমি কম ভালোবাসি।
কিন্তু ক্ষমতার লোভ দেখানো মানুষ আর ওত পেতে থাকা সুবিধা ভোগী মানুষের পরামর্শে আমাকে টেনে হিঁচড়ে বনের মধ্যে নিয়ে আসে ওরা।দেখতে দেখতে আমার দেহটাকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে দেয় এই ডোবাতে। তারপর কতো চেষ্টা করেছি নিজের প্রিয় দেহটাকে আর একবার দেখবার জন্য। কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিনা । পাখিদের গল্পে শুনছি আমার মৃত্যুর পর গ্রামে অপরাধীদের আধিপত্যে ভালোমানুষ গুলো টিকতে পারেনি । চলে গেছে অন্য কোথাও। যারাও আছে তারা সব ত্যাগ স্বীকার করে টিকে আছে । অপরাধীরা মাঝে মাঝে এই বনেও আসে রাতবিরাতে । এইতো সেদিন একটা অসহায় মেয়ের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছিলো বনের পরিবেশ। কেও কাছে যেতে পারেনি । নীরব কষ্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে গাছ আর বনের পাখি। আমিও দেখেছি ওদের মতো । কাছে যেতে সাহস পায়নি । অপরাধের মাত্রা এতো বাড়িয়েছে যে ওদের দেখে আমিও কাছে যেতে সাহস পাইনা,ভয় পাই। কিন্তু তোমার ঠোঁটে এমন দাগ কেনো । সেদিন যে মেয়েটিকে ওরা এনে অত্যাচার করেছিলো সেই মেয়েটিরও দেখেছি একটা ঠোঁটে কাটা দাগ।
শায়লা কোন কথা না বলে চোখের পানি বাতাসের একটা অংশ দিয়ে শুকাতে শুকাতে উড়ে চলে যায়।মোটকু মামু নিরাস হয়ে নিজের মনে বলে ওঠে:আমি আমার দেহ একদিন খুঁজে নেবই।সেদিন বেশি দূরে না যেদিন এই সব হিংস্র মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান পানি শুকিয়ে যাবে।
বলতে বলতে মোটকু মামুর আত্তা আবার পুকুরের পানিতে ডুব দিতে শুরু করে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন