বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ জুন ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

২.২৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ০.৬ / ৩.০

যদি আরও কারে ভালোবাসো

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

অতৃপ্ত অাত্মা

এ কেমন প্রেম? আগস্ট ২০১৬

প্রজাপতির ডানা

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

কোমলতা (জুলাই ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২৩ মাতৃ-হৃদয়

রূপক বিধৌত সাধু
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৪৫১
‘ওফ, কী রোদ । অসহ্য গরম, টেকা যাচ্ছেনা । রাস্তাঘাটে এত ধুলো, পথ চলা দায় । কী যানজট, এতগুলি গাড়ি একসাথে দাঁড়িয়ে । এতগুলি গাড়ি এল কোথা থেকে’। ঢাকার অবস্থা দেখিয়া ভীষন বিরক্ত মার্জিয়া খাতুন । তিনি একজন গৃহিনী । বাজার করিবার লোক নাই । তাই প্রতিদিন তাঁহাকে বাজারে আসিতে হয় । আজও কাঁচা বাজার করিতে আসিয়াছেন ।
বাজারে ঢুকিয়া জিনিসপত্র খরিদ করিতে লাগিলেন । কাঁচা তরি-তরকারীর দাম আকাশচুম্বী । বিক্রেতাদের উপর তাহার প্রচন্ড রাগ হইল । ‘বেটারা, সবকিছুর দাম বেশি বেশি চায়; মনে হয় মামা বাড়ির আবদার’। রাগ সংবরন করিয়া সওদা সম্পন্ন করিলেন ।
অনেকক্ষন ধরিয়া রিক্সার জন্য প্রতীক্ষা করিতেছেন তিনি । কোনো রিক্সা নাই । যা-ও দুই একখানি আছে- যাইতে চাহেনা । ‘এরা নবাবের মত বসে থাকবে; তবু যাবেনা’। মার্জিয়া খাতুন লক্ষ্য করিলেন, দীর্ঘক্ষন যাবত এক বালক তাহাকে অনুসরন করিতেছে । বয়স ষোলো সতের হইবে । গায়ের বর্ন কালো; তবে চেহারা মায়াবি । তিনি ভাবিলেন, এ বোধহয় কোনো বখাটে, কিংবা ছিনতাইকারী হইবে । তরিঘড়ি করিয়া অন্যত্র সরিয়া দাঁড়াইলেন । সৌভাগ্যবশত একখানি রিক্সা পাওয়া গেল । তিনি বাড়ি অভিমুখে যাত্রা করিলেন ।
পরদিন পুর্বাহ্নে মার্জিয়া খাতুন পত্রিকা পড়িতেছিলেন । অকস্মাৎ বাড়ির বাহিরে কিসের শোরগোল শোনা গেল । ‘কি হলো’? দাঁড়োয়ানকে জিজ্ঞাসা করিলেন । দাড়োয়ান বলিল, বাইরে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে । ধমকাচ্ছি তবু যাচ্ছেনা । কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তরও দিচ্ছেনা । বোধহয়, বাড়ির ভেতরে ঢুকতে চায়’।
মার্জিয়া খাতুন গেইটের বাহিরে আসিয়া নীরব হইয়া গেলেন । গতকল্য বাজার হইতে ফিরিবার পথে যে ছেলেকে দেখিয়াছিলেন, এ সে-ই ছেলে । তাহার পরিচ্ছদ নোংরা । মুখে ময়লা লাগিয়া আছে । চুলগুলি অগোছালো । তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, এই ছেলে, কি চাও তুমি? কোনো সাড়া নাই । তিনি পুনশ্চ জিজ্ঞাসা করিলেন, এই ছেলে, কি চাও? আবারও নিরোত্তর । মার্জিয়া খাতুন লক্ষ্য করিলেন, ছেলেটি নির্বিকার । অপলক দৃষ্টিতে তাহার পানে তাকাইয়া আছে । তিনি ছেলেটির হস্তে কিছু টাকা দিতে চাহিলেন । কিন্তু ছেলেটি না সূচক মাথা নাড়াইল । সে বোধহয়, টাকার কাঙ্গাল নয় ।
ইহার কিছুকাল পর, একদিন সকালে মার্জিয়া খাতুন পত্রিকার পাতা উল্টাইতেছিলেন । কোন এক কারনে তাহার মন ভালো নাই । পত্রিকা রাখিয়া দিলেন । হঠাৎ একটি শিরোনামে তাহার নজর পড়িল । ‘ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণের মৃত্যু’। কে এই তরুণ । পাশে একটি ছবি আছে । তিনি তরুনকে চিনিলেন । এ সেই ছেলে, যে তাহার বাড়ির সম্মুখে আসিয়াছিল । অপলক দৃষ্টিতে তাকাইয়াছিল তাহার পানে, অথচ কোনো কথা বলে নাই । এর বাড়ি কোথায়? মা-বাবা কোথায়? সকল কিছু জানা গেল বিস্তারিতভাবে । ছেলেটি মূক ও বধির । মা-বাবা কোথায়, কেহ বলিতে পারেনা । ডাস্টবিনে কেহ রাখিয়া গিয়াছিল । কান্নার আওয়াজ শুনিয়া জনৈক ব্যক্তি ইহাকে উদ্ধার করিয়া এতিমখানায় লইয়া আসে । সেইখানেই সে বড় হয় । বোবা বলিয়া পড়াশোনাও করিতে পারেনাই । কেহ তাহার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নাই ।
মার্জিয়া খাতুন চক্ষু হইতে চশমাটি খুলিয়া অঞ্চলে মুখ ঢাকিলেন । কী এক অনুশোচনা তাহাকে ছুঁইয়া যাইতে লাগিল, তাহার মাতৃহৃদয় কাঁদিয়া উঠিল ।

১ লা পৌষ ১৪১৮ বঙ্গাব্দ
ময়মনসিংহ ।







আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন