বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ আগস্ট ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৭টি

মাকু

শাড়ী সেপ্টেম্বর ২০১২

ক'য়ে কবিতা

গর্ব অক্টোবর ২০১১

কাঁটায় কাঁটায় CREATIVE

ক্ষুধা সেপ্টেম্বর ২০১১

গ্রাম-বাংলা (নভেম্বর ২০১১)

তিন ছয় আঠারো

boka bahadur
comment ২৪  favorite ০  import_contacts ৪১০
প্রায় বছর খানেক আগে ঠিক করলাম আমার একটা ব্যাঙ্ক একাউন্ট দরকার। আসলে একাউন্ট কোন কাজের জন্য দরকার না, দরকার একটা ডেবিট কার্ডের জন্য। কার্ডে টাকা থাকতে হবে তাও না। শুধু কার্ড থাকলেই চলে। এই চিন্তায় আব্বার কাছে প্রস্তাব দিলাম, ‘আমার বয়স তো মাশাল্লাহ আঠারো হইছে, আপনে তো শেয়ার-টেয়ার করেন। আমার নামেও একটা একাউন্ট খুইল্যা ফালান। বেশি বেশি একাউন্ট থাকলে নাকি সুবিধা’। আব্বা লাফ দিয়ে উঠে বলে, ‘ফাইন আইডিয়া। কাল্কাই তোর নামে একাউন্ট খুলুম’। আমি তো খুশিতে বাকবাকুম! যাক! এইবার একটা কার্ড আমিও পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারবো। আমি আগ্রহের সাথে একটি বিশেষ ব্যাঙ্কের নাম প্রস্তাব করি। আব্বা নাকচ করে দেয়। আমি তখন গাল ফুলিয়ে বলি, ‘তাইলে আমি একাউন্ট খুলুম না’। আব্বা তখন আমাকে শাহজাদা স্থানীয় একটা গালি দিয়ে বলে, ‘তুই খুলবি তোর বাপ ও খুলবো’। আমি বলি, ‘বাপের মুঞ্চাইলে খুলুক। আমি নাই’। আব্বা তখন নারিকেল শলার ঝাড়ু নিয়ে তেড়ে আসে। আমি কোনমতে পিঠ বাঁচিয়ে একাউন্ট খুলতে রাজী হই।

পরদিন গেলাম একাউন্ট খুলতে। গিয়ে দেখি এখানেও ডেবিট কার্ডের প্রচলন আছে। আমি হাল্কা একটা শান্তি পাই। সব কাগজপত্রে আমার জন্মসিল লাগানো হচ্ছে, তখন আব্বার পরিচিত ম্যানেজার আঙ্কেল বলেন, ‘কার্ড লাগবে না?’ আমি করুণ দৃষ্টিতে আব্বার দিকে তাকাই। আব্বা খলনায়ক জাম্বুর মতো গলা করে বলেন, ‘নাহ আজাইড়া জিনিসের দরকার নাই’। আমার অবস্থা তখন ত থৈ ব চ। আমি বলি, ‘জ্বী, লাগবে না’।

এক সপ্তাহ পর আব্বা একটা চেক বই আমার সামনে দিয়ে বলে সাইন কর। আমি টাকার অঙ্ক দেখার জন্য তাকিয়ে দেখি ওইখানে কিছু লেখা নাই। আমি শুধু নাটক-সিনেমায় ব্ল্যাঙ্ক চেকের কথা শুনেছি। এবার নিজের চোখে দেখলাম, এবং তাতে স্বাক্ষর করলাম। আমার একাউন্ট আমার সাইন ছাড়া টাকা তোলা যায় না, আর আমিই জানি না কত টাকার চেকে সাইন করলাম। না জানি আব্বা কত টাকা মেরে দিল। এই চিন্তায় হয়তো রাতে ঘুমাতেই পারতাম না, যদি না মনে পরতো যে ওই একাউন্টে আমি নিজে কোন টাকাই রাখিনি।

কয়েকদিন আগের কথা। আম্মার কাছে টাকা চাইতে গিয়ে দেখি আম্মার ড্রয়ারে আমার ব্যাঙ্কের(!) সিল মারা একটা বাক্স! দেখতে কলমের বাক্সের মতো। আমি আম্মাকে বলি, ‘এইটা কি?’ আম্মা বলেন, ‘কিছু না’। অনেক চাপাচাপির পর জিনিসটা দেখার অনুমতি পাই। খুলে দেখি একটা ‘পার্কার’ কলম। আমি বলি, ‘এইটা আমি নিমু’। আম্মা কঠিন গলায় বলে, ‘না’। আব্বা খাটে শুয়ে ছিলেন। আমি তার দিকে করুণ চোখে তাকাই। আব্বা বলে, ‘গেলি শাহজাদা!’ বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝে নিবেন শাহজাদা মানে কি!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • boka bahadur
    boka bahadur আমি গল্প কবিতায় প্রথম যে গল্পটি জমা দেই সেটিতে বিষয়ের ব্যাপারে মাথা ঘামাতে গিয়ে গল্পের শ্রাদ্ধ হয়ে যায়। তখন অনেক শুভাকাঙ্খি আমাকে বলেন, গল্পের দিকে জোর দিতে। বিষয়বস্তু খুবই তুচ্ছ। আমি তাদের কথা মাথা পেতে নেই। এজন্য যা মনে আসে তাই লিখি। এজন্য এখনকার লেখাগু...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৪ নভেম্বর, ২০১১
  • বিষণ্ণ সুমন
    বিষণ্ণ সুমন লেখকের নামের মাঝেই অন্য রকম কিছুর গন্ধ পেয়েছিলাম। তো গল্পটা পড়ে এরকম নামকরণের স্বার্থকতা পাওয়া গেল । রম্য গল্পকার হিসেবে শতভাগ স্বার্থক ।
    প্রত্যুত্তর . ২৪ নভেম্বর, ২০১১
  • তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল লেখার প্রতি আরো মনোযোগের দরকার
    প্রত্যুত্তর . ২৯ নভেম্বর, ২০১১