বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ অক্টোবর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪৭ / ৩.০

বাংলার রূপ (এপ্রিল ২০১৪)

মোট ভোট ২৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮ তবুও বসন্ত

গুণটানা নৌকা
comment ২২  favorite ১  import_contacts ৬১৬
প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি ,শব্দ ও জলতরঙ্গের নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে ও হিমালয়ে গিয়ে মেঘেদের সাথে লুকোচুরি খেলতে চলে গেলো আশার ভার্সিটির বন্ধুরা ।তাদের আশাকে সাথে যেতে দেবার সাধ থাকলেও সাদ্ধে কুলাইনি আশার পরিবারের ।এই মস্ত বাজেট তার পরিবারের কাছে স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার গয়নার মত ।মৃতিকার জল পিপাসার মততপ্ত দুপুরে ফেটে চৌচির ।

তবুও বসন্তের আগমনে কোকিলের মত তার বড় ভাবি বলল তোমার ভাইয়া বলেছে কাল সকালে আমরা পাখি হয়ে আকাশ ছুতে ঝর্না দেখতে , বাংলার হিমালয় কেউকারাডাং দেখতে ও বঙ্গোপোসাগরের পূর্ব উপকূল কক্সবাজারে বাঁশ পাতার তরণি হয়ে ভাষতে যাচ্ছি । প্রজাপতি হয়ে এফুল থেকে ঐ ফুলে ঘুরে বেড়াবো প্রায় দশ দিন ।

এ যেন মেঘ না চায়তে বৃষ্টির আগমন । আনন্দে দুলে উঠলো আশার মন । তাদের বাড়িতে কোন পিঠা পুলির আয়জন হয়নি তবু যেন বিয়ের আয়জন ,প্রতিবেশীরাও দলে দলে মৌমাছির মত তাদের আনন্দের চাকে এসে বসচ্ছে । গ্রামের সরল সাধারণ মানুষ গুলোর শিশু সুলভ অদ্ভুদ আচরণ ও ভ্রান্ত চিন্তা ভাবনার খাঁজে খাঁজে তারা নিষ্পাপ পুষ্পের রূপ উপলব্ধি করে বেশ ভালভাবেই । তাদের জীবনের নকশিকাঁথায় রঙধনুর মত ফুটে উঠেছে স্নেহ মমতা ভালোবাসা ও সম্পর্ক নামক বট বৃক্ষের শিকড়ের আল্পনার অবিশ্বাস্য বাংলার রূপ ।

খুব সকাল সকাল তারা বেড় হলো ভ্রমনের উদ্দেশ্য গাছেরা যবুথবু হয়ে আছে , পাখিদের ঘুম ভাঙ্গেনি ,খেঁচরেরা ফিরে যাচ্ছে তাদের নীড়ে ,রাতজাগা চন্দ্রের মিটিমিটি হাসি আজ যেন অন্য দিনের চেয়ে বেশি পবিত্র মনে হলও আশাদের । আজিপুরের মাঠ পেরিয়ে মির্জা পুরের বিলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে তারা , দুলভ পুরের কাঁচা সড়কে গিয়ে গরুর গাড়িতে চড়বে তারা , শ্যাম নগরে গিয়ে ভুটভুটিতে রেল ষ্টেশন যাবে। এর পড় শুরু হবে স্বপ্নের নুরিপাথর কুড়ানো , কয়েকদিন বাংলার রূপ উপভোগ করে ফিরে আসবে তারা আবারো রূপবতী এই গ্রামে ।

মেঠো পথে চলতে চলতে দিনের আলো ফুটে উঠেছে ফুল ,পাখি ও গাছেরা আড়মোড়া দিয়ে জেগে স্বাগত জানাচ্ছে আশাদের ।নিজেদের গ্রামের পরিবেশের সাথে ছেলেবেলা থেকে নীবির সম্পর্ক আছে আশার ,সে পশু-পাখি , কিট –পতঙ্গ ,গাছ-পালার ভাষা বোঝে । এ যেন সুখের উদ্যান, কিন্তু মির্জাপুরের হতাশ পাড়া থেকে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে । আশা থমকে দাঁড়ায় , তার ভাই বলে দাঁড়ালে কেন ?তাড়াতাড়ি যেতে হবে ট্রেন যে ছেড়ে দিবে ?
আশা বলল ঃ বকুলের বাবা বুঝি মারা গেছে তার মা কাঁদছে । ট্রেন ছেড়ে গেলেও পরের ট্রেন পাওয়া যাবে , কিন্তু ওপাড়ের যাত্রীর মুখটি দেখার সুযোগ পাবোনা কখনো । চলো শেষ দেখা দেখে আসি ।

সেখানে গিয়ে জানা গেলো কেউ গত হয়নি । বকুল কে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে , সামান্য যৌতুক , এক জোরা বলদ ও সাইকেলের জন্য ।যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় সেখানে এক জোরা বলদ ও সাইকেল যেন বকুলের পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্নের মত । দৈন্যতা , মান-সন্মান , মেয়ের সুখের এক ফালি উজ্জল স্বপ্ন ভাঙার দায়ে নিজেকে দোষী ভেবে বকুলের মা উচ্চ স্বরে কেঁদে চলেছে আহত পাখির মত । বঙ্গোপসাগরের মত গর্জনের করে মাটিতে আছড়ে ফেলতে চেষ্টা করছে না পাওয়ার বেদনা ও সামাজিক ব্যাধির রোগ বালায় ।বকুলের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সে যেন একটু বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে ।

আশার পরিবার আলোচনা করে সিধান্ত নিলো বকুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ।বাংলার রূপ দেখার প্রত্যায়ে ভ্রমনের চেয়ে বকুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাদের কাছে ।
শীতকালে বৃষ্টি হয়না তবু আজ বৃষ্টি এলো ,তাই দূরে যাবার সিধান্ত বাতিল ।বৃষ্টি থামলে রূপ নগরের মেলা দেখতে যাবার পরিকল্পনা করলো তারা ।

আশার বড় ভাই আশার মুখের দিয়ে তাকিয়ে ভাবছে সময় কতটা নিষ্ঠুর আশাকে কাঁধে বসিয়ে রূপনগরের মেলায় নিয়ে যেতাম ।আজ আশা অনেক বড় হয়েছে । একটা ভালো পাত্রের সন্ধান করতে হবে ।আগামী বছর জাফরানি অগ্রাহনের শেষের দিকে উত্তরের সাত বিঘে জমি বন্ধুক রেখে মহা ধুমধামে আশার বিয়ে দিবো ।দারিদ্রতার সাথে পাঞ্জা লড়ে ভাববো “তবুও বসন্ত ”।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন