বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সতীন

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

ভালবাসা- ভালবাসা

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

লোভ

দিগন্ত মার্চ ২০১৫

অসহায়ত্ব (আগস্ট ২০১৪)

আমাদের ফেলে দেয়া মা

জোহরা উম্মে হাসান
comment ১০  favorite ০  import_contacts ৫১৯
ভিক না চ্যায়া কি করি বাপধন , মাধন
তিন কূলে কেউ নাই। হুহু জারে নিদ আসে না
নিদ আসে না মরা দুই-চোখে।ভিক না চ্যায়া কি করি
শাপ দিও না বাপ মোকে। এ্যানা শীত বস্তর দ্যাও
বাপ-ধন মা-ধন, দিলে ফুরায় না !
হু হু শীতে সে চৌ রান্তার মোড়ে বসে সুর করে ভিক্ষা মাগে
নিত্যদিন । তিন কূলে কেউ নাই ধন
দ্যাও বাপধন, দ্যাও মাধন, দিলে ফুরায় না !
কেউ দয়া কোরে দুচার টাকা দেয় কেউ বা দেয় না।
কেউ চরম বিরক্তি ভরে পাশ কাটিয়ে চলে যায় ,আর
কেউ বা হুইশেল মুখো নীল -লাল বাতি পুলিশের কাছে
রাশভরে অভিযোগ তোলে- এসব ভিখিরিদেরকে রাস্তায় বসতে দেবার জন্য !

তাঁর গায়ে ধূসর চাদর জীর্ণ ,শীর্ণ । রাখঢাকহীন শীতের বাতাস
হু হু বয় সারা শরীর জুড়ে।পলিপড়া পায়ে দুই রঙ ফিতাওলা
পঞ্জের স্যান্ডেল মাপহী্ন !পরনের সূতির শাড়ি , চাতালের মড়া কুমড়ো
লতার মতো দুমড়ানো –মুচড়ানো। কুঁচকে পড়া গালের দুভাজে আঁকা
পৃথিবীর থির বয়স !
সামনে রাখা একটা টিনের বিবর্ণ থালা , চ্যাপটা টেপানো
সেখানে ছিটানো খান কয়েক কাগজের টাকা, পয়সা আনি-আধুলি।
সময় পেলেই পরম যত্নভরে সে গুছিয়ে রাখে তা ,গোনে
তাঁর পয়সায় দিন চলে বস্তির কানাখোঁড়া
দুজন মানুষের ।এরাই এখন তার সংসার !

এমন কোরেই কেটে যায় তাঁর কাল।সময় ,মাস , বছর।
কেউ দেখে না তাঁর গায়ের রং। কেউ দেখে না শীর্ণ দু হাতে খুলে
পরা চুড়ির দুগাছি। দেখে না কেউ শ্রীহীন শরীরের বাঁক।
কেউ শুধায় না তাঁকে , কোথায় তোমার ঘড়
কোথায় তোমার বাড়ি –কিংবা কি বা তোমার পরিচয়
ঠিকানা? শুধবার কথা ভুলেও ভাবে না কেউ
কারই বা এত সময় , সময় বৃথা নষ্ট করার !
সে কেবল পরে রয় পথের ধারে ফেলে দেয়া টিনের জং ধরা কৌটোর মতো
যাকে নিয়ে খেলা করে বড় জোর পাড়ার হাভাতে ছেলের দল !

প্রতিদিন দুপুর বেলা সামনের মুদি দোকানের ছোকড়া ছেলেটা কি মনে কোরে
নিজে কম খেয়ে তার থালার কোনে রেখে দেয় দুগাল ভাত-ভরতা-ভাজি।
সে তা পরম তৃপ্তি ভরে খায় আর দোয়া করে ছেলেটাকে!
দোয়া করে তাদের জন্যও যারা অনেক থাকতেও
তাঁর মতো মানুষদের জন্য ভাবে না ভুলেও !
সবার মঙ্গল কামনায় খোলা যেন তাঁর প্রার্থনা ভাণ্ডার
তবু সে আমাদের ফেলে দেয়া মা !
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন