বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ জানুয়ারী ১৯৭৩
গল্প/কবিতা: ৪৯টি

সমন্বিত স্কোর

৫.১১

বিচারক স্কোরঃ ৩.২২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৯ / ৩.০

দূর আকাশের তারায়

ভালোবাসা / ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৫

এখন অনন্ত সময় জীবনের প্রত্যয়ে

প্রত্যয় অক্টোবর ২০১৪

সবাই চলে যাবে ...

অসহায়ত্ব আগস্ট ২০১৪

গ্রাম-বাংলা (নভেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৮৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.১১ গ্রাম বাংলার বনজোছনার তলে

মিজানুর রহমান রানা
comment ৬৫  favorite ১৩  import_contacts ৯৮৪
নাম জানা- না জানা কতো ফুল ফোটে রাতের আঁধারে
ঝরে যায় ম্লান হয়ে প্রভাতে। শিশিরের অশ্রুবিন্দুর মতো
আমিও ঝরে যাবো একদিন; এ মাটির পৃথিবী থেকে
দেশান্তরে, দূর আকাশের ওপারে
যেখানে মেঘ-বালিকাদের সাথে মেঘ-বালকরা খেলা করে
আমার আত্মা কখনো আসবে না আর রঙিন এই চরাচরে।

তবুও আমি দূর হতে দেখবো তোমাদের; আমার হৃদয় ভরে
দেখবো আমার প্রিয় গ্রাম-বাংলার চিরচেনা রূপ
অপরূপ মেঠো পথ, ছায়াঘন নিবিড় গাছ-গাছালি
যেখানে হাওয়ার ডানা দোলা দেয় প্রাণে বিচিত্র পাখ-পাখালি
গ্রাম-বাংলার মন-মাতানো এ অপূর্ব রূপের সমাহার
আমাকে দোলা দেয় আজও হৃদয়মাঝে বার বার।

শীতের সকালে সবজি ক্ষেতের উষ্ণ ধোঁয়া সরিয়ে
বাংলার প্রকৃতির মেয়েরা আইলে আইলে শাক তোলে
মায়েরা-বৌয়েরা পিঠা-পায়েস তৈরিতে ব্যস্ত;
কৃষকের হাঁক-ডাক নতুন ফসল বোনার আমন্ত্রণ মাঠে
মনে পড়ে সেই শীতের শৈশব-কৈশোর
যেতাম তখন আমরা সকালবেলায় কাচারীঘরে নিমগ্ন পাঠে।

আজ সেদিন নেই শব্দের শিল্পবোনা প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য ঘিরে
কতদিন দেখি না পূর্ণিমার জোছনাভরা রূপের সাগরে
উদাসীন বাউলের মতো গানের পাণ্ডুলিপি হৃদয়ে এঁকে
বকুলফুলের নির্যাস প্রশস্ত বুকে;
শুধু বেঁচে আছি শহরের লোডশেডিংয়ের বিচিত্র রঙিন খেলায়
অপেক্ষায় শুধু ক্ষুধার অন্ন জোগাড়ে এই লণ্ডভণ্ড কালবেলায়।

মায়াময় গ্রাম-বাংলার সোনালী ধান, পাখির ডানার শব্দ, বিচিত্র কোলাহল
ফুলের পশরায় মেতে ওঠা রূপ-পরীদের মতো
অন্তরের গোপন কালিতে রেখেছি সাজিয়ে অবিরত;
বর্ষা, হেমন্ত-বসন্ত কতোরূপ শিউলি ফোটা শ্যামলী মা জননীর
একদিন আমার দেহ পচে-গলে ঠাঁই নেবে বুকে- সে মাতৃভূমির
কাঁঠালচাঁপার তলে। আকাশ থেকে নামবে বৃষ্টি আমাকে চিরশান্তি দেবে বলে।

নিঘুম কতো রাত কেটেছে এই বাংলার পথ-ঘাট চেনা নদী-সাগর হাওড়-বাঁওড় ঘুরে
যেখানে মাছরাঙ্গা পুকুরের জলে, হলদে পাখি সোনালু ফুল নিয়ে অবিরত খেলা করে
আজ আমার শরীরে সেই মাছেদের ঘ্রাণ, সোনালু ফুলের প্রভাত ফেরী
বুকের ভেতর গ্রাম বাংলার বৈষ্ণব কবিতার পদাবলী; মহামুনি বাল্মিকীর মতো
শরবিদ্ধ পাখির চিৎকার-হাহাকার শ্লোক। দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার 'জয়বাংলা শ্লোগান
অপরাজিত ফিনিক্স পাখির মতো; মৌমাছির গুনগুন গান আকাশে-বাতাসে ভাসমান।

আমার আত্মা চলে যাবে একদিন এ গ্রাম-বাংলার সব মায়াময় কথকতা ফেলে
তবুও আমি রয়ে যাবো অশ্রুসজল প্রেয়সীর বুকে অথবা চিরচেনা বনজোছনার তলে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • নিলাঞ্জনা নীল
    নিলাঞ্জনা নীল খুব সুন্দর........
    প্রত্যুত্তর . ২২ নভেম্বর, ২০১১
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া কবিতার নাম টা যেমন সুন্দর , কবিতাটিও ভাই অনেক সুন্দর লিখেছেন /ভোট করলাম /
    প্রত্যুত্তর . ২৩ নভেম্বর, ২০১১
  • rakib uddin ahmed
    rakib uddin ahmed fantastic ! সত্যিই চমৎকার কবিতা,দারুণ ভাল লাগলো...।এতদিন শুধু 'মাসুদ রানা' আর 'তিন গোয়েন্দা' পড়েই কাটিয়ে দিতাম, আপনার কবিতাগুলোর মধ্যেও ভাইয়া,অনেকটা ওরকম ভাললাগা পাচ্ছি। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ২২ ডিসেম্বর, ২০১১