বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ১৪টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

ছায়াজীবন

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

তবুও বসন্ত এসেছিলো

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

কম্বল-কথা

শীত / ঠাণ্ডা ডিসেম্বর ২০১৫

কোমলতা (জুলাই ২০১৫)

মোট ভোট ২৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৯ সমান্তরাল-২

সালমা সিদ্দিকা
comment ১৫  favorite ০  import_contacts ৮১৫
( ফেব্রুয়ারী ২০১৪ ভালবাসা সংখ্যায় সমান্তরাল নামে একটা গল্প লিখেছিলাম। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন তারপর কি হলো নিলয় আর ফারিয়ার। তাই ওদের নিয়ে আবার লিখলাম সমান্তরাল -২। কেউ সমান্তরাল না পড়ে থাকলেও ক্ষতি নেই। )

(১)
সকালে ঘুম ভেঙ্গেই নিলয়ের মনে হলো আজকের সকালটা যেনো কেমন । প্রতিদিন উঠতে দেরী হয়, ফারিয়া ওকে হাজারবার ডেকে তোলে। আজকে সকালে ফারিয়া ডাকেনি।
নিলয়ের মনটা ভারী হয়ে আছে। এতটা রাগ না করলেও হতো। ইদানিং অল্পতেই রাগ হচ্ছে। মোটেই ভালো হচ্ছে না ব্যাপারটা।
মনে মনে ভাবলো ঠিক কি করলে ফারিয়া খুশি হবে। বিকেলে তাড়াতাড়ি ফিরে ফারিয়াকে নিয়ে শপিং এ যাওয়া যায়। ফারিয়া যেতে চাইবে না, তখন গম্ভীর মুখে ব্যাগ থেকে বিশাল একটা সরি কার্ড দেয়া যায়। আজকাল মিউসিকাল কার্ড পাওয়া যাচ্ছে, বেশ মজার। ফারিয়া তো আবার কার্ড নাও খুলতে পারে। তাহলে কি করা যায়? সবার প্রথমে এখন ফারিয়াকে সরি বলতে হবে। এখন সকাল সাতটা। ফারিয়া আবার সাড়ে আটটার দিকে ক্লাসে চলে যাবে।
নিলয় হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং রুমে এসে ফারিয়াকে ডাকলো, ফারিয়া জবাব দিল না। ডাইনিং টেবিলের পাশে কালকে রাতের ভাঙ্গা প্লেটের টুকরো এখনো পড়ে আছে। রান্না ঘর, বারান্দা, বসার ঘর কোথাও নেই ফারিয়া। এত সকালে কোথায় গেল?
ডাইনিং টেবিলের উপর গ্লাসের নিচে চাপা দেয়া একটা নোট দেখা যাচ্ছে। 'চলে গেলাম, আমাকে খুজতে আসবে না'- ব্যাস , এই টুকুই লেখা। রাগ করে এত সকালে চলে গেল ফারিয়া? নিশ্চই গুলশানে ওর বাপের বাড়ি গেছে।
ফারিয়াকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না, ফোন বন্ধ। ফারিয়ার মাকে ফোন করলো তারপর। ওখানেও যায়নি।

(২)
জানালার বাইরে দেখার মত কিছু এই, তাও ফারিয়া তাকিয়ে আছে। আধ ঘন্টা ধরে বাস ছেড়েছে, পনেরো মিনিট ধরে ট্রাফিক জ্যামেই আটকে আছে। সকাল বেলা মানুষের কি ব্যস্ততা। সবাই ছুটছে তাদের নিজেদের গন্তব্যে। কিন্তু ফারিয়ার আজকে কোনো ব্যস্ততা নেই। আজকে ক্লাসে যাবে না, অফিসেও না। আজকে অনেক দূর যাবে,একা একা।
কাল রাতের দৃশ্য ঘটনা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে।বুধবার দিনটা খুব ব্যস্ত কাটে , দুইটা পর্যন্ত ক্লাস করে আবার অফিসে যায়। একটা এনজিওতে পার্টটাইম রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ নিয়েছে ছমাস হলো। নিলয়ের একার আয়ে খুব টানাটানি, একদিকে সংসারের খরচ আরেক দিকে ফারিয়ার মাস্টার্স ক্লাসের খরচ একেবারে কম না। বাবা টাকা দিতে চেয়েছেন, ফারিয়া নেয়নি। খালি বলছে একটা পার্ট টাইম চাকরি যোগাড় করে দিতে। বাবার রেফারেন্সে সেটা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু খুব চাপ যায় নিজের উপর।
গতকাল ক্লাসের মধ্যেই আমেনার টেক্সট এসেছে 'আপু, শরীর ভালো না , আজকে আসতে পারব না।' ফারিয়ার তখন থেকেই মেজাজ গরম। আমেনা সকাল দশটার দিকে এসে ঘর গোছায় , রান্না করে দিয়ে যায়, খুবই বিশ্বস্ত মেয়ে। ফারিয়ার মা ঠিক করে দিয়েছেন, আমেনার বেতনটাও উনি দেন। মায়ের কাছে এই উপকার না পেলে কি হতো ফারিয়ার? নিলয় বেতনের ব্যাপারটা জানে না, জানলে রাগ করবে। ও জানে ফারিয়া জব করে এইসব টুকটাক খরচ চালায়।
ক্লাসে বসেই ফারিয়া ভাবতে লাগলো রান্নার ব্যপারটা কি হবে। নিলয় বাইরের খাবার খেতে পারে না ইদানিং, গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা। নিলয়কে টেক্সট করে দেয়া যায় আজকে যেন ওর মায়ের বাসায় খেয়ে আসে। নিলয়ের মা বাবা ভাই ভাবি ওদের বাসার কাছেই কলাবাগানে থাকেন। নিলয় খেয়ে আসলে ফারিয়ার চিন্তা নেই। টুকটাক কিছু খেয়ে নেবে।

বিকালে অফিসে খুব ঝামেলা হলো, অফিসের প্রিন্টার নষ্ট কিন্তু রিপোর্ট প্রিন্ট করতেই হবে। ফারিয়া নীলক্ষেত গেল প্রিন্ট করতে। তখন বাজে সন্ধ্যা ছয়টা, নিলয় ফোন করে জানালো আজকে বাসায় খাবে। ফারিয়া কোনো রকমে সব ডকুমেন্ট অফিসে জমা দিয়ে বাসায় আসলো, তরিঘরি করে ভাত আর ডিম ভাজি করলো।
খাবার টেবিলে নিলয়ের মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো।
'সারাদিন কাজ করে এসে শুকনা ভাত আর ডিম ভাজি চিবাবো ? ডিম ভাজি ছাড়া কিছু পারো না ? সকালে ডিম ভাজি, রাতে ডিম ভাজি? ফাইজলামি কর আমার সাথে?' চড়া গলায় বলে নিলয়।
ফারিয়ার মাথায় আগুন ধরে যায়, নিলয়ের চেয়ে বেশি জোরে চিৎকার করে বলে, 'আমি কি তোমার বাসার কাজের বেটি যে ঘরে বসে তোমার জন্য পোলাও কোরমা রাঁধবো আর তুমি কাজ থেকে ফিরে গপগপ করে খাবে?'
'কি বললা? তোমার এত বড় সাহস ?' নিলয় আরো গলা চড়ায়।
ফারিয়া এবার প্রচন্ড রেগে গেলো, টেবিল থেকে একটা প্লেট নিয়ে ছুড়ে মারলো, তীক্ষ্ণ শব্দে কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে।
নিলয় আরার আর ঠিক থাকতে পারে না। তেড়ে আসে ফারিয়ার দিকে। ও ভয়ে কেঁদে ওঠে। নিলয় চোখ বড় করে চড়া গলায় বলতে থাকে, 'তোমার এত সাহস, আমার সাথে থাকতে ইচ্ছা না করলে চলে যাও , বের হয়ে যাও ...'
নিলয় বেডরুমে ঢুকে ধড়াম করে দরজা লাগিয়ে দিলো। ফারিয়া বসার ঘরে সোফায় বসে কাঁদছিল, তাতে যেন নিলয়ের কিছুই যায় আসে না। একবারও বের হলো না রুম থেকে।
ফারিয়া রাসেলকে ফোন করে। ঠিক করলো, আসলেই চলে যাবে।

(৩)

সায়মা ড্রয়িংরুমে এসে অবাক হলেন। নিলয় বসে আছে। একটু উদ্ভ্রান্ত লাগছে, চুল এলোমেলো , চোখ লাল ।
'কি ব্যপার নিলয়, তুমি এখানে?'
' মা, ভালো আছেন? ইয়ে.... ফারিয়া এসেছে ?'
'ওমা, তোমাকে সকালেই না বললাম, এখানে আসেনি। কি হয়েছে বলতো ? ফারিয়া কোথায় গেছে?'
'সেটাই তো বুঝতে পারছি না, সকালে কোথাও গেছে, একটা নোট রেখে গেছে, কোথায় গেছে বলে যায়নি। সকাল থেকে ওর ফোন বন্ধ। আমি ওর উনিভার্সিটিতে খোঁজ নিলাম, অফিসে নিয়েছি, কোথাও যায়নি।ওর সব ফ্রেন্ডসদের ফোন করেছি। কথাও যায়নি।'
'বলো কি? ঝগড়া হয়েছে তোমাদের? কি নোট রেখেছে , দেখি?'
সায়মা নোট হাতে নিয়ে দেখলেন। তার হাত কাঁপছে। তার ওই একটাই মেয়ে। খুবই লক্ষী , কাউকে না বলে কোথাও কখনো যায়না।
এর মধ্যে ফারিয়ার বাবা জাহেদ সাহেব উপস্থিত হলেন। রিটায়ারমেন্টের পর উনি সারাদিন বাসাতেই থাকেন। সায়মার কাছে সব শুনলেন।
'এই ছেলে, অভদ্রতার একটা সীমা আছে, কথায় কথায় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করো ? আমার মেয়েটাকে বিয়ের পর থেকেই যন্ত্রণার মধ্যে রেখেছো। ' হুঙ্কার দিলেন জাহেদ সাহেব।
জাহেদ সাহেব নিলয়কে কখনই পছন্দ করেননি। আজকে সেটা প্রকাশ করছেন সাচ্ছন্দে।
'তুমি থাম তো। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে। হয়তো কোথাও রাগ করে বসে আছে। বিকালে চলে আসবে।'
' তুমি থাম, আমার মেয়ে কি এভাবে লুকিয়ে বসে থাকার মত মেয়ে? ও জানে আমরা সবাই কত চিন্তা করবো। এট লিস্ট আমাকে ফোন করে বলতো। ফোন বন্ধ করে রাখতো না। কোনো বিপদে পড়েছে নাকি অনলি গড নোস। '
নিলয় অপ্রস্তুত হয়ে দাড়িয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে , 'প্লিজ ফারিয়া চলে আসো, আর কখনো এমন করব না। '
ফারিয়া আসে না, রাত পার হয়ে ভোর হয়ে যায়, ফারিয়া আসে না।


ফারিয়া ঠিক করেছে আর কাঁদবে না , অকারনে কেন যে বার বার চোখে পানি আসে।
'কি মা , কাঁদছো কেন? ঢাকা থেকে যেতে মন খারাপ লাগছে?'
ফারিয়ার পাশের সিটে একজন মহিলা বসেছেন, তার পাশে উনার স্বামী। ভদ্রলোক বাসে উঠার পর থেকেই ঘুমাচ্ছেন আর নাক ডাকছেন। ভদ্রমহিলা চুপচাপ মাগাজিন পড়ছিলেন। ফারিয়ার এটাই ভালো লাগছিল, কারো সাথে আলাপ জমানোর ইচ্ছা নেই।
'নাহ, এমনি'
' মন খারাপ করে না মা, আমার তো ঢাকায় একদম ভালো লাগে না, ঢাকার থেকে যেতে পারলেই ভালো লাগে।'
ফারিয়া ভদ্রতার হাসি দিয়ে আবার বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে । .
ভদ্রমহিলা বলতে থাকেন , 'দেখো মা, কি লজ্জার বিষয়, ছেলে মেয়েরা আমাদের দুইজনকে কক্সবাজারে পাঠাচ্ছে , আমাদের তিরিশতম বিবাহ বার্ষিকী , এই জন্য। এত লম্বা রাস্তা, বলো মা,আমাদের মত বুড়া বুড়ির পোষায়? কিন্তু ছেলে মেয়েরা সেটা বুঝে না। ' মুখে বললেও মহিলার চোখে তীব্র উত্তেজনা আর আনন্দ।
মহিলা কথা বলেই যাচ্ছেন। ফারিয়া হু হা করে যাচ্ছে।
নিলয়ের সাথে বিয়ের পর হানিমুনে যাওয়া হয়নি, নিলয়ের অফিস থেকে ছুটি পাওয়া যায়নি। সেজন্য নিলয়ের খুব মন খারাপ ছিল, কিন্তু ফারিয়া একটুও মন খারাপ করেনি। বলেছিল, একটু গুছিয়ে নিয়ে দুজন মিলে দেশের বাইরে বেড়াতে যাবে। এই দুই বছরে নিলয়ের চাকরি আর ফারিয়ার পড়ালেখা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ততা ছিল, ওরা কোথাও যেতে পারেনি। আর আজকে ফারিয়া একা একা কক্স বাজার যাচ্ছে!
ফারিয়া একটা দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেললো। বাবা মা, নিলয়, সবাই কি খুব ভাবছে ওকে নিয়ে? ফারিয়া ফোন বন্ধ করে রেখেছে। সবাই একটু নাহয় ভাবুক।
সে বছর ফারিয়ার জন্মদিনে কত পরিকল্পনা করেছিল ওরা, সারাদিন ঘুরবে, মুভি দেখবে, ভুত রেস্টুরেন্টে খাবে । ফারিয়া এক হাজার টাকা ভাংতি নিয়েছিল দশ টাকার নোটে , রাস্তায় যত ভিক্ষুক টাকা চাইবে তাদের সবাইকে দেবে, ফুল বিক্রি করতে যত গুলো ছোট ছেলে মেয়ে আসবে সবার কাছ থেকে ফুল নেবে। কাউকে বলবে না, মাফ কর। নিলয়ও নিশ্চই সেরকম কিছু সারপ্রাইজ ঠিক করে রেখেছে।
কিন্তু জন্মদিনে সকালে নিলয় ফোন করে বলল আসতে পারবে না, তার অফিসে অডিট হচ্ছে।
ফারিয়া খুব কাঁদলো। সাজগোজ বদলে গম্ভীর হয়ে বসে থাকলো। নিলয়ের ফোন ধরল না।
সন্ধায় যখন মন খারাপ করে বসে ছিল, দারোয়ান খবর দিল গেটে একজন ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
ফারিয়ে গিয়ে দেখে নিলয় দাঁড়িয়ে আছে। ফারিয়ার ভিশন রাগ হলো। সারাদিন মাটি করে এখন এসেছে ঢং করতে!
'হ্যাপি বার্থডে ফারিয়া। ফুল গুলো নাও। দেখো, তোমার সব পছন্দের ফুল। আর এই নাও তোমার প্রিয় সুইস চকলেট। আমি অর্ডার করে সুইজারল্যান্ড আনিয়েছি। আমি জানি এটাও তোমার খুব পছন্দের। '
'বার্থডে আর নেই, বির্থ নাইট হয়ে গেছে, এখন এসেছ? তাও আমাদের বাসায়? বাবা দেখলে তোমাকে ভর্তা বানিয়ে ফেলবে। '
'তোমার বাবা বাসায় নেই, আমি খোঁজ নিয়েই এসেছি। '
'খুব ভালো করেছ, এখন ফুল চকলেট নিয়ে চলে যাও। অফিস এ বসে বসে চকলেট খাও। বাবা যেকোনো সময় চলে আসবে। তোমার উপহার নিতে চাই না।'
'দেখো, তুমি যদি এগুলো না নাও, আমি এখান থেকে যাব না, আমি খুবই সরি আজকের জন্য, সরি সরি সরি। '
'উফ কি শুরু করলে, সরি জপতে হবে না তুমি এখন যাও। '
'তুমি যদি আমার গিফট না নাও, আমাকে ক্ষমা না কর , আমি যাব না। এই দেখো আমি কান ধরে বলছি , সরি। '
দারোয়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, ফারিয়া ভিশন অপ্রস্তুত হয়ে যায়, রাগ ধরে রাখতে পারে না, ফিক করে হেসে ফলে।
'আচ্ছা দাও তোমার ফুল চকলেট দাও, প্লিজ সিন ক্রিয়েট করো না। কিসব ঢং ! '
'আমি খুবই সরি ফারিয়া'
'ঠিক আছে তোমাকে ক্ষমা করা হলো। এখন যাও, বাবা চলে আসবে।'
নিলয় চলে গেল, যাওয়ার পথে যতক্ষণ দেখা যায় ততক্ষণ ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো। নিলয়ের সেই চলে যাওয়া আর পেছন ফিরে আকিয়ে থাকা ফারিয়া কোনো দিন ভুলতে পারবে না। ছোট ছোট স্মৃতি মানুষ অদ্ভুত কারণে আগলে রাখে।

আর আজকে কি অবলীলায় বলে দিতে পারলো , চলে যাও ! নিলয় কে বিয়ে করা নিয়ে বাবা কম কথা শুনিয়েছে । বাবা কিছুতেই রাজি হয় না। কত যুদ্ধ করে তাদের বিয়ে হলো। বিয়ের পর বাবা একদিনও ফারিয়ার বাসায় আসেনি, নিলয়ের বাসা থেকে দুবার দাওয়াত দিয়েছে, বাবা আসেনি। ফারিয়ার কত কষ্ট লেগেছে, কিন্তু কাউকে বলতে পারেনি। নিলয়য়ের সাথে বাবা ঠিক মত কথা বলে না। ফরিয়াদের বাসায় গেলে নিলয় একা বসে থাকে, বাবা কথা বলতে আসে না। মা কত কিছু রাঁধে, টেবিল ভর্তি কত খাবার কিন্তু নিলয় শুকনো মুখে খাবারের সামনে বসে আছে, দেখলেই ফারিয়ার আর কিছু ভালো লাগত না। নিলয় সেজন্য ফারিয়ার বাসায় খুব একটা আসতেও চায় না।

হোটেল রুমে শুয়ে ফারিয়ার কত কথা মনে পড়ে যায়। গতকাল রাতে রাসেলকে বলেছে সকালে বাসের টিকেট করতে। রাসেল শুধু টিকেট না কিনে একটা প্যাকেজ টুর কিনেছে। কক্সবাজার আসা যাওয়ার টিকেট, কক্সবাজার ঘোরা আর হোটেল বুকিং, সব মিলিয়ে ভালই হয়েছে, না হলে আবার হোটেল খুঁজতে হতো। রাসেল সকাল বেলা টিকেট নিয়ে বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিলো।
দুদিন পর ফেরার টিকেট। ফিরে কি করবে ফারিয়া? নিলয়ের কাছে যাবে? ও তো চলে যেতে বলেছে ফারিয়াকে। সারা রাতে একবার সরি বলতে আসেনি, নাক ডেকে ঘুমিয়েছে, ফারিয়া কি করছে ভেবেও দেখেনি। বাবার কাছে যাবে? বাবা বলবে, 'বলেছিলাম না, একে বিয়ে করে তুমি ভালো থাকবে না। পুরুষ মানুষের পাওয়ার হচ্ছে টাকা, টাকা না থাকলে ভালোবাসাও থাকে না, এসব ফ্যান্টাসি থেকে বের হয়ে আসো। '
ফারিয়ার কিছু ভাবতে ভালো লাগছে না, চোখ বুজে থাকতেই ভালো লাগছে।

(৫)

ধরমর করে ঘুম থেকে উঠে নিলয় । খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছে, ফারিয়া একটা পুরোনা ভাঙ্গা ঘরে আটকে আছে, ঘরটা অন্ধকার, কিছু একটা ভয়ংকর আছে ওখানে। ফারিয়া ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না, ভয় পেয়ে ডাকছে 'আমেনা আমেনা , দরজা কোথায়?' কোথাও খট খট একটা আওয়াজ হচ্ছে।
নিলয় ঘড়ি দেখল, ভোর চারটা বাজে। নিলয় ফারিয়ার ফোনে আবার কল করলো, ফোন বন্ধ!
নিলয়ের ভিশন খারাপ লাগতে থাকে। কাল সারাদিন আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাইকে ফোন করেছে। কেউ কিছু জানে না।
কি দরকার ছিলো খাবার নিয়ে ফারিয়ার সাথে এত রাগ করার? নিলয়ের অফিসে এত ঝামেলা চলছে ইদানিং, মেজাজ ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে যায়। রাতে মার বাসায় খেয়ে আসার কথা, সন্ধ্যায় মা জানালো ওরা সবাই বিয়েতে যাচ্ছে, বাসায় থাকবে না। ইদানিং আমেনার উপর ফারিয়া এত ভরসা করে থাকে, একদিন আমেনা না আসলে ফারিয়ার সব কিছু উলট পালট হয়ে যায়। আগে দুজন মিলে রান্না করতো, এখন সেটা হয় না, ফারিয়া কথাই বলতে চায় না, প্রশ্ন করলে হু হা করে জবাব দেয়, পড়ালেখা আর কাজ নিয়ে মহা ব্যস্ত।। সব সময় কম্পিউটারে কাজ করে, মুখে একরাশ বিরক্তি। ফারিয়ার ক্লান্ত গম্ভীর মুখ যেন দুরত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়। ইদানিং ফারিয়াও এত রেগে যায় অল্পতেই। কেন যে এমন হচ্ছে।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ফারিয়াদের বাসায় ছিল। জাহেদ সাহেব অসুস্থ হয়ে গেছেন, একটু পর পর নিলয়কে ধমকাচ্ছেন।নিলয়দের বাসায়ও সবাই চিন্তিত।
নিলয়ের কেমন যেন খালি খালি লাগে।কোনো বিপদ হয়নি তো ফারিয়ার? ও কখনো এমন করে না, সারা রাত কোথায় কি অবস্থায় আছে কে জানে। কোনো বিপদ হয়নি তো? ফোন কেন বন্ধ?
আর ঘুমাতে পারে না নিলয়, বাইরে বের হয়ে যায়। উদ্ভ্রান্তের মত এদিন সেদিক ঘুরে বেড়ায়। অফিস থেকে ফোন আসে, নিলয় ধরে না।
(৬)
ছেলেটা জানি কেমন। একটু পর পর ফারিয়ার দিকে তাকায় । চোখ না, যেন অনুবীক্ষণ যন্ত্র! নিজের বৌকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে, বউ কে সময় না দিয়ে খালি এদিক সেদিক নজর।
একই বাসে এসেছে ওরা। রাস্তায় রেস্টুরেন্টে বাস থেমেছিলো, তখন ওদের সাথে পরিচয় হলো। ফাহিম আর মিলি। মিলি অল্প বয়সী, খুব হাসিখুশি। ঝর ঝর করে কথা বলে, আপু আপু করে অস্থির, যেন কত দিনের চেনা। আর ফাহিম খালি চোরা দৃষ্টিতে ফারিয়াকে দেখে!
আজকে সারাদিন একটা মিনিবাসে ওদের ঘোরানো হয়েছে। কেউ কাপল, কেউ বন্ধুদের সাথে গ্রুপে বেড়াতে এসেছে। শুধু ফারিয়া একা।
সাগর পারে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো নিলয়কে একটা ফোন করা উচিত। সবাই কি ফারিয়াকে নিয়ে খুব চিন্তা করছে? নাহ, থাক। নিলয় নিশ্চই খুব রেগে আছে, ফোন ধরেই বকা শুরু করবে। ঢাকা ফিরে যা হয় হবে ।
'এই যে, আপনাকেই খুঁজছিলাম। কোথায় হারিয়ে গেলেন।' ফাহিম হাসি হাসি মুখে এগিয়ে আসছে।
'এই তো হাঁটছিলাম। '
'আচ্ছা, বলেন তো , আপনার মতো এত সুন্দর একটা মেয়ে সাগর পাড়ে একা একা কেন? কি যেন একটা রহস্য আছে মনে হচ্ছে।'
'আপনিও তো বউ কে ফেলে একা একা এখানে চলে এসেছেন , সেটার রহস্য কি?
'আসলে মিলি সারাদিন ঘুরে টায়ার্ড, একটু পর সূর্যাস্ত দেখবে। তাই ওই যে, ওইখানে বসে আছে। আর আমি এদিকে আসলাম, আপনাকে একটা গিফট দিতে।'
'আমাকে গিফট? কেন?'
'আরে আমি না, মিলি কিনেছে, ওই কে , বার্মিজ মার্কেটে একটা নেকলেস দেখে পছন্দ করলেন, মিলি ঠিকই খেয়াল করেছে, আপনার জন্য কিনলো।'
'ওহ, সো নাইস অফ হার। থাঙ্কস।'
নেকলেস হাতে নিলো ফারিয়া, ফাহিম যেন ইচ্ছা করেই ফারিয়ার হাতটা একটু ছুঁয়ে দিল।
ফাহিমকে এড়িয়ে হোটেল রুমে ফিরে আসতে চাইল, কিন্তু ফাহিম ওর সাথেই হেঁটে আসতে লাগলো।
একটু সামনে গিয়েই মিলির সাথে দেখা। মিলি ফারিয়া দেখেই দৌড়ে আসল, 'আপু, দেখেন , আপনি আমাদের যে ছবি গুলা তুলেছেন, কি সুন্দর হয়েছে। আমি এখনি ফেসবুকে দিব। '
মিলি তার ফোন এগিয়ে ছবি গুলো দেখাতে থাকে ফারিয়াকে। কেমন মায়া লাগে মেয়েটার জন্য।
'আপু, আসেন একসাথে সূর্য ডুবা দেখি। ফাহিম , গলা শুকিয়ে আসছে, প্লিজ একটু ঠান্ডা কিছু এনে দাও।'
ফারিয়া আর মিলি সাগর পাড়ে বসে থাকে। মিলি তখন মুগ্ধ হয়ে ফোনে ফাহিমের সাথে তোলা ছবিগুলো দেখছে।
'মিলি নেকলেসের জন্য থাঙ্কস। '
'কোন নেকলেস?' মিলি খুব অবাক হয়।
'তুমি বার্মিস মার্কেট থেকে আমার জন্য কিনেছো , ফাহিম দিলো। '
মিলি নির্বিকার ভাবে বলে 'আমি কিনি নাই, ফাহিম কিনেছে মনে হয় আপনার জন্য।'
মিলি চুপ করে সামনে সুর্য ডুবা দেখে। ফারিয়ার ভিশন অস্বস্তি হয়।
'আপু, আপনি কিছু মনে করবেন না, ফাহিম এরকমই। সব মানুষ কি এক রকম হয় বলেন।'
'তোমার খারাপ লাগে না?'
'ওর ভালো লাগে, ও আনন্দ পায়, পাক। আমি মন খারাপ করি না। আমার ভালবাসা এত বেশি, তার সামনে এসব তুচ্ছ। একদিন ফাহিম সেটা বুঝবে। সেদিন শুধু আমাকেই ভালবাসবে।' মিলি চোখ মোছে।
' আপু, আপনি চলে যান, আমি ফাহিমকে নিয়ে এখানে একা একা কিছুক্ষণ বসবো।'
ফারিয়া উঠে আসে, আহারে বাচ্চা মেয়েটা। বুকে কত ভালবাসা একজন ভুল মানুষের জন্য।
ফারিয়া হোটেলে ঢোকার আগে একটা ডাস্টবিনে নেকলেসটা ফেলে দেয়।

(৭)

দুই দিন হয়ে গেছে। ফারিয়ার খোঁজ নেই। ফারিয়ার বাবা বেশ অসুস্থ। তার ব্লাড প্রেসার হাই। কারো সাথে কথা বলছেন না, কিছু খাচ্ছেন না।
নিলয় অপরাধীর মত বসার ঘরে বসে আছে। নিলয়ের বাবা মা ভাই ভাবি ফরিয়াদের বাসা এসেছেন বিকেলে। নিলয়ের বাসার সবাই এর আগে একবারই এসেছিলেন, ফারিয়ার বাবার শীতল আচরণে তারা খুবই অস্বস্তিতে ছিলেন। এইবার সেরকম লাগছে না তাদের।

নিলয়ের মা একগাদা খাবার দাবার নিয়ে এসেছেন। ফারিয়ার চাচা খালা সবাই চলে এসেছেন, সবাই জটলা বেধে চা নাশতা করছে, নিলয়ের ভাই ভাবি ছুটা ছুটি করে চায়ের আয়োজন করছে, খাবার দাবার দিচ্ছেন। যেন উৎসব চলছে। নিলয়ের মা সায়মাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন।
নিলয় উঠে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ায়, সারাদিন ছুটাছুটি, পুলিশের কাছে যাওয়া, গত রাতে ঘুম না হবার জন্য সে খুবই ক্লান্ত। দু মিনিট পর পর ফারিয়ার ফোনে কল করছে , কোনো লাভ হচ্ছে না।

রাসেল কখন পিছনে এসে দাড়িয়েছে নিলয় টের পায়নি। রাসেল ফারিয়ার ছোট খালার ছেলে।

'কিছু বলবে রাসেল?'

'হু, একটু কথা ছিল ভাইয়া।'

(৮)
আজকের পরিকল্পনা হচ্ছে সারাদিন ঘুরে বেড়ানো। আগামীকাল সকালে ফিরতি বাস। ফারিয়ার একটু অস্থির লাগছে, ঢাকায় ফিরে কি করা উচিত ভেবে পাচ্ছে না। তার বাসায় সবাই নিশ্চই খুব চিন্তায় আছে। আজকে কি মাকে একবার ফোন করা উচিত?
ফারিয়ার ঘুম হয়না তেমন। খুব ভোরে উঠে সময় নিয়ে রেডি হয়ে নেয়। হোটেল লবিতে এসে বসে। সকাল সাতটায় ব্রেকফাস্ট দেবে। এখনো কিছুটা সময় আছে। হোটেলের সামনে খুব সুন্দর হাঁটার জায়গা, একটু হাটাহাটি করে মনটাকে শান্ত করা যাবে হয়তো।
লবিতে গিয়ে দেখে মাহবুব সাহেব বসে আছে বিরক্ত মুখে। মাহবুব সাহেব আর তার স্ত্রী রাবেয়া ছেলে মেয়েদের চাপাচাপিতে বেড়াতে এসেছেন। গত দুদিন একসাথে ঘোরাঘুরিতে এই দুজনের সাথে খুব আলাপ হয়েছে।
'কি ব্যাপার আঙ্কেল, এত সকালে এখানে?'
'আর বোলো না, তোমার আন্টির শরীর খারাপ লাগছে, আজকে ঘুরতে যেতে পারবে না, দেখো তো। আমাকে বলছে একা একা ঘুরে আসতে। ছেলে মেয়েরা পয়সা খরচ করে পাঠিয়েছে ঘুরতে, না ঘুরলে পয়সা মাটি।'


'কিন্তু আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে আপনার ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে না, আপনি বরং আজকে সারাদিন আন্টির সাথে হোটেলেই থাকেন, হয়ত তাতে আন্টির ভালো লাগবে, আপনারও একা একা ঘুরতে হবে না।'
মাহবুব সাহেব একটু হেসে তাকান ফারিয়ার দিকে 'তোমার চেহারা দেখেও তো মনে হচ্ছে ঘুরতে তোমার ভালো লাগছে না, তাও ঘুরছ। কেন বল তো মা?'
ফারিয়া চমকে উঠে।
'কারো উপর রাগ থাকলে ঝেড়ে ফেলো। লাইফ অনেক ছোট মা, আমাদের উচিত রাগ দুঃখ ফেলে ভালো ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা, তা না হলে পরে অনেক দেরী হয়ে যায়। আমাদের মত বয়সে আসলে মনে হবে অযথা নিজেকে কত কষ্ট দিয়েছি।'
মাহবুব সাহেব একটু থামেন 'তোমার কথাই ঠিক, আজকে আমি ঘুরতে না যাই বরং আজকে তোমার আন্টির সাথেই থাকি। আমাদের জীবনে হয়ত আর একসাথে বেড়ানোর সুযোগ হবেও না। '
মাহবুব সাহেব উঠে যান। ফারিয়া কি একটা ভেবে ফোন অন করে, নিলয়কে ফোন করে। আগে মজার একটা খেলা খেলত , ফোন করে ঠিক তিনটা রিং হওয়ার মধ্যে নিলয় ফোন না ধরলে বুঝতে হবে নিলয় তাকে ভালবাসে না। কখনো এমন হয়নি যে নিলয় তিনটা রিঙের মধ্যে ফোন ধরেনি।
নিলয়ের ফোন রিং হচ্ছে। মনে হচ্ছে খুব কাছেই ফোন বাজছে। ফারিয়া ফোনের রিঙের শব্দের দিকে এগিয়ে গিয়ে অবাক হয়ে দেখে লবির আরেক দিকে দাঁড়িয়ে আছে নিলয়!
ফারিয়া হা করে তাকিয়ে থাকে। নিলয় প্রচন্ড বিদ্ধস্ত, মুখ শুকিয়ে আছে। ফারিয়া সব রাগ ভুলে যায়, খুব মায়া লাগে নিলয়ের জন্য।
'তুমি এখানে কি করছ?'
'তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি।'
ফারিয়ার চোখে পানি চলে আসে।
'আমি খুবই সরি ফারিয়া। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি খুবই সরি, সরি সরি সরি। দেখো, আমি আর এমন করব না। এই দেখো কান ধরছি। আমার শিক্ষা হয়ে গেছে।'
'থাক এখন এসব করতে হবে না। সবাই তাকাচ্ছে, কি করছো?'
নিলয় এগিয়ে এসে ফারিয়ার হাত ধরে।
'আমি এখানে, কে বলল তোমাকে?'
'রাসেল বলেছে। আচ্ছা শোনো ,তুমি নাকি ওকে বলেছ তুমি কোথায় সেটা কাউকে বললে ও যে লুকিয়ে শিমুকে বিয়ে করেছে সেই খবর সবাইকে ফাঁস করে দিবে? তুমি কিন্তু সেটা করবে না। ও যদি আমাকে তোমার খবর না জানাতো, আমার হার্ট এটাক করত!'

(৯)

মনোয়ার সাহেব রাবেয়াকে নিয়ে লবিতে এসেছেন, ব্রেকফাস্ট করতে। এসে দেখেন লবিতে একটা অচেনা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ফারিয়া কাঁদছে!
'দেখেছো তোমাকে বলেছিলাম তা , হাসব্যান্ডের সাথে রাগ করে ময়েটা এখানে এসেছে? দেখেছ, আমার কথাই ঠিক। হাসব্যান্ড ঠিকই ওকে নিতে এসেছে। আমার কথা তো তোমার ঠিক মনে হয় না। '
'তোমার কথা কখনো ভুল হতে পারে? তুমি সবসময় ঠিক কথাই বল, যত ভুল সব আমার। ' হাসতে হাসতে বলেন মাহবুব সাহেব।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন