বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

প্রিয় কবি তাঁরা, প্রিয় কবিতারা/ ছয়

  • জীবনানন্দ দাশ পরবর্তী বরিশালের কবিদের মধ্যে বরাবরই আমি জীবনানন্দের ছায়া দেখতে পেয়েছি। জীবনানন্দকে এড়ানো বোধ করি আমাদের পক্ষে খুব কঠিন। এ সময়ের বরিশালের কবিদের মধ্যে আমার প্রিয় কয়েকজন তরুণ কবি- কাশেম নবী, তুহীন দাস, সানাউল্লাহ সাগর। জীবনানন্দীয় দুর্বোধ্য আবহ প্রথম দুজনকে খুব ভালভাবেই ছুঁয়েছে। সানাউল্লাহ সাগর তুলনামূলক সহজবোধ্য। সত্যি বলতে কি হেনরী স্বপনদের সময়ে বরিশালের কবিতা আমাকে কবিতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে খুব বড় একটা ভূমিকা রেখেছিল। নাসির আহমেদ-দের মত দুএকজন কবি এক আধটু ভরসা জোগালেও সার্বিকভাবে বরিশালের কবিতা ছিল মোটামুটি আতঙ্কের মত। কিন্তু হঠাৎ করে কবিতায় ফিরে আসার পরে যে দু একজনের কবিতা তীব্র ভাললাগায় ডুবিয়েছে তাদের মধ্যে আবুল বাসার সেরনিয়াবাদের নাম উল্লেখ করতেই হবে। কিন্তু কবিতাকে ভালবাসার পরে কীভাবে যেন এইসব দুর্বোধ্য কবিতাগুলোই হঠাৎ করে আমার কাছে অন্য রূপ, অন্য মাত্রা নিয়ে উপস্থিত হয়। যাদের নাম বললাম তাঁরা সবাই আমার প্রিয় কবি এবং অবশ্যই এই সিরিজটিতে তাঁদের সবার কবিতাই একে একে উঠে আসবে। কবিতার দুর্বোধ্যতা কিংবা সুবোধ্যতা কোনটা নিয়েই আগের মত আমার অভিযোগ নেই- যদিও একসময় আমি দুর্বোধ্য কবিতার কড়া সমালোচক ছিলাম।

     

    যখন আবিস্কার করলাম দুর্বোধ্যতা কিংবা সুবোধ্যতা কতখানি আপেক্ষিক তখন থেকেই এই বিবর্তনের সূচনা। এই গল্পকবিতায়ই কবিতা লিখে মন্তব্যে একজন একই কবিতাকে সহজবোধ্যতার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন এবং সেই কবিতাকেই অন্য একজন দুর্বোধ্যতার দায়ে ফাঁসি দিয়েছেন। বলা যায় কবিতা এবং কবিতার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে এ এক দারুণ ধাঁধাঁ। একজনের কাছে যা খুবই সহজবোধ্য অন্য আরেকজনের কাছে সেটাই কি কঠিন রকম দুর্বোধ্য। তাদেরকেই বা কি বলব- একটা সময়ে 'বনলতা সেন' আমার কাছে কি কঠিন রকম দুর্বোধ্যই না ছিল। আবার আজ সেই কবিতাই কত সহজ! তবে তারপরও বলতে হচ্ছে চতুর্মাত্রিক ব্লগে 'বনলতা সেন'এর নানান ব্যাখ্যা পড়ে এত সহজ একটা কবিতাও আমাকে কি জটিলতার ফাঁদেই না নতুন করে ফেলে দিল। আল মাহমুদের সোনালী কাবিন আমার প্রিয় কবিতাগুচ্ছের আর একটি। এত প্রিয় যে ১৪ গুণন ১৪= ১৯৬ লাইনের সেই কবিতাটি আমার পুরো মুখস্থ। অথচ একটা কবিতা আড্ডায় সেই কবিতাটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শোনার পরে বুঝলাম কবিতা বোঝার কত বাকি পড়ে আছে আমার। সুতরাং শুধু যে কবিতা সহজ দুর্বোধ্য এটুকুই আপেক্ষিক তাই নয় একটা আপাত সহজ কবিতাও আসলে বোঝার জন্য অত্যন্ত আপেক্ষিক। সে যাক অনেকদিন পর গল্পকবিতায় ঢুকে দেখলাম এশরার লতিফের পোষ্ট করা আবুল হাসানের দুটো কবিতা নিয়ে ছোটখাট একটা আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। সে তর্ক নিয়ে তাই সঙ্গত কারণেই আমার নতুন কোন বক্তব্য নেই। আবুল হাসানও তো বরিশালেরই কবি। তবু আমার প্রিয় একজন কবির লেখা পেয়ে খুবই ভাল লাগল। তাই কবি আবুল হাসানের অন্য একটি বিখ্যাত এবং আমার প্রিয় একটা কবিতা আমিও পোষ্ট করলাম।

     

    অপরূপ বাগান

    আবুল হাসান

     

    চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবো
    আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।
    জল নেমে গেলে ডাঙ্গা ধরে রাখে খড়কুটো, শালুকের ফুল :
    নদীর প্রবাহপলি, হয়তো জন্মের বীজ, অলঙ্কার- অনড় শামুক !

    তুমি নেমে গেলে এই বক্ষতলে সমস্ত কি সত্যিই ফুরোবে ?
    মুখের ভিতরে এই মলিন দাঁতের পংক্তি- তা হলে এ চোখ
    মাথার খুলির নীচে নরোম নির্জন এক অবিনাশী ফুল :
    আমার আঙ্গুলগুলি, আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি, অভিলাষগুলি ?

    জানি কিছু চিরকাল ভাস্বর উজ্জ্বল থাকে, চির অমলিন !
    তুমি চলে গেলে তবু থাকবে আমার তুমি, চিরায়ত তুমি !

    অনুপস্থিতি হবে আমার একলা ঘর, আমার বসতি !

    ফিরে যাবো সংগোপনে, জানবে না, চিনবে না কেউ;
    উঠানে জন্মাবো কিছু হাহাকার, অনিদ্রার গান-

    আর লোকে দেখে ভাববে- বিরহবাগান ঐ উঠানে তো বেশ মানিয়েছে !
       
  • কনিকা রহমান
    কনিকা রহমান কবিতাটি কিছুদিন আগে পড়লাম - এর আগে পড়া হয়নি .... এই সাইট-এ আবার পড়ে ভালো লাগলো ...
    প্রত্যুত্তর . ১৩ জানুয়ারী, ২০১৩
  • তানি হক
    তানি হক ওহ কি অসাধারণ এই বিরহবাগান ... সত্যি চোখে পানি আসার মতো আবেগ ছুঁয়ে গেলো ।। ধন্যবাদ কবি আবুল হাসান ... ধন্যবাদ কবি পান্না ভাই !
    প্রত্যুত্তর . ৪ আগস্ট, ২০১৩
  • মইনুল হক
    মইনুল হক লেখার হাত খুবই ভাল ।
    প্রত্যুত্তর . ৩১ আগস্ট, ২০১৬